Translate Site

Monday, January 18, 2021

Website / ওয়েবসাইট তৈরি করার আগে যে বিষয়গুলো অব্যশ্যই জানা থাকা প্রয়োজন।

বর্তমান বিশ্বায়নের এইযুগে সবকিছু হয়ে যাচ্ছে অনলাইনমুখী। ব্যাক্তি থেকে শুরু করে সামাজিক, রাষ্টীয় সব কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পিছনে থাকছে ইন্টারনেটের এক বিশাল অবদান। আর এমন একটা যুগে নিজের ব্যাক্তিগত বা ব্যাবসায়িক কোন অনলাইন পরিচিতি থাকবে না তা কি আর হয়? হ্যা সবার হয়ত কমবেশি ফেসবুকে বা অনন্যা সামাজিক মাধ্যমে নিজের একটা স্টাটাস আছে। 

 


কিন্তু সেখানে রয়েছে অনেক সীমাবদ্বতা।সেখানে আমরা নিজেকে বা নিজের ব্যাবশাকে ঠিক নিজেরদের মতো করে উপস্থাপন করতে পারি না। তাদের বেধে দেওয়া ডিজাইন আর সীমাবদ্বতার ভিতরেই থাকতে হয়।এতে কী আর পরিপূর্নতা আসে?না ,আসে না। তাই যারা নিজেকে বা নিজের ব্যবসায়ে ইন্টারনেটের দুনিয়ায় নিজের মতো করে প্রকাশ বা প্রচারনার জন্য একটি ওয়েবসাইট করার কথা ভাবছেন তাদের জন্যও আজকের এই বিশেষ আর্টিকেলটি।

ওয়েবসাইটঃ

মুলত দুইভাবে করা যায়।ফ্রি আর পেইড।ফ্রিতে করতে চাইলে আপনি blogspot.com,wordpress.com এ গিয়ে ফেসবুকের মতো করে নিজস্ব একটা প্রোফাইল করতে পারবেন মাত্র। ফ্রি জিনিসের বা পন্যের ভবিষ্যত কী…সেটা আশা করি কারোরই আজানা নয়।একটা জিনিস মনে রাখবেন…আপনার ওয়েবসাইট কিন্তু ১/২ দিন এর জন্য নয়,সারাজীবনের জন্য।তাই ফ্রীর প্রসঙ্গ এখানেই শেষ করছি। আর যদি চান,আকর্ষনীয় ডিজাইন ও পরিপূর্ন তথ্যে দিয়ে সুন্দর একটি কাঠামো গঠন করতে তাহলে আপনাকে অবশ্যই পেইড বা টাকা দিয়ে ওয়েবসাইট করার দিকেই যেতে হবে।আর এজন্য দরকার ডোমেইন আর হোস্টিং।এখানেই যত ঝামেলা।সঠিক ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন ও হোস্টিং ঠিক করতে না পারার কারনে  অনেকেই বিশেষকরে নতুনরা ওয়েবসাইটের ১২টা বাজিয়ে ফেলে।

আর যাদের ডোমেইন/হোস্টিং নিয়ে ধারনা নেই তাদের জন্য ছোট্ট করে বলছি-

ডোমেইনঃ

সহজকথায় আপনার ওয়েবসাইটের এড্রেস বা ঠিকানাই হলো আপনার ওয়েবসাইটের ডোমেইন।যেমনঃফেসবুকের ডোমেইন হলো facebook.com।ডোমেইন টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় ও প্রতিবছর ভাড়া দিতে হয়।

ডোমেইন কই পাবো

আমাদের দেশে অনেক ডোমেইন প্রোভাইডার আছে যেখানে আপনি প্রায় ৮০০ টাকা হলেই একটি টপ লেভেলের ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।এটা রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ।পরবর্তী বছর থেকে আপনাকে প্রতিবছর ৮০০ টাকা করে ভাড়া দিতে হবে।

সতর্কতাঃ

অনেক ভুয়া বা প্রতারক প্রতিষ্ঠান আছে,যারা আপনাকে ফ্রি বা ২০০/৩০০/৫০০ টাকায় ডোমেইন দেওয়ার কথা বলবে……এদের থেকে সর্বদা সাবধান থাকবেন। এরা ১ম বছর আপানাকে বিভিন্ন অফার দিয়ে লোভ দেখিয়ে ডোমেইন কিনাবে ,কিন্তু পরের বছর থেকে সেই আপনার কাছ থেকেই টাকাগুলো উঠিয়ে নিবে।তখন ওয়েবসাইট বাচাতে তাদের চাওয়া পূরন করতে আপনি বাধ্য থাকবেন। নতুবা আপনার ওয়েবসাইট শেষ।তাই…টাকা একটু বেশী লাগলেও যাদের কোন হিডেন-ফি তাদের কাছ থেকে কিনুন। আপনার ওয়েবসাইট কিন্তু সারাজীবনের,১/২ দিনের জন্য না।

এবার হোস্টিং নিয়ে আলোচনা করা যাকঃ

হোস্টিংঃ ধরুন আপনি একটি বাড়ি করবেন। এজন্য আপনার দরকার একটি জায়গা নির্বাচন করা। ধরা যাক ,আপনি ঢাকাতে ২ একর জায়গার উপ বাড়িটি করবেন। তাহলে, ঢাকা হলো আপনার ডোমেইন বা ওয়েবসাইটের এড্রেস আর ২ একর পরিমানটা হলো আপনার হোস্টিং।

হোস্টিং কই পাবোঃ

যারা ডোমেইন সেল করে তাদেরকাছেই আপনি হোস্টিং পাবেন।তবে এক্ষেত্রেও প্রতারক থেকে সদা-সাবধান থাকবেন।টাকা একটু বেশি লাগে লাগুক।

দাম কেমনঃ

এটা নির্ভর করবে আপনি কত GB হোস্টিং চাচ্ছেন তার উপর।যদি ব্যাক্তিগত ওয়েবসাইট করেন তাহলে সবমিলিয়ে ২ GB হোস্টিংই যথেস্ট ও এটাই পারফেক্ট। আর 2 GB হোস্টিং এর মুল্য প্রায় ১৪০০ টাকা।আবার যদি ব্যবশায়িক ওয়েবসাইট করেন তাহলে নজর দিতে হবে ১০ GB বা তারও উপরে( ব্যবশায়ের আকারের উপর নির্ভরশীল)। এটার দাম পরবে আপনার প্রায় ২৩০০-৫০০০ টাকা।মানে যে যেমন লাভ করে আর-কী।কেউ একটু বেশী লাভ করে আবার কেউ কম।তবে এক্ষেত্রে নজর রাখতে পারেন-অনেক কোম্পানি মার্কেটিং করার জন্য অনেক কম লাভে হোস্টিং দিয়ে থাকে তাদের উপর।

 

চেস্টা করবেন একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই ডোমেইন ও হোস্টিং নেওয়ার জন্য।তাহলে ওরাই সব সেটিংস করে দিবে

আবার অনেক কোম্পানি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধাও দিয়ে থাকে।এতে করে পরবর্তীতে তাদের কাস্টমার সাপ্লাই দিয়ে ভালো পরিমান আয়ও করতে পাড়েন

হোস্টিং কেনার আগে যে বিষয়গুলো মনে থাকা চাইঃ

লোডিং স্পিডঃ

ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড অব্যশ্যই হাই থাকতে হবে।তা না হলে পড়তে হবে নান বিড়ম্ভনায় গুগল থেকে পেনাল্টিও খেতে পাড়েন।হোস্টিং প্রভাইডারের সাথে কথা বলে জেনে নিন কী-রকম লোডীং স্পিড তারা দিবে।

ব্যান্ডউইথঃ

আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর নির্ভর করবে আপানার ব্যান্ডউইথ এর উপর।যদি বেশী ব্যান্ডউইথ কিনেন তাহলে বেশী ভিজিটর আসতে পারবে আর কম ব্যান্ডউইথ কিনলে একটা সীমাবদ্বতা থাকবে।তাই যারা আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ দেয় তাদের কাছ থেকে কিনার চেস্টা করুন

আপটাইমঃ

অব্যশ্যই ৯৯.৯৯% থাকতে হবে।আর সচরাচর সবাই ৯৯.৯৯% দেয়

মানিব্যাক গ্যারান্টি-

মানিব্যাক গ্যারান্টি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। অনেক কোম্পানিই ৩০ দিনের মানিব্যাক গ্যারান্টি দিয়ে থাকে। কেনার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন কোম্পানি মানিব্যাক গ্যারান্টি দিচ্ছে কিনা।

৫)সাপোর্টঃ

অব্যশ্যই ২৪ ঘন্টা লাইভ -সাপোর্ট যারা দিবে তাদের কাছ থেকে কিনুন।এটা খুব গুরুত্বপুর্ন

৬ কন্ট্রোল প্যানেল-

আপনার ওয়েব সাইট ম্যানেজ করার জন্য কন্ট্রোল প্যানেল প্রয়োজন। কন্ট্রোল প্যানেলের সাহায্যে আপনি আপনার ওয়েব সাইট সহজেই ম্যানেজ করতে পারেন। ওয়েব হোস্টিং এ সব চেয়ে সহজ এবং অধিক ফিচার সমৃদ্ধ কন্ট্রোল প্যানেল হচ্ছে সিপ্যানেল। তাই সবসময় সিপ্যানেল হোস্টিং নেয়ার কথা চিন্তা করুন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং

আমারতো বাজেট কম? ভাই কমের ভিতর ভালো কেমনে পাবো।কমের মধ্যে ভালো পাবেন না। তবে আপনি ১৩০০/১৪০০ টাকায় কিনে খুব তাড়াতাড়ি সেটার দাম উঠিয়ে নিতে পারবেন। শুধু দামই না আপনার নিয়মিত একটা ইনকামের ব্যবস্থা করতে পারবেন। কেমনে?কেনার আগে খুজ নিন কোম্পানিটি এফিলিয়েট সুবিধা দেয় কিনা। যদি দেয় তাহলে পরবর্তীতে তাদেরকে কাস্টমার সাপ্লাই দিয়ে আপনি একটা ভালো এমাউন্ট আয় করতে পারবেন।

৭) সার্ভার লোড-

সাভার ওভার লোড কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিন কোম্পানির সাপোর্টে কথা বলে

SSD ও HSD:আপনার হোস্টিং অব্যশ্যই SSD হতে হবে। সাপোর্টে কথা বলে জেনে নিন তারা SSD না HSD প্রোভাইড করছে।

তাছাড়াও ইমেইল,দৈনিক ব্যাকাপ, personal client support, virus protection ইত্যাদি বিষয়গুলোও অনেক বিবেচনা করবেন।

শুধু তিনটি জিনিস মাথায় রাখবেন-

১)স্পেস

২)ব্যান্ডউয়িথ

৩)প্রোগ্রামিং সাপোর্ট

এই সহজ তিনটি বিষয় বিবেচনা করে সহজেই আপনি চিনে নিতে পারবেন সেরা হোস্টিং প্রোভাইডারদের।

ধন্যবাদ


## আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।
## ক্রয়, বিক্রয়, ভাড়া, অদল-বদল, দান করার জন্য ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।
## ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে চাইলে ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন। 

 

Sunday, January 17, 2021

মোজা পড়লেই পায়ে দুর্গন্ধ? রেহাই পাবেন এই প্রাকৃতিক উপাদানে।

 


মোজা পড়লে পায়ে অনেকের গন্ধ হয়। এমনই দুর্গন্ধ হয় যে ঘরের মানুষগুলোর টেঁকা দায় হয়ে যায়। কিন্তু শীতকালে মোজা পড়তে বাধ্য হন অনেকেই।

১) নুন জল: সারাদিনের কাজের পর বাড়ি ফিরে গরম জলে নুন দিয়ে পা চুবিয়ে খানিকক্ষণ বসে থাকুন। ১৫ মিনিট এমন থাকার পর ব্রাশ দিয়ে পা ভালো করে পরিষ্কার করে নিন।

২) খাবার সোডা: গরম জলের মধ্যে খাবার সোডা মিশিয়ে পা চুবিয়ে খানিকক্ষণ বসে থাকুন। কিছুক্ষণ পরেই পা ভালো করে তোয়ালে দিয়ে মুছে নিন।

৩) বাড়ি ফিরে ক্লান্ত হয়ে গরম জলের মধ্যে শ্যাম্পু ফেলে ভালো করে পা পরিষ্কার করে নিন। এতে পা অনেক পরিষ্কার থাকে।

৪) সর্বোপরি রাতে শুতে যাওয়ার সময় পা ভালো করে পরিষ্কার করে নিয়ে লেবু এবং গ্লিসারিন পায়ের তলায় ভালো করে ঘষে নিন। এতে পা ফেটে যাওয়ার সমস্যা থাকলে তার থেকেও উপকার পাবেন এবং পায়ের দুর্গন্ধ অনেকটা কমে যাবে।

আরও পড়ুনঃ শীতে ত্বকের যত্ন নিতে Petroleum Jelly / পেট্রোলিয়াম জেলি এর নানা ব্যবহার।

তবে সবার আগে কতগুলো কথা মাথায় রাখতে হবে। শরীরের দুর্গন্ধ হওয়ার প্রথম কারণ হচ্ছে জল কম খাওয়া। শীতকালে আমরা প্রত্যেকেই জল কম খাই। কিন্তু নিয়মিত অন্তত ৩ লিটার জল খেতে হবে। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। জাঙ্ক ফুড, বাইরের খাবার, পিঁয়াজ, রসুন দেওয়া খাবার অত্যধিক পরিমাণে খাওয়া চলবেনা। পেট ঠান্ডা হয় এমন খাবার খেতে হবে। খাদ্যের তালিকা টমেটো, লেবু, টক দই ইত্যাদি রাখতে হবে। সুতির মোজা পরার চেষ্টা করুন। মোজা সব সময় কাচা পড়তে চেষ্টা করবেন। প্রথমে পায়ে ভালো করে পাউডার লাগিয়ে তারপর মোজা পড়ে জুতো পড়ে ফেলুন। তাহলে আর পায়ে গন্ধ থাকবে না।

ধন্যবাদ


## আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।
## ক্রয়, বিক্রয়, ভাড়া, অদল-বদল, দান করার জন্য ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।
## ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে চাইলে ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন। 

 

Facebook-এ এই ১০টি জিনিস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

Facebook-এ এই ১০টি জিনিস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

 

Slide 1 - আপনি কি Facebook-এ এই ১০টি জিনিস ব্যবহার করেন? সাবধান, হতে পারে বিপদ

ফেসবুকে এই সময়ের যত সোশাল মিডিয়া অ্যাপ আছে তার মধ্যে অন্যতম। আমরা আমাদের অনেকটা সময় বা অনেক সময়ে কাজের মাঝে ফেসবুক দেখে থাকি। আর এমন অনেক কিছুই না জেনে করে ফেলি যা করা উচিৎ না। যা একাধিক বিপদ ডেকে আনতে পারে। আর আজকে আমরা এখানে আপনাদের বলব যে কোন কোন জিনিস ফেসবুকে করা উচিৎ না।

Slide 2 - আপনি কি Facebook-এ এই ১০টি জিনিস ব্যবহার করেন? সাবধান, হতে পারে বিপদ

আপনার ফেসবুক অ্যাকান্ট থেকে আপনার বাচ্চাদের দূরে রাখাই ভাল। আর যদি কখনও ফ্যামিলি ফটো পোস্ট করেন তবে সেখানে দেখতে হবে যে সেই ছবিতে বা কোথাও যেন বেশি ডিটেল না থাকে। এর মধ্যে আপনার বাচ্চা কি খাচ্ছে, তাদের স্কুলের বিষয়, সময় ইত্যাদি। হ্যাকার আর খারাপ ব্যাক্তিরা সব সময়ে এই ধরনের ব্যাক্তিগত তথ্য জানার চেষ্টা করে।

Slide 3 - আপনি কি Facebook-এ এই ১০টি জিনিস ব্যবহার করেন? সাবধান, হতে পারে বিপদ

সোশাল মিডিয়াতে খুব বেশি কিছু দিলে আপনার মনে হতে পারে যে আপনার প্রতিদিনের কাজ ফেসবুক না করলে সেখানে কোন পোস্ট না করলে অসম্পূর্ণ থাকে। যখন আপনি ফেসবুকে কিছু পোস্ট করছেন তখন আপনার বন্ধুদের কমেন্ট বা লাইক আশা করেন। এই পোস্ট করা আর কমেন্ট বা লাইক আপনার ভাল লাগলেও বাস্তবে তা নাও হতে পারে বিশেষত তখন যখন আপনি সঠিক জিনিস দিয়ে অ্যাট্রাক্ট করতে পারছেন না। এটি আপনাদের আনন্দ ইত্যাদি পোস্ট করার ব্যাপার হলেও এখানে অনেক সময়ে অনেক বন্ধু বা কাছের মানুষের ইগনোরেনআশ আর তাদের ইগনোর ও দেখা যায়। আর তা আপনি নিশ্চয়ই নিজের জন্য চাইবেন না। এই ধরনের একাধিক সিচুয়েশান এরানোর জন্য আপনার উচিৎ সব দেখে শুনে আর বুঝেই পোস্ট করা না হলে এও আপনারা এক ভুল হয়ে থেকে যাবে।

Slide 4 - আপনি কি Facebook-এ এই ১০টি জিনিস ব্যবহার করেন? সাবধান, হতে পারে বিপদ

আপনি যখন ফেসবুকে কিছু পোস্ট করছেন তখন সেখানে ব্যাক্তিগত তথ্য রিভিউ করা দরকার পোস্ট বটন ক্লিক করার আগে সেই পোস্টটি ভাল করে দেখে এডিট করা উচিৎ। আপনি বাড়ির লোক, কাছের মানুষ বা বন্ধুদের সঙ্গে ব্যাক্তিগত যে সময় কাটাচ্ছেন বা কিছু তা কখনও ইন্টারনেটে পোস্ট করা উচিৎ না। কোন কিছু অন্ধের মতন পোস্ট করার আগে ভাবুন।

Slide 5 - আপনি কি Facebook-এ এই ১০টি জিনিস ব্যবহার করেন? সাবধান, হতে পারে বিপদ

ড্রিঙ্ক করে যেমন গাড়ি চালানো উচিৎ না তেমনি, একই ভাবে ড্রিঙ্ক করে ফেসবুকে কিছু পোস্ট করা উচিৎ না। ড্রাঙ্ক হয়ে আপনি কিছু পোস্ট করলে বা কোন মেসেজ করলে আপনাকে সেই ব্যাক্তি সোবার বলে মনে করবে না। আর ফেসবুক বা যে কোন সোশাল মিডিয়াতে ড্রিঙ্ক করে বা ড্রাঙ্ক হয়ে কিছু পোস্ট করা সেই ব্যাক্তির জন্য নেগেটিভ জিনিসের বার্তা বহন করে।

Slide 6 - আপনি কি Facebook-এ এই ১০টি জিনিস ব্যবহার করেন? সাবধান, হতে পারে বিপদ

আপনার বন্ধু তালিকায় 600 বা তার বেশি বন্ধু আছে বলে তার মানে এই নয় যে বাস্তবে আপনারা বন্ধু সংখ্যা তত। আর তাই ফেসবুকে যে কোন কাউকে অ্যাড করা বন্ধ করুন। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে আপনারা আপনাদের ব্যাক্তিগত তথ্য দেন আর তা যে কোন র‍্যান্ডাম লোকের কাছে যাওয়া মোটেও ঠিক ব্যাপার না।

Slide 7 - আপনি কি Facebook-এ এই ১০টি জিনিস ব্যবহার করেন? সাবধান, হতে পারে বিপদ

আপনার প্রোফাইলের সব কিছু পাবলিক করে রাখা মোটেও কাজের কথা না। এর মধ্যে আপনারা স্কুল, কলে আর এমন কি আপনার হোম টাউনের বিষয়ে তথ্যও সবার জন্য নয়। আর এর সঙ্গে কোন পোস্ট তাদের জন্যই রাখা উচিৎ যারা সেই পোস্টের সঙ্গে রিলেট করতে পারবেন। আপনার বন্ধু তালিকার সবার সব কিছু দেখার বা জানার দরকার নেই।

Slide 8 - আপনি কি Facebook-এ এই ১০টি জিনিস ব্যবহার করেন? সাবধান, হতে পারে বিপদ

আপনার বাড়ির ঠিকানা, অফসের ঠিকানা আর টাইমিং এই সব ডিটেল ফেসবুকে দেওয়ার উচিৎ না। এমন কি কোন পোস্টেও এই জিনিস করা উচিৎ না। এগুলি আপনাকে যে স্টক করছে তাদের জন্য খুব কাজের হলেও আপনার জন্য তা বিপদ ডেকে আনতে পারে।

Slide 9 - আপনি কি Facebook-এ এই ১০টি জিনিস ব্যবহার করেন? সাবধান, হতে পারে বিপদ

আপনি যদি নতুন গাড়ি কেনেন, বা কিছু জেতেন বা কোন ইভেন্টে কিছু পান সেই সব কিছু আর টাকা জাতীয় তথ্য প্রাইভেট রাখা উচিৎ। এই সব কিছু ফেসবুকে পোস্ট করা মোটে ও কাজের না।

Slide 10 - আপনি কি Facebook-এ এই ১০টি জিনিস ব্যবহার করেন? সাবধান, হতে পারে বিপদ

ফেসবুকে কখনও কাউকে ভার্বালি অ্যাবিউস করবেন না বা খারাপ কিছু বলবেন না। তা করলে সবাই এর স্ক্রিনশট নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে ব্যাবহার করতে পারবে।

Slide 11 - আপনি কি Facebook-এ এই ১০টি জিনিস ব্যবহার করেন? সাবধান, হতে পারে বিপদ

আরও একটি বড় জিনিস হল এই যে ছবি বা পাসপোর্ট, সার্টিফিকেট, ডিগ্রি ইত্যাদির মতন পার্সোনাল ডকুমেন্ট সোশাল মিডিয়াতে পোস্ট করা উচিৎ না। আর আপনার ট্রেন বা ফ্লাইট টিকিট ফেসবুকে পোস্ট করাও খুব বাজে আইডিয়া। কারন এও আপনাকে কেউ স্টক করলে তার জন্য কাজের আর আপনার জন্য...

Slide 12 - আপনি কি Facebook-এ এই ১০টি জিনিস ব্যবহার করেন? সাবধান, হতে পারে বিপদ

ফেসবুকে ছবি ট্যাগ আরও একটি ব্যাপার। সব সময়ে ফেসবুকে কাউকে ট্যাগ করার আগে তা রিভিউ করে নিন।

Slide 13 - আপনি কি Facebook-এ এই ১০টি জিনিস ব্যবহার করেন? সাবধান, হতে পারে বিপদ

আপনার ফেসবুক প্রোফাইল সময় নিয়ে চেক করুন আর দেখুন যে এর মধ্যে কি আর কোন বন্ধু সত্যি আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা দরকার। আপনি যদি এখানে এমন কেউ থাকে যার সঙ্গে কথা বলেনই না বা তাদের কোন পোস্ট লাইক করেন না তবে তাদের বন্ধুতালিকায় রাখার কোন মানে হয় না। সব সময়ে এক্সট্রা জিনিস ক্লিয়ার করে দেওয়াই ভাল। 

ধন্যবাদ


## আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।
## ক্রয়, বিক্রয়, ভাড়া, অদল-বদল, দান করার জন্য ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।
## ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে চাইলে ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন। 

Saturday, January 16, 2021

অনলাইনে Photgraph / ছবি বিক্রি করে টাকা আয় করার উপায়।

ফটোগ্রাফি করে অনলাইনে ছবি বিক্রির মাধ্যমে অনলাইনে আয় করার জন্য ফটোগ্রাফারদের এখন অনেক সুযোগ রয়েছে। আপনি ফটোগ্রাফির যে কাজটি সখের বশে করছেন, আপনি চাইলে আপনার সখ মেঠানোর পাশপাশি অনলাইনে ছবি বিক্রি করে মোটামুটি ভালো অংকের টাকা ইনকাম করে নিতে পারেন। সবচাইতে মজার বিষয় হচ্ছে ফটোগ্রাফি করে আয় করার জন্য তেমন কোন অভীজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। আপনার একটি ডিএসএলআর থাকলে এবং টুকটাক ফটো এডিটিং এর কাজ জানলে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আপনার তুলা ভালোমানের ছবিগুলো বিক্রি করতে পারবেন। 

 

আসলে ফটোগ্রাফি বেশ সখের একটি কাজ। আমরা প্রায় প্রতিদিন এখন সখের বশে বিভিন্ন ধরনের ছবি তুলে সেগুলো ফেসবুক ও ইনস্ট্রগামে আপলোড করি। কিন্তু সেখান থেকে আমাদের কোন বেনিফিট হয় না। অথচ আপনার একটি ডিএসএলআর থাকলে নিজের ছবি তুলার পাশাপাশি প্রকৃতির বিভিন্ন দৃশ্য সহ আরো বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় জিনিসগুলো নিয়ে ফটোগ্রাফি করে খুব সহজে অনলাইনে ছবি বিক্রি করতে পারেন।

আমরা আজকের পোস্টে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে অনলাইনে টাকা আয়ের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। আপনি যদি একজন ফটোগ্রাফার হন বা ছবি তুলতে পছন্দ করেন, তাহলে আপনি কোন্ ধরনে ছবি তুললে আয় করতে পারবেন, কোন্ কোন্ জায়গাতে ছবি বিক্রি করতে পারবেন, ছবি বিক্রি করার জন্য কি কি করতে হবে এবং ছবি বিক্রি করে কত টাকা আয় করতে পারবেন, ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করব। 

কিভাবে অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় করবেন?

অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় করার জন্য আপনাকে কোন বায়ার খুঁজতে হবে না। আপনার কাছে ভালোমানের ছবি থাকলে সেগুলো ঘরে বসে অনলাইনের বিভিন্ন ছবি শেয়ারিং মার্কেটপ্লেস বা স্টক ইমেজ সাইটগুলোতে আপলোড করে ছবি বিক্রি করতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে কোন একটি বা দুটি স্টক ইমেজ মার্কেটপ্লেসে একটি ফ্রি একাউন্ট তৈরি করে সেখানে আপনার ভালোমানের কয়েকটি ছবি আপলোড করতে হবে। ছবি আপলোড করার পর ওয়েবসাইট হতে আপনার ছবিগুলোর কোয়ালিটি, পিক্সেল ও আনুষাঙ্গিক বিষয় যাচাই করার পর তাদের কাছে ভালো মনেহলে, তারা আপনার প্রোফাইল অনুমোদন করবে। আপনার প্রোফাইল অনুমোদন হলে তখন আপনি ছবি আপলোড করতে পারবেন।

ছবি আপলোড করার সাথে সাথে লোকজন আপনার ছবি দেখতে বা কিনতে পারবে না। কারণ ছবি আপলোড করার পর প্রথমে স্টাক ইমেজ সাইট হতে আপনার আপলোড করার প্রত্যেকটি ছবি যাচাই করা হবে। যাচাই করার পর ছবি ভালো হলে তারা অবশ্যই আপনার ছবি অনুমোদন করে নিবে। অনুমোদন হওয়ার পর তখন আপনার ছবি সবাই দেখতে পাবে এবং কারো পছন্দ হলে ছবি ক্রয় করে নিবে। এ ক্ষেত্রে বিক্রয়কৃত ছবি হতে আপনি কমিশন আকারে কিছু টাকা পাবেন। এভাবে মূলত অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় করা হয়। এ বিষয়ে নিচে আমরা আরো বিস্তারিত আলোচনা করব।

কোন ধরনের ছবি তুলবেন?

ফটোগ্রাফি মাধ্যমে অনলাইনে আয় করার জন্য কিছু ক্যাটাগরির ছবি রয়েছে যেগুলোর ডিমান্ড অনেক বেশি। আপনাকে সব ধরনের ছবি না তুলে কিছু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ছবি নিয়ে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিচের ক্যাটাগরির ছবি নিয়ে ফটোগ্রাফি করতে পারেন।

১। এবস্ট্রাক্ট

এবস্ট্রাক্ট ফটোগ্রাফি
এটা এক ধরনের ক্লোজ ফটোগ্রাফি। সাধারণত খুব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে এ ধরনের ফটোগ্রাফাররা কাজ করে। যেমন- নিচের পাতাটি দেখুন। এই চিত্রের পাতার মধ্যে থাকা শিরা উপশিরা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। খুব ভালোমানের ডিএসএলআর দিয়ে জুম করে এ ধরনের ছবি তুলতে হয়।

২। আর্ট - চিত্রাঙ্কন

বিভিন্ন ধরনের মিউজিয়ামে গেলে অনেক সুন্দর সুন্দর হাতে আকা ছবি পাওয়া যায়। এ ধরনের আর্ট করা ছবি দেখতে বেশ এট্রাকটিভ হয়। এই টাইপের ছবির প্রতি মানুষের আলাদা একটা ফিলিংস থাকে। আপনি বিভিন্ন ধরনের আর্ট করা ছবিগুলো আপনার ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করে কাজটি করতে পারেন।

৩। ফ্যাশন 

ফটোগ্রাফিতে ফ্যাশন ডিজাইন বিষয়টি বেশ জনপ্রিয়। অনলাাইন ও অফলাইন উভয় মার্কেটে এ ধরনের ফটোগ্রাফারদের অনেক ডিমান্ড রয়েছে। বিভিন্ন নামকরা মডেল ও অভিনয় শিল্পিদের ছবি তুলে সেগুলো অনলাইনে সাবমিট করতে পারেন। তাছাড়া বিভিন্ন ফ্যাশন ডিজাইনের ফটোগ্রাফার হয়েও বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে টাকা আয় করতে পারেন।

৪। নেচার বা প্রকৃতি

প্রকৃতির প্রতি সকল মানুষের টান রয়েছে। এ ধরনের ছবিগুলো অনলাইনে বেশি পরিমানে বিক্রি হয়ে থাকে। বিশেষকরে আমাদের দেশ নদী মাতৃক চিরসবুজের দেশ হওয়ার কারনে প্রকৃতি নিয়ে ফটোগ্রাফাররা খুব সহজে কাজ করতে পারেন। কারণ হাতের কাছে প্রকৃতির দৃশ্য ও পাখপাখালি পেয়ে যাওয়ার কারনে ছবি তুলার জন্য খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না।

৫। ট্রাভেল বা ভ্রমন

যারা ভ্রমন প্রিয় লোক তারা এই কাজটি খুব সহজে করতে পারবেন। আপনি দেশ বিদেশর বিভিন্ন জায়গাতে ভ্রমন করার সময় সুন্দর সুন্দর জায়গাগুলোর দৃশ্য আপনার ক্যামের তুলে রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দর্শণীয় স্থানের ছবি ভালোকরে তুলতে পারলে অনলাইনে সহজে বিক্রি করা যায়।

৬। ফুড (খাবার)

এটাও খুব সহজ কাজ। আমরা প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন হোটেল ও রেষ্টুরেন্টে খওয়ার সময় সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড করি। আপনি এ ধরনের বিভিন্ন দেশি বেদেশি আনকমন খাবারের ছবি তুলে সেগুলো অনলাইনে বিক্রি করতে পারবেন।

৭। ব্যবসা

বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লোকজন কিভাবে কাজ করে বা তাদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ কোন মহুর্তের ছবি তুলে কাজটি করতে পারেন। যেমন- ধরুন ব্যবসায়িরা কি ধরনের মিটিং করছেন, তারা কিভাবে চলছে, অফিস ম্যানেজমেন্ট সহ ব্যবসা সংক্রান্ত আরো বিভিন্ন বিষয়ে ফটোগ্রাফি করতে পারেন।

৮। কালচার ও লাইফস্টাইল

বিশ্বের এক এক দেশের মানুষের কালচার, সংস্কৃতি, চলাফেরা ও জীবন ব্যবস্থা এক এক ধরনের। আপনি দেশ বিদেশে ভ্রমন করে থাকলে বিভিন্ন দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা নিয়ে ফটোগ্রাফি করতে পারেন। এ ধরনের ছবিগুলো মানুষ দেখতে এবং সংগ্রহ করে রাখতে খুব পছন্দ করে।

৯। ভালোবাসা

ভালোবাসা ও আবেগপূর্ণ ছবি মানুষকে সবসময় আকৃষ্ট করে। ছবিতে মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও ভালোবাসা ফুটে উঠে এমন মুহুর্তের ছবি তুলতে পারলে সেগুলো আপনি খুব সহজে অনলাইনে বিক্রি করে ভালোমানের টাকা আয় করে নিতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে রানাপ্লাজা ধসে পড়ার পর সেই নারী ও পুরুষের আলিঙ্গনের ছবিটি অনুসরণ করতে পারেন।

১০। বিনোদন

বিনোদন পছন্দ করে না এমন মানুষ খুব কম আছে। ফুটপাত থেকে শুরু করে অনেক ভালো ভালো মার্কেটে গেলে বিভিন্ন বিনোদন মূলক ছবি টানানো দেখা যায়। এ ধরনের ছবিগুলো অনলাইন হতে ক্রয় করার পর ব্যবসায়িরা প্রিন্ট করে মার্কেটে বিক্রি করে থাকেন। আপনি বিনোদনমূলক ছবি নিয়ে ফটোগ্রাফি করতে পারেন। 

অনলাইনে কারা ছবি কিনে?

এতক্ষণ আমি বিভিন্ন ধরনের ছবি নিয়ে আলোচন করলাম, কিন্তু আপনার মাথায় নিশ্চয় একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে যে, এই সমস্ত ছবি কিনে কারা। যেহেতু গুগলে অসংখ্য ছবি পাওয়া যাচ্ছে, তাহলে মানুষ সেগুলো ব্যবহার না করে আমার ছবি অনলাইন হতে কিনবে কেন?

আসলে উন্নতমানের কোম্পানি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো কখনো অন্যের ছবি কমার্শিয়াল কাজে ব্যবহার করে না। কারণ অন্যের ছবি ব্যবহার করলে প্রতিষ্ঠানের ভ্যালু এমনিতেই কমে যায়। সেই জন্য উন্নতমানের কোম্পানিগুলো অনলাইন মার্কেটপ্লেস হতে ভালোমানের ইউনিক ছবি কিনে তাদের কাজে ব্যবহার করে। 

তাছাড়া উন্নত দেশের মানুষ আমাদের দেশের মত যেকোন ধরনের কপিরাইট ছবি ব্যবহার করতে পারে না। কারণ উন্নত দেশের কপিরাইট আইন খুবই কঠোর। সামাণ্য একটি কপিরাইট ছবি ব্যবহার করার জন্য অনেক টাকা জরিমানা হতে পারে। আমরা গুগল হতে বিভিন্ন ছবি যেভাবে ব্লগ ও ওয়েবসাইটে ব্যবহার করি উন্নত দেশের মানুষ সেটা করতে পারে না। কারণ ছবির প্রকৃত মালিক ব্লগ বা ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে মামলা করলে অনেক টাকা জরিমান গুনতে হয়। সে জন্য উন্নত দেশের মানুষ, গুগল হতে ছবি ব্যবহার না করে কিনে ব্যবহার করে।

অনলাাইনে ছবি বিক্রি করে কত টাকা আয় করা যায়?

আপনার ছবি বিক্রি করে কমিশন ভিত্তিক টাকা আয় করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি প্রত্যেকটি ছবি যে দামে বিক্রি হবে সেই পুরো টাকা আপনি নিজে পাবেন না। আপনি যে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ছবি বিক্রি করবেন সেই ওয়েবসােইট আপনার ছবি বিক্রির ৬০-৭০% টাকা রেখে দেবে এবং আপনাকে অবশিষ্ট টাকা দেবে।

আসলে প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটের বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজের মাধ্যমে ছবি বিক্রি করে থাকে। দৈনিক বা মাসিক ছবির সংখ্যার ওপর প্যাকেজের মূল্য নির্ধারিত হয়। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস বা ওয়েবসাইট ভেদে ছবি বিক্রির ২০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছবির মালিককে সম্মানী হিসেবে দেওয়া হয়। তবে একজন বিক্রেতা যদি একটি নির্দিষ্ট ছবি শুধু একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে বিক্রি করেন, তাহলে বেশি সম্মানী পেতে পারেন, আর যদি একটি নির্দিষ্ট ছবি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিক্রি করেন, তাহলে সম্মানীর পরিমাণ কমে যেতে পারে। সম্মানীর পরিমাণ কম হলেও ছবি বিক্রির পরিমাণ বেশি হলে কোনো নির্দিষ্ট মার্কেটপ্লেস থেকে বেশি আয় করা সম্ভব।

এখানে আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে আপনার একটি ছবি যতবার বিক্রি হবে আপনি ততবার টাকা পাবেন। আপনার কোনো ছবি ১০০ বার বিক্রি হলে, আপনাকে প্রত্যেকটি বিক্রির জন্য হিসাব করে টাকা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আপনার ছবির দাম যদি হয় ৫ ডলার এবং ছবিটি ১০০ বার বিক্রি হয়, তাহলে আপনাকে ৩০% করে দেওয়া হলে আপনি ৫ × ৩০% × ১০০ = ১৫০ ডলার আয় করতে পারবেন। এভাবে আপনার প্রোফাইলে হাজার হাজার ছবি থাকলে আপনি মাসে অনেক টাকা ফটোগ্রাফি করে আয় করতে পারবেন। 

ছবি কোথায় বিক্রি করবেন?

এটা সবচাইতে বড় প্রশ্ন। আমি অনেক ভালোমানের ফটোগ্রাফার, আমার কাছে অনেক ছবি, এখন আমি ছবি কোথায় বিক্রি করব? একটু ধের্য ধরুন, আমরা আপনাকে বিশ্বর জনপ্রিয় ৫ টি মার্কেটিপ্লেসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো, যেখানে আপনার ছবি বিক্রি করে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

১। সাটারস্টক - Shutterstock.Com

সাটারস্টক হচ্ছে বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় ফটোগ্রাফি মার্কেটপ্লেস। তাদের ওয়েবসাইটে প্রতি মাসে প্রায় ৮৫ মিলিয়ন লোক ভিজিট করে। সাটারস্টক প্রায় ১৫ বছর থেকে ডিজিটাল মার্কেটে ছবি বিক্রি করে আসছে। তাদের স্টকে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ছবি, ভিডিও ফুটেজ ও মিউজিক রয়েছে। অনলাইন তাদের মিলয়ন মিলিয়ন কাস্টমার রয়েছে।

আপনি খুব ভালোমানের ফটোগ্রাফার হলে এই মার্কেটপ্লেসে আপনার ছবি আপলোড করে প্রতিমাসে একটি স্মার্ট এমাউন্ট আয় করে নিতে পারবেন। সাটারস্টকের ভাষ্য অনুসারে তারা অনলাইনে ছবি বিক্রি করে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে নিয়েছে। সাধারণত তারা একজন ছবির মালিককে ছবি বিক্রির ২০-৩০% টাকা পরিশোধ করে থাকে।
সাটারস্টক - Shutterstock.Com

২। ফটোলিয়া - Fotolia.Com

ফটোলিয়া হচ্ছে অডোবি কোম্পানির একটি ফটোগ্রাফি সাইট। তারা ২০১৯ সালে ফটো মর্কেটপ্লেসটি লঞ্চ করে। এই ওয়েবসাইটটি নামকরা এডোবি কোম্পানির হওয়ার কারনে খুব অল্প সময়ে পুরো বিশ্বে জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিয়েছে। সবচাইতে মজার বিষয় হচ্ছে ফটোলিয়া এখনো নতুন হওয়ার কারনে খুব সহজে ফটো আপলোড করার অনুমোদন পাওয়া যায়।

প্রতিমাসে তাদের ওয়েবসাইটে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন লোক ভিজিট করে। এই ওয়েবসাইটের ফটোগুলো বেশ ভালোমানের হয়ে থাকে এবং এখানে ছবি বিক্রি করতে পারলে বেশ ভালো দাম পাওয়া যায়। আমার মনেহয় জনপ্রিয়তার দিক থেকে এটি খুব অল্প সময়ে সাটারস্টককে ছাড়িয়ে যাবে। কাজেই আপনি চাইলে এখানে আপনার ছবি বিক্রি করে টাকা আয় করতে পারেন।
ফটোলিয়া - Fotolia.Com

৩। গেটি ইমেইজ - GettyImages.Com

গেটি ইমেইজ এর ছবির অনেক দাম হয়ে থাকে। আপনি এখানে আপনার প্রোফাইল এপ্রুভ করে ছবি বিক্রি করতে পারলে প্রচুর পরিমানে টাকা আয় করতে পারবেন। তাদের প্রায় ৫০ মিলিয়ন এর বেশি মাসিক ভিজিটর রয়েছে। সাধারণত এই ওয়েবসাইটে নেচার ও ইমোশন টাইপের ছবির বেশি ডিমান্ড হয়। তারা একজন ছবির মালিককে ছবি বিক্রির ২০% কমিশন পে করে থাকে। কমিশন কম হওয়া সত্বেও ছবির দাম বেশি হওয়ার কারনে গেমি ইমেইজ থেকে টাকা বেশি আয় করা সম্ভব হয়।
গেটি ইমেইজ - GettyImages.Com

৪। আইস্টক ফটো - iStockPhoto.Com

আইস্টক ফটো হচ্ছে আরেকটি স্টক ইমেজ শেয়ারিং মার্কেটপ্লেস। এটি মূলত গেটি ইমেজ এর একটি অংশ। গেজি ইমেজ কোম্পানি নিজে এটিকে পরিচালনা করে। তবে এখানে গেজি ইমেজ এর চাইতে খুব সহজে প্রোফাইল অনুমোদন করা সম্ভব হয়। প্রথম অবস্থায় তারা আনাকে তিনটি ইমেজ আপলোড করার অপশন দেবে। পরবর্তী আপনার ছবির কোয়ালিট ভালো হলে আনলিমিটেড ছবি আপলোড করে সেল করার সুযোগ দেবে। সাধারণ আইস্টক ফটো ২০-৪৫% কমিশন ফটো মালিককে পরিশোদ করে থাকে।
আইস্টক ফটো - iStockPhoto.Com

৫। ড্রিমসটাইম - Dreamstime.Com

ফটোগ্রাফি মার্কেট হিসেবে ড্রিমসটাইম এর বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। প্রতিমাসে তাদের প্রায় ২০ মিলিয়নের বেশি ট্রাফিক রয়েছে। ড্রিমসটাইম এর ভাষ্যমতে তারা প্রতিমাসে প্রায় ১ মিলিয়ন ছবি বিক্রি করে। তাদের অধিকাংশ ছবি ইউরোপ ও আমেরিকাতে বিক্রি হয়ে থাকে। সাধারণত ড্রিমসটাইম ছবির মালিককে ছবি বিক্রির ৩০-৪৫% কমিশন পে করে। তাছাড়া এখানেও সহজে প্রোফাইল অনুমোদন পাওয়া যায়।
ড্রিমসটাইম - Dreamstime.Com

কিভাবে স্টক প্রফাইল Approve করবেন?

এতক্ষণ আমরা জানলাম কোন কোন মার্কেটপ্লেসে ছবি আপলোড করে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে অনলাইন হতে আয় করা যায়। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়, আপনি ক্যামেরা দিয়ে ছবি উঠালেন এবং সেগুলো আপলোড করেই টাকা আয় শুরু করে দিলেন। উপরের ৫টি মার্কেটপ্লেসের মধ্যে যেকোন মার্কেটপ্লেসে ছবি আপলোড করার জন্য প্রথমে আপনাকে একটি ফ্রি একাউন্ট তৈরি করে প্রোফাইল অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। 

প্রোফাইল অনুমোদন করানোর জন্য আপনাকে অবশ্যই ভালোমানের ছবি আপলোড করতে হবে। আপনার ছবির মান ও ছবির পিক্সেল ভালো হলে তারা অবশ্যই আপনার প্রোফাইল অনুমোদন করবে। অনুমোদন হওয়ার পর ছবি আপলোড করতে পারবেন। আপনার ছবি আপলোড করার পর প্রতিটি ছবি তারা রিভিউ করবে। রিভিউ করার পর ছবি ভালো হলে ছবি অনুমোদন করবে এবং ছবি বিক্রি হলে আপনি টাকা আয় করতে পারবেন।

সাধাণত ছবির মান ভালো না হলে কিংবা ছবিতে কোন ধরনের কপিরাইট মেটারিয়াল থাকলে প্রোফাইল অনুমোদন হয় না। আপনি একজন ভালোমানের ফটোগ্রাফার হলে প্রোফাইল অনুমোদন করা আপনার জন্য খুব একটা কঠিন কাজ হবে না। প্রথমবার অনুমোদন না হলে কিছুদিন পর আরো ভালোমানের ছবি আপলোড করলে তারা অবশ্যই আপনার ছবি অনুমোদন করবে। তনে নরমাল ছবি দিয়ে কখনো প্রোফাইল অনুমোদন করিয়ে নিতে পারবেন না।

শেষ কথা

ফটোগ্রাফিকে শখ হিসেবে নিয়ে কেউ যদি খুব বেশি পরিমানে ছবি তুলে থাকেন, তাহলে উপরের মার্কেটপ্লেসগুলো থেকে আপনি অনলাইনে ছবি বিক্রি করে টাকা আয় করতে পারবেন। সেই সাথে আপনি যদি একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার হয়ে থাকেন, তাহলে অনলাইন ছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যম হতে ফটোগ্রাফি করে টাকা আয় করতে পারবেন। 

ধন্যবাদ


## আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।
## ক্রয়, বিক্রয়, ভাড়া, অদল-বদল, দান করার জন্য ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।
## ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে চাইলে ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন। 

PUBG / পাবজির বিকল্প ৫টি গেমসঃ পাবজির চেয়ে কোনো অংশে কম না।

বর্তমানে গেইমিংস হয়ে উঠেছে নেশার চেয়েও বেশি কিছু। গেইমিং এর সাথে পরিচিত না এমন লোক খুব কমই আছে। একটা সময় ছোট্ট টোং ঘরের ভেতরে এক টাকা দিয়ে টিভির মতো ইয়া বড় মনিটরে যে গেম খেলতাম তা ছিলো আমাদের সোনালী শৈশবের এক বড় বিনোদনের উৎস। তবে দিন পালটে গেইমিং এর জন্যই আজকাল বিভিন্ন গ্যাজেট ব্র্যান্ড বের করছে বিভিন্ন গেইমিং মোবাইল বা গেইমিং পিসি। এগুলো আবার আপডেট করে নিয়ে আসা হচ্ছে বাজারে। বাজারে আসার সাথে সাথেই চলছে কেনার ধুম।

 


তো এই গেইমের সাথে পরিচয় আমাদের অনেক আগে থেকেই। তবে আস্তে আস্তে যুগের ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন হতে হতে অনেক ধরনের নতুন গেইমসের দেখা পেয়েছি আমরা। তাদের মধ্যে অন্যতম একটি নেম, ফেম, ও টাকা কামানো গেইম হচ্ছে 'পাবজি'। এই গেইমসই পাল্টে দিয়েছে গেইমিং জগৎের সকল চিত্র। এতটা জনপ্রিয় হয়েছে এই গেইমসটি যা বলার মতো না। সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

তবে এই আর্টিকেলে পাবজি নিয়ে কথা হবে না। আজ কথা বলতে যাচ্ছি এর মতোই ৬টি গেমস নিয়ে, যেগুলো আপনি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে খেলতে পারবেন। আসলে 'পাবজি'র স্টোরেজ বেশি থাকায়, এটিকে অনেকেই পছন্দ করে না। তোঁ তাদের জন্য এটি বেশ হতাশার ব্যাপার। জেনে আসা যাক এই ৫টি গেইমসের ব্যাপারে বিস্তারিত।

➡১. ওমেগা লিজেন্ডস / Omega Legends

এই গেইমটি পুরোটাই অনলাইন বেইস। গেইমটিতে দুইটি মোড দেয়া হয়েছে। একটি হচ্ছে নরম্যাল মোড এবং আরেকটি হচ্ছে স্পিজাল মোড। গেইমটিতে আরও রয়েছে রিয়্যাল টাইম সার প্লেয়ার। 'পাবজি'তে যেমন একটি টিমে চার জন করে থাকে, এই গেমসে একটি টিমে থাকবে তিন জন করে। এটি ভিন্ন ভিন্ন গ্রাফিক্স এবং অসাধারণ স্পিডির একটি গেইম। আরেকটি ভালো বিষয় হচ্ছে, এই গেইমটি যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলেই খুব ভালোভাবেই, ল্যাকিং ছাড়াই ইনজয় করা যাবে।


 

➡২. নাইভস আউট / Knives Out-No rules, just fight!

এই গেইমটিও অনলাইন ভিত্তিক ব্যাটল রয়েল মাল্টি প্লেয়ার গেইম। গেইমটিতে অনেকটাই 'পাবজি'র মতো গ্রাফিক্স পেয়ে যাবেন। এই গেইমটিতে ব্যাটলের জন্য অনেকগুলো ম্যাপও পেয়ে যাবেন। বিভিন্ন ক্যারেক্টারও পাওয়া যাচ্ছে এই গেইমটিতে। গেইমটির কন্ট্রোলিংও অনেকটা 'পাবজি'র মতো। গেইমটি এফপিএস মোডেও খেলা যাবে।


➡৩. ক্রিয়েটিভ ডিসট্রাকশন / Creative Destruction

এই গেইমটি অনেক স্টাইলিশ একটি গেইম। ওপেন ওয়ার্ল্ড ব্যাটল রয়েল গেইম এটি। এই গেইমটিকে 'স্যান্ডবক্স সারভাইভাল' গেইমসও বলা হয়। গেইমটিতে আরও রয়েছে ১০০ জন প্লেয়ারের ডেড ম্যাচ মোড। আরও বিভিন্ন ধরনের মোড পেয়ে যাবে এই গেইমটিতে। গেইমটির গ্রাফিক্স ছিলো দেখার মতো। বিভিন্ন স্টাইলিশ কার্ড এবং ইউনিক গানও থাকছে এই গেইমে। যারা একটু ভিন্ন ধরনের ব্যাটল রয়েল গেইম খুজছেন, এই গেইমটি তাদের জন্য।


➡৪. সাইবার হান্টার / Cyber Hunter

এই গেইমটিও একটি অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার ব্যাটল রয়েল গেইম। গেইমটি থেকে আলাদা একটি মজা পাবেন। গেইমটিতে দেয় হয়েছে অসাধারন মানের গ্রাফিক্স। বরাবরের মতো বিভিন্ন ক্যারেক্টার পাওয়া যাবে গেইমটিতে। গেইমটিতে দেয়া হয়েছে কিছু নতুন মোড, যেগুলো খুব আকর্ষনীয়।

যেমনঃ যেকোনো বিল্ডিং বা দেয়াল টপকে উঠে যাওয়া, যেকোনো গাছের উপর উঠে এনিমি খুঁজা ইত্যাদি। নতুন হিসেবে আরও থাকছে রলি জাম্পিং মোড।


➡৫. রুলস অফ সার্ভাইভাল / RULES OF SURVIVAL

এই গেইমটি অনলাইন কম্পেটেটিভ মাল্টিপ্লেয়ার ব্যাটল রয়েল গেইম। এই গেইমটির রিভিউ বেশ ভালো। পুরো বিশ্ব জুড়ে এই গেইমটির ডাউনলোড কারীর সংখ্যা ২০০ মিলিওনের বেশি। গেইমটিতে ১২০ জন প্লেয়ার, প্লেন থেকে ল্যান্ড করে ব্যাটল করতে পারবে। গেইমটি সলো, ডুয়ো বা স্কোয়াড মোডেও খেলা যাবে। গেইমের এয়ারড্রপিং গুলো অসাধারন ছিলো। গেইমটি হাই গ্রাফিক্যাল হওয়ায় গেইমের মধ্যে বিভিন্ন সিনারি ছিলো দেখার মতো।


ধন্যবাদ


## আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।
## ক্রয়, বিক্রয়, ভাড়া, অদল-বদল, দান করার জন্য ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।
## ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে চাইলে ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।

Friday, January 15, 2021

যে কোনো গান বা মিউজিক শুনেই বের করে নিন গানটির নাম, আর্টিস্ট এর নাম এবং লিরিক্স |

বন্ধুরা আজ আমি জানবো একটি মজার অ্যাপ সম্পর্কে। অ্যাপটির নাম Shazam । এই অ্যাপ দিয়ে আপনি যেকোনো গান বা মিউজিক শুনেই বের করে নিন গানটির নাম, আর্টিস্ট এর নাম এবং লিরিক্স।


চলুন দেখে নেয়া যাক অ্যাপটি দিয়ে কিভাবে কাজ করবেন,

প্রথমে প্লে স্টোর থেকে নিচের অ্যাপসটি ইন্সটল করে নিন।


 

এবার অ্যাপস টি ওপেন করলে নিচের মত ইন্টারফেস দেখতে পাবেন। এর নিচে একটি পপ-আপ মেনু দেখতে পাবেন। ওখান থেকে Turn On এ ক্লিক করুন।

এবার বাম কোনার Library বাটনে ক্লিক করুন।

সেটিংস আইকনে ক্লিক করুন।

এখানকার সবগুলো বাটন অন করে দিন।

এবার অ্যাপস টি মিনিমাইজ করে বের হয়ে গেলে এরকম একটি ফ্লোটিং আইকন দেখতে পাবেন।

এবার আপনার ফোনটি আশেপাশে অথবা আপনার নিজের ফোনে একটি মিউজিক বা গান প্লে করুন।
প্লে করার পর ফ্লোটিং আইকনটিতে ক্লিক করুন।

তো দেখুন এখানে আমি Faded গানটি প্লে করেছি এবং অ্যাপসটি কিন্তু এই নামটি দেখাচ্ছে।

এবং এখানে দেখতে পাচ্ছেন গানের সাথে সাথে লিরিক্স উঠছে।

ফ্লোটিং আইকনটির ওপর আবার ক্লিক করে গানের সমস্ত ইনফরমেশন দেখতে পাবেন।


.
.

নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন । ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ। 

## আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।
## ক্রয়, বিক্রয়, ভাড়া, অদল-বদল, দান করার জন্য ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।
## ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে চাইলে ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।

 

Computer Hang / কম্পিউটার হ্যাং করার মূল ১০টি কারণ।

বন্ধুরা আমরা বিভিন্ন কাজের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি। যেমন কেউ গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, CPA মার্কেটিং, আবার কেউ কেউ ফ্রিলান্সিং এসব কাজ করার সময় যদি আপনার আমার কম্পিউটার হ্যাং করে তাহলে অনেক বিরক্ত লাগে। কম্পিউটার ব্যবহার করার সময় যদি কম্পিউটার হ্যাং করে তাহলে কম্পিউটারের মজাটাই আর থাকেনা। আজ কথা বলব কম্পিউটার হ্যাং করার মূল ১০টি কারণ।


 
১. আপনার কম্পিউটারের প্রসেসরঃ

আপনার কম্পিউটারের প্রসেসরের মান যদি কম হয় এবং আপনার কাজের মান যদি বেশি হয় তাহলে কম্পিউটার হ্যাং হয়। কম্পিউটার কিনার সময় অবশ্যই কম্পিউটারের মানের দিকটা একটি বিবেচনা করে কিনতে হবে।


২. RAMঃ

কম্পিউটারের খুবি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো RAM। মনে করেন আপনার কম্পিউটারের RAM 1GB এখন আপনি ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর অন্য সফটওয়্যার ওপেন করতে চাইলে কম্পিউটার হ্যাং হয়।


৩. হার্ডডিস্ক ও প্রসেসর এর কানেকশনঃ

হার্ডডিস্ক ও প্রসেসর এর কানেকশন যদি ঠিকঠাক না থাকে তাহলে কম্পিউটার মাঝে মাঝে হ্যাং করবে।


৪. কুলিং ফ্যানঃ

আপনার কম্পিউটারের কুলিং ফ্যান যদি কোন কারণে না ঘোরে তাহলে অথবা আস্তে আস্তে ঘোরে তাহলে প্রসেসর গরম হয়ে কম্পিউটার হ্যাং করবে।


৫. হার্ডডিস্কঃ

হার্ডডিস্ক যদি মাদারবোর্ড না পায় বা কোন কারণে নষ্ঠ হয়ে যায় তাহলে কম্পিউটার হ্যাং করবে। তাই হার্ডডিস্ক মাঝে মাঝে চেক করা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।


৬. অপারেটিং সিস্টেমঃ

আপনি যে অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করেন সেটি যে কোন উইন্ডোজ হতে পারে। এই ওইন্ডোজের যে সফটওয়্যার গুলো আছে বা অ্যাপ্লিকেশন থাকে এগুলোর মধ্যে কোন একটা যদি ডিলিট হয় বা ড্যামেজ হয় তাহলে আপনার কম্পিউটার হ্যাং করতে পারে। কারণ প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার যখন অপারেটিং সিস্টেম পাবে না তখন সে বার বার চেষ্টা করবে অপারেটিং সিস্টেম পাওয়ার জন্য। তার ফলে আপনার কম্পিউটার হ্যাং করবে।


৭. কম্পিউটার ভাইরাসঃ

কম্পিউটারে ভাইরাসের কারণে আপনার কম্পিউটার হ্যাং করতে পারে। বিভিন্ন ভাইরাস আছে যে ভাইরাস খুব শক্তিশালী এই ভাইরাস গুলো যদি কোন ভাবে আপনার কম্পিউটারে ডুকতে পারে তাহলে বিভিন্ন সফটওয়্যার ও অপারেটিং সিস্টেমের উপর বেশ প্রেশার  দেয় তাই আপনার কম্পিউটার হ্যাং করতে পারে।


৮. গেমিংঃ

আমরা অনেকেই গেম খেলতে পছন্দ করি। এখন কথা হলো কম পাওয়ার ফুল কম্পিউটারে যদি আমরা বড় ধরনের গেম খেলি তাহলে আমাদের কম্পিউটার হ্যাং করবে। গেম খেলার জন্য আমাদের গেমিং কম্পিউটার প্রয়োজন। অথবা আমাদের পাওয়ার ফুল কম্পিউটার ব্যবহার করতে হবে।


৯. আপনার কম্পিউটারের ফাইল স্টোরিং সিস্টেমঃ

আপনি যদি আপনার কম্পিউটারে থাকা ফাইল গুলো এলোমেলো করে রেখে দেন তাহলে আপনার কম্পিউটার হ্যাং করতে পারে। বা মনে করেন আপনার কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ৫০০ জিবি এখন আপনি ৪৮০ জিবি লোড করে রাখছেন এতে আপনার কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, মাদারবোর্ড, ও র‍্যাম এর উপর প্রেসার পড়ে হ্যাং করতে পারে।


১০. আপনার কম্পিউটারের প্রতি শ্রদ্ধাঃ

আপনি অনেক দিন থেকে কম্পিউটার ব্যবহার করছেন কিন্তু কম্পিউটার পরিস্কার করেন না। এখন আপনার কম্পিউটারে যদি কুলিং ফ্যান, মাদারবোর্ড, RAM, এগুলো যদি ময়লা যুক্ত হয় তাহলে কম্পিউটার হ্যাং করতে পারে।
 

বন্ধুরা এই ছিলো আজকের মূল টপিক। আশাকরি সবাই বুঝতে পেরেছেন। 

 

## আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।
## ক্রয়, বিক্রয়, ভাড়া, অদল-বদল, দান করার জন্য ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।
## ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে চাইলে ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।

 

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। [পর্ব - ১৯]

আসসালামু আলাইকুম

আশা করছি আপনারা সবাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন।


 আমার আগের সব পর্ব:

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব ১

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব ২

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব ৩

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব ৪

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব ৫

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব ৬

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব ৭

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব ৮

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব ৯

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব  ১০

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব  ১১

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব  ১২

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব  ১৩

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব  ১৪

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব  ১৫

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব ১৬

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব  ১৭ 

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত। পর্ব  ১৮

 


 

25.আল জারকালি(সূর্যের সর্বোচ্চ উচ্চতার গতি প্রমাণকারী)


আল জারকালি হলেন স্পেনের একজন মুসলিম ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী বিজ্ঞানী। তার পূর্ণ নাম আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে ইয়াহিয়া আল-নাকাশ আল-জারকালি। সংক্ষেপে তিনি ‘আল-জারকালি হিসাবে পরিচিত। তাঁর নাম পাশ্চাত্য গ্রন্থসমূহে উল্লিখিত হয়েছে “মারজাকেল” নামে।

ঐতিহাসিকরা ধারণা করছেন, তার নামের শেষাংশের সঠিক উচ্চারণ হওয়া উচিত আল-জারকাল্লা। ল্যাটিন ভাষায় তিনি আরজাচেল’ (Arzachel) নামে পরিচিত।



জারকালি মুসলিম স্পেনের টলেডাের অদূরে একটি গ্রামে ১০২৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি জ্যামিতি এবং জ্যোতির্বিদ্যায় বিশেষভাবে প্রতিভাবান ছিলেন । তাঁর বিস্তৃত অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান তাকে শেষ পর্যন্ত তাঁর সময়ের শীর্ষস্থানীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী করে তুলেছিল । আল-জারকালিও একজন উদ্ভাবক ছিলেন এবং তাঁর রচনাগুলি টলেডোকে আল-আন্দালুসের জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্রে পরিণত করেছিল।

তবে জারকালি নিরক্ষর থেকে পন্ডিত ব্যক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছিলেন। টলেডাে ছিল তখনকার টাইফার রাজধানী। মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মিলেমিশে বাস করার জন্য টলেডাের খ্যাতি ছিল। আল-জারকালি একজন ধাতু শিল্পী হিসাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এ কাজে বিশেষ যােগ্যতার জন্য তার উপনাম ছিল ‘আল-নাকাশ’। আরবীতে আল-নাকাশ শব্দের মানে হলাে ‘ধাতু খােদাইকারী। ধাতু শিল্পী হিসাবে তিনি কাজী সৈয়দ আল-আন্দালুসির অধীনে চাকরিতে নিয়ােজিত হন।

১০৬০ সালে স্পেনে ইয়াহিয়া আবি ইবনে মনসুরের নেতৃত্বে জ্যোতির্বিজ্ঞানের গবেষণা শুরু হয়। জারকালি তার গবেষণার জন্য প্রয়ােজনীয় জটিল যন্ত্রপাতি নির্মাণ করতেন। দ্রুত তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মর্যাদাপূর্ণ একটি গ্রুপের জন্যও যন্ত্রপাতি তৈরি করতে থাকেন। এসব জ্যোতির্বিজ্ঞানী তার অসাধারণ মেধা উপলদ্ধি করতে সক্ষম হন এবং তার প্রতি তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। তিনি তখন এসব পন্ডিতকে জানান যে, তার বিদ্যা বুদ্ধি অত্যন্ত সামান্য। তিনি কখনাে বিজ্ঞান অধ্যয়ন করেননি। এমনকি কখনাে বই স্পর্শ করেননি। তার এ জবাব শুনে পণ্ডিত ব্যক্তিরা তাকে ভর্ৎসনা করেন এবং অধ্যয়ন করতে বাধ্য করেন। পণ্ডিত ব্যক্তিদের গ্রুপ তাকে প্রয়ােজনীয় বই সংগ্রহ করে দেন।


টলেডাের বিভিন্ন মক্তব্যে দু’বছর শিক্ষা লাভ শেষে ১০৬২ সালে জারকালি পণ্ডিতদের সেই গ্রুপের সদস্য মনােনীত হন। শিগগির তিনি এ গ্রুপের পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব লাভ করেন। পরবর্তী বছরগুলােয় তিনি তার নিজস্ব যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করতে শুরু করেন। অন্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অনুরােধ করলে তিনি তাদের জন্য প্রয়ােজনীয় যন্ত্রপাতি তৈরি করে দিতেন। জারকালি এত অভিজ্ঞ হয়ে উঠেন যে, তিনি তার শিক্ষকদের শিক্ষা দিতে থাকেন। এসব বিদ্বান ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করছিলেন। গ্রহ, নক্ষত্র এবং চন্দ্র ও সূর্যের দূরত্ব সম্পর্কে জারকালির গণনা তারা বিনা বাক্য ব্যয়ে গ্রহণ করতেন।

পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কুরতুবাতেই অবস্থান করেছিলেন । এরপরে তিনি তালিতা (টলেডো) চলে যান যেখানে তিনি এর সুলতান আল-মামুনের সেবায় প্রবেশ করেন।

তাঁর কাজটি ছিল আল-মামুনের জ্যোতির্বিদদের জন্য উপকরণ তৈরি করা, যারা জ্যোতির্বিদ্যায় একটি বড় গবেষণা প্রকল্পে নিযুক্ত ছিলেন।

আল-জারকালি দিন ও রাতের সময় এবং চান্দ্র মাসের দিন নির্ধারণে সক্ষম একটি জলঘড়ি নির্মাণ করেছিলেন। তিনি টলেডাে ঘড়ি নামে পরিচিত একটি বিখ্যাত জলঘড়ি নির্মাণ করেছিলেন। কবি মুসা ইবনে এজরা ঘড়িটির উদ্দেশ্যে তার একটি কবিতা উৎসর্গ করেন। কবিতার প্রথম পংক্তিতে তিনি টলেডাের ঘড়িকে জারকালির বিস্ময়কর আবিষ্কার হিসাবে মন্তব্য করেছিলেন।

কাস্টিলিয়ান অনুবাদে আল-জহুরি ঘড়িটির বর্ণনা দিয়েছেন। ১১৩৫ সাল পর্যন্ত ঘড়িটি চালু ছিল। খ্রিস্টান রাজা ষষ্ঠ আলফনসাে ঘড়িটি দেখতে পান এবং কিভাবে তা কাজ করে তা জানার চেষ্টা করেন। তারপর তিনি হামিস ইবনে জাবারাকে ঘড়িটি খুলে নেয়ার নির্দেশ দেন। ঘড়িটি খুলে ফেলার পর আর কেউ তা জোড়া লাগাতে পারেনি।

ঘড়িটিতে চান্দ্র মাসের নির্ভুল বর্ণনা ছিল। সপ্তদশ শতাব্দীতে টলেডাের জলঘড়ির আদলে ইউরােপে ঘড়ি নির্মাণ করা একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছিল। জারকালির ঘড়িতে পানির দুটি উন্মুক্ত পাত্র ছিল। চাদের হ্রাস বৃদ্ধির সঙ্গে পানির এ দুটি পাত্র খালি অথবা পূর্ণ হতাে। দিগন্তে যে মুহূর্তে নয়া চাদ উদিত হতাে ঠিক তখন ভূমির নিচে প্রােথিত পাইপের সাহায্যে পানির পাত্র দু’টিতে প্রবাহ শুরু হতাে।

প্রথম সাত দিন ও সাত রাতে পানির পাত্র দুটি অর্ধেক পূর্ণ হতাে এবং পরবর্তী সাত দিন ও সাত রাতে বাকি অর্ধেক পূর্ণ হতাে। এসময় পূর্ণিমা শুরু হতাে। চান্দ্র মাসের পনের দিনের মাথায় দিবাগত রাত থেকে পাত্র দু’টি খালি হতে শুরু করতাে। কৃষ্ণ পক্ষের চাঁদের উনত্রিশতম রাতে পাত্রে এক ফোটা পানিও অবশিষ্ট থাকতাে না।

১০৬০ সালে জারকালি জ্যোতির্বিজ্ঞানে কিভাবে জটিল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যায় তার বর্ণনা দিয়ে আল-সাফিহা আল-জারকালিয়া শিরােনামে ২৯টি গ্রহের তালিকা সম্বলিত একটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি সূর্যের গতি নিরীক্ষণে উন্নতমানের এস্ট্রোল্যাব তৈরি করেন। তার তৈরি এস্ট্রোল্যাবের নাম ছিল ‘বাের্ড জারকালি।

জারকালি উদ্ভাবিত এস্ট্রোল্যাবের প্রতি ইউরােপের গভীর আগ্রহ জন্ম নেয়। পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইউরােপে যন্ত্রটি এস্ট্রোল্যাব জারকালি নামে চালু করা হয়।


১০৮০ সালে জারকালি কালবালাযাদার (রেগুলাস) দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করেন। ১০৮৭ সালে তিনি তার জীবনে শেষবার পর্যবেক্ষণ চালান। জারকালি ছিলেন মূলত জ্যামিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে পারদর্শী। কর্ডোভায় তিনি কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। ব্যাপক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান তাকে তার সময়ের শ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিজ্ঞানী হতে সহায়তা করে।

জারকালি গ্রীক বিজ্ঞানীদের গণনাগুলাে সংশােধন করে প্রমাণ করেন, মুসলিম বিজ্ঞান গ্রীক বিজ্ঞানের অনুলিপি নয়। তিনি ভৌগােলিক উপাত্ত বিশেষ করে ভূমধ্যসাগর সম্পর্কে টলেমির গণনা সংশােধন করেন। টলেমির মতে, ভূমধ্যসাগরের দৈর্ঘ্য ৬৩ ডিগ্রি এবং আল-খাওয়ারিজমির মতে, ৫০ ডিগ্রি। জারকালি তার সৌর বর্ষ বিষয়ক গ্রন্থ ট্রাটাডাে রেলেটিভাে আল-মােভাইমেন্টো ডি লাস ইট্রেলাস ফিজাস’ (Tratado relativo al-moviemento de las etrellas fijas)-এ হিসাব করে বের করেন যে, এ সাগরের দ্রাঘিমার দৈর্ঘ্য বা মান ৪২ ডিগ্রি। একই গ্রন্থে তিনি স্থির গ্রহের ভিত্তিতে প্রথম সূর্যের সর্বোচ্চ উচ্চতা বা অপভূর (Solar Apogee) গতি প্রমাণ করেন। তিনি অপভূর গতির হার প্রতি বছর ১২.৪ সেকেন্ড পরিমাপ করেন। আধুনিক পরিমাপ হলাে ১১.৮ সেকেন্ড। তার পরিমাপ আধুনিক পরিমাপের অত্যন্ত কাছাকাছি।

জারকালি সূর্যের অপভূর দ্রাঘিমাংশের মান ৭৭ ডিগ্রি ৫ নির্ধারণ করেন। তিনি এ উপসংহারে পৌছান যে, ক্রান্তিবৃত্তের তীর্যকতা ২৩ ডিগ্রি ৩৩ এবং ২৩ ডিগ্রি ৫৩-এর মধ্যে ঘুরছে।

জারকালি বুধ গ্রহ সম্পর্কে টলেমির আরেকটি ভুল সংশােধন করেন। টলেমির জটিল মডেলে বলা হয়েছিল, বুধের ডিফারেন্টের কেন্দ্র একটি দ্বিতীয় এপিসাইকেল বা ক্ষুদ্রতর বৃত্তের ভেতর ঘুরছে। কিন্তু জারকালি বলেন, দ্বিতীয় এপিসাইকেল কোনাে বৃত্ত নয়। বরং তা প্রায় গােলাকার এবং একটি ফলের বীচির মতাে।

সৌরজগৎ সংক্রান্ত জারকালির মডেলে বলা হয়, সূর্যের ডিফারেন্টের কেন্দ্র একটি ক্ষুদ্র ও ধীর গতিতে আবর্তনশীল বৃত্তের ভেতর ঘুরছে। তার এ মডেল নিয়ে ত্রয়ােদশ শতাব্দীতে ভার্দুনের বার্নার্ড এবং পঞ্চদশ শতাব্দীতে জার্মান গণিতজ্ঞ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী রিগিওমন্টানাস এবং অস্ট্রীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী জর্জ ভন পিয়ুরবাচ আলােচনা করেন। ষােড়শ শতাব্দীতে পােলিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী কোপানিকাস তার ‘ডি রেভলিউশনিবাস অরবিয়াম কোয়েলেস্টিয়াম’ (De Revolutionibus Orbium coelestium)-এ জারকালির মডেল ব্যবহার করেন এবং এস্ট্রোল্যাব সংক্রান্ত গ্রন্থ প্রণয়নে ব্যাপকভাবে তার সহায়তা গ্রহণ করেন।এই বইয়ে নিকোলাস কোপারনিকাস আল-জারাকালি ও আল-বাত্তানির রচনা উদ্ধৃত করেছেন ।

তিনি রেগুলাসের দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণ করেছিলেন।sine, cosines, versed sines, secants and tangents এর উন্নত ত্রিকোণমিতিক সারণী উপস্থাপন করেছেন।এছাড়াও তিনি ১৩.১৩ “এবং ১৩.৫” এর মধ্যে গ্রহণের ঘনত্বের গণনা করেছেন।

আল-জারকালি শুধু তত্ত্বগতভাবে একজন বিজ্ঞানী ছিলেন তাই নয়, তিনি ছিলেন একজন আবিষ্কারক। তার আবিষ্কার ও কর্ম টলেডােকে আল-আন্দালুসের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্রে পরিণত করে। জারকালি জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক এস্ট্রোল্যাব যন্ত্র তৈরি করেছিলেন। তার এ যন্ত্র ছিল সবচেয়ে আধুনিক ও নির্ভুল।

এ এস্ট্রোল্যাব যন্ত্রটি বেশ কয়েকটি কাজে ব্যবহার করা যেতাে। সুনির্দিষ্ট ভৌগােলিক অক্ষাংশ নির্ধারণে বিষুব রেখা, অয়নান্ত বৃত্ত ও দিগন্তের নকশাসহ প্ল্যানিসফেয়ার এস্ট্রোল্যাবের সন্মুখভাগে রাশিচক্রের একটি বৃত্ত ও পাত (সাফিয়া অথবা আজাফা) ছিল। এ যন্ত্রের সাহায্যে বৃত্তাকার জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেয়া সম্ভব হয় এবং দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়।


তিনি আরেক ধরনের এস্ট্রোল্যাব যন্ত্রও তৈরি করেন। তার উদ্ভাবিত যন্ত্রটি ইউরােপে সাফিয়া নামে অত্যন্ত সুপরিচিত ছিল। তার সংশােধিত এস্ট্রোল্যাব সূর্যের গতি পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হতাে। জারকালির যন্ত্রপাতিগুলাে ছিল খুবই পরিচিত।এটি নক্ষত্রের উচ্চতা এবং অবস্থান সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হতো। এই ডিভাইসের বিবরণ হিব্রু এবং লাতিন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল।

১৫৩৪ সালে নুরেমবার্গের জোহান স্কোনার এসব যন্ত্রপাতির বিবরণ সম্বলিত জারকালির একটি বই ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করেন।

জারকালির ৭টি গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। তার প্রথম গ্রন্থটির নাম টেবলস অব টলেডাে (Tables of Toledo) বা টলেডাের তালিকা। বইটির মূল আরবী সংস্করণ হারিয়ে গেলেও দুটি ল্যাটিন অনুবাদ টিকে রয়েছে।



প্রথম অনুবাদ কর্মটি হলাে ক্রিমােনার গেরার্ডের এবং দ্বিতীয় অনুবাদ কর্মটি সেভিলের জনের। জনের অনুবাদ গেরার্ডের চেয়ে ছােট। টলেডাে টেবলস’ ল্যাটিন বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

১১৪০ সালে টলেডাে টেবলস’ অবলম্বনে মার্সেলিস টেবলস’ রচনা করা হয়। দ্বাদশ শতাব্দী নাগাদ গ্রন্থটি গােটা ইউরােপে ছড়িয়ে পড়ে। জারকালি একটি আলমানাক প্রণয়ন করেছিলেন। এ আলমানাকে বহু তালিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এসব তালিকা দেখে যে কেউ কপটিক, রােমান, চান্দ্র ও পার্সী মাসের দিন তারিখ খুঁজে বের করতে পারতাে। অন্যান্য তালিকায় গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান প্রদর্শন করা হয়।

জারকালির আলমানাকে ১০৮৮ থেকে ১০৯২ সাল পর্যন্ত চারটি সৌর বর্ষে সূর্যের সত্যিকার দৈনিক অবস্থান এবং ৮ বছর সময়ে প্রতি পাঁচ বা দশ দিনে পাঁচটি গ্রহের সত্যিকার অবস্থান নির্দেশ করা হয়। দ্বাদশ শতাব্দীতে ক্রিমানার গেরার্ড জারকালির গ্রন্থটি ল্যাটিনে অনুবাদ করেন এবং এ গ্রন্থ খ্রিস্টান ইউরােপে গণিতভিত্তিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের পুনর্জন্ম দেয়। আল-জারকালি প্রণীত ‘আল-সাফিহা আল-জারকালিয়া’ (Azafea) একটি জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক রচনা।

জারকালির ট্রাটাডাে রিলেটিভাে আল-মােভাইমেন্টো ডি লাস ইট্রেলাস ফিজাস গ্রন্থটি কেবলমাত্র স্যামুয়েল বেন ইয়াহুদার একটি হিব্রু অনুবাদের মধ্য দিয়ে টিকে রয়েছে। ২৫ বছরের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বইটি লিখা হয়।

১০৭৮ সালের আগে ট্রাটাডাে’র একটি খসড়া টলেডাের শাসক আল-মামুনকে উৎসর্গ করা হয়েছিল। খসড়াটির নাম ছিল আজাফিয়া মামুনিয়া’। এ বইটি দশম আলফনসাের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। তবে আল-মুতামিদ ইবনে আব্বাদের নামে উৎসর্গীকৃত আজা পিয়া আব্বাদিয়া’ পরবর্তীকালে দুটি সংস্করণে প্রকাশিত হয়। বৃহৎ সংস্করণে ছিল এক শ অধ্যায়। দশম আলফনসাের দরবারে কাস্টিলিয়ান ভাষায় বইটির অনুবাদ করা হয়। ল্যাটিন বিশ্বে বইটি সামান্য প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়। ৬০ অধ্যায়ের দ্বিতীয় সংস্করণটি জ্যাকব ইবনে তিব্বনের মাধ্যমে অন্য চিন্তাবিদের কাছে পৌছে। জারকালি তার ট্রাটাডাে’র মাধ্যমে গাণিতিকভাবে ট্রেপিডেশন থিওরি (Trepidation theory) প্র করার চেষ্টা করেছেন। ট্রেপিডেশন থিওরি অনুসারে স্থির গ্রহগুলাের গােলকের গতি একটি সরল রেখার গতির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

জারকালি তিনটি মডেল অনুসারে এ তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। বইটির একটি অনুচ্ছেদে ত্রিকোণমতি নিয়ে আলােচনা করা হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে সাইন, কোসাইন, সিকান্ট ও টানজেন্টের কয়েকটি তালিকা স্থান পেয়েছে। গ্রন্থটি ১১৫৪ সালে পাতিয়ার ইতালীয় জন, ১২৯৬ সালে উইলিয়াম ডি সেন্ট ক্লাউড ল্যাটিন এবং ১৩০১ সালে জ্যাকব ইবনে তিব্বন হিব্রু ভাষায় অনুবাদ করেন। এছাড়া পর্তুগীজ, কাটালান ও কাস্টিলিয়ান ভাষায়ও গ্রন্থটি অনুবাদ করা হয়। ফার মাউন্টপিলারের একজন ইহুদী জারকালির রচিত আল-সাফিহা আল-জা ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করেন। জারকালি টলেমির মডেলের এপিসাইকে করে গ্রহগুলাের অবস্থান পরিমাপে ইকুয়াটরিয়াম’ (Equatorium) নামে একটি যন্ত্র নির্মাণে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। ত্রয়ােদশ শতাব্দীতে রাজা দশম আলফনসাের নির্দেশে এ দু’টি গ্রন্থ ‘লাইব্রোস ডি লাস লামিনাস ডি লস ভি প্লানেটাস’ (Libros de las laminas de los vii planetas) শিরােনামে স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করা হয়। রিগিওমন্টানাস জারকালির এস্ট্রোল্যাবের কার্যকারিতার বিবরণ প্রকাশ করার জন্য তার একটি বই অনুবাদ করেন।

আল-জারকালি ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী বিজ্ঞানী। তার টলেডাে টেবলস খ্রিস্টান ইউরোপে কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করেছে। টলেডাে টেবলসে রাইট এসেনশন্স, চন্দ্র, সূর্য ও গ্রহের ইকুয়েশন, লম্বন, প্রহণ, গ্রহের অন্ত, থিওরি অব ট্রেপিডেশন, একশেসন ও রেসিশন ইত্যাদি নিয়ে আলােচনা করা হয়েছে। জারকালির পরিমাপের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ইউরােপের বিভিন্ন স্থানের তালিকা করা হয়। তার তালিকার ভিত্তিতে প্রথম মার্সেলিসের রেমন্ড একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রণয়ন করেন।

ত্রয়ােদশ শতাব্দীতে অস্ট্রীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী লিওপােন্ড ‘কম্পাইলেশিও ডি এস্ট্রোনাম সায়েনশিয়া (Compilatio de astronum scientia) শিরােনামে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। ১০ খণ্ডে বিভক্ত এ বইটি লিখার জন্য লিওপােন্ড জারকালির কাছে বহুলাংশে ঋণী। খ্রিস্টান রাজা দশম আলফনসাে জারকালির গ্রন্থ অনুসরণে ‘টেবলাস আলফনসিনাস’ (Tablas alfonsinas) শিরােনামে একটি গ্রন্থ লিখেন। ১১৪৯ সালে চেস্টারের রবার্টের একটি গ্রন্থ সংকলিত হয়। এ বইটি তিনি লিখেছিলেন আল- জারকালির জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক তালিকা অবলম্বনে।

জারকালির গ্রন্থাবলী ইবনে বাজ্জাহ, ইবনে তােফায়েল, ইবনে রুশদ, ইবনে আল- কামাদ, ইবনে আল-হাইম আল-ইশবিলি, আবু হাসান আল-মারাকাশি, ইবনে আল- বান্না ও নূরুদ্দিন আল-বিক্ৰজির মতাে মুসলিম বিজ্ঞানীদের গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তার গ্রন্থ ষােড়শ এমনকি সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরােপে মুদ্রিত হয়। ষােড়শ শতাব্দীতে অভিযাত্রীরা অক্ষাংশ নির্ধারণে ইউরােপীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী আব্রাহাম যাকুটের সৌর ডেক্লিনেশন তালিকা ব্যবহার করতেন। এই আব্রাহাম যাকুট গ্রহ, নক্ষত্র ও সৌরমণ্ডলীর গতি সম্পর্কে জারকালিকে অনুসরণ করেছেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানে আল-জারকালির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৩৫ সালে তার নামে চাঁদের একটি গহ্বরের(Arzachel) নামকরণ করা হয়। ১৮ দশমিক ২ এস দ্রাঘিমাংশ এবং এক দশমিক ৯ ডব্লিউ অক্ষাংশে আরজাচেল গহ্বরের দৈর্ঘ্য ৯৬ দশমিক শূন্য পাঁচ কিলােমিটার।

তিনি 1087 খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।

 

## আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।
## ক্রয়, বিক্রয়, ভাড়া, অদল-বদল, দান করার জন্য ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।
## ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে চাইলে ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।