Friday, May 27, 2022

প্রাচীন মুসলিম ঐতিহ্যের শহর।
প্রাচীন মুসলিম ঐতিহ্যের শহর

ইতিহাস থেকে জানা যায় ইসলাম আগমনের আগে আরবীয়রা উট ও ভেড়ার লোম দিয়ে তৈরি তাঁবুতে বসবাস করতেন। ইসলামের আবির্ভাবের পর আরব স্থাপত্যে নতুন যুগের সূচনা হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন পবিত্র ও ধ্রপদি এক সভ্যতার জনক।  মানুষের কল্যাণের পথে প্রতিটি পদে পদে তিনি আলোর মশাল জ্বালিয়েছেন।  এঁকেছেন এক নতুন পৃথিবীর মানচিত্র।

মুসলমানদের পবিত্রতম নগরী মক্কা

মক্কা নগরীকে বলা হয় ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্রতম নগরী। ইসলামের ইতিহাসের সূচনালগ্নে এই শহরটির নাম জড়িয়ে আছে অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে। এই শহরে মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম এবং এখানেই তিনি কোরআনের প্রথম ওহি লাভ করেন। (বিশেষভাবে, হেরা গুহায় যা শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে)। এখানেই পবিত্র কাবা শরিফ অবস্থিত। মুসলমানরা প্রতি বছর হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য এখানে আসেন। মক্কার প্রাণকেন্দ্র এই কাবা শরিফ ঘিরেই গড়ে উঠেছে শহরটি। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী কাবা হলো মুসলমানদের কেবলা। মুসলমানরা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের সময় এই কাবার দিকে মুখ ঘুরিয়ে রাখেন। এটি মুসলমানদের প্রার্থনার দিকনির্দেশ করে। ইসলাম প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই শহর মুসলমানরাই শাসন করে আসছে। ১৯২৫ সালে বাদশাহ ইবনে সৌদ সৌদি আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর থেকে সৌদ বংশ মক্কার দায়িত্ব পালন করে আসছে। আধুনিক যুগে এসে শহর বহুগুণ সম্প্রসারিত হয়েছে। পরিবর্তন এসেছে অবকাঠামো, রাস্তাঘাট, নাগরিক সুবিধা ইত্যাদির। বিশ্বের চতুর্থ উচ্চতম ভবন মক্কা রয়েল ক্লক টাওয়ার এই শহরেই অবস্থিত। উক্ত ভবনের মেঝের আয়তন সারা বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম। শহর সম্প্রসারণের কারণে অনেক ঐতিহাসিক কাঠামো এবং প্রত্নতাত্তি¡ক নিদর্শন, যেমন আজিয়াদ দুর্গ হারিয়ে গেছে। প্রতি বছর ১৫ মিলিয়ন মুসলমান মক্কা শহর ভ্রমণ করেন। ফলশ্রুতিতে শহরটি সারা বিশ্বের অন্যতম প্রধান বিশ্বজনীন শহরে পরিণত হয়েছে।  গোটা বিশ্ব থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এখানে আসেন সারা বছরই।

 

স্পেনের শেষ মুসলিম সাম্রাজ্য গ্রানাডা

স্পেনের শেষ মুসলিম সাম্রাজ্য গ্রানাডা। ১১০০ শতকের শুরুর দিকে স্পেনে মুসলমানদের জয়গাথা স্তিমিত হয়ে আসতে থাকে। এক সময় শেষ মুসলিম সাম্রাজ্য হিসেবে গ্রানাডাই টিকে ছিল। রিকনকুইস্তার সময় আল-আন্দালুসিয়ার উত্তর দিক থেকে আসা হানাদার খ্রিস্টান রাজ্যগুলোর হাতে একের পর এক মুসলিম রাজ্যগুলোর পতন হতে থাকে। কর্ডোভা, সেভিয়া এবং টলেডোর মতো বড় বড় শহরগুলোর পতন হয় ১১০০ থেকে ১৩০০ শতকের মধ্যে। একটিমাত্র মুসলিম রাজ্য গ্রানাডা ১৩০০ শতকে খ্রিস্টানদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিল। ১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে কর্ডোভার পতনের পর গ্রানাডা আমিরাতের শাসকরা শক্তিশালী খ্রিস্টান ক্যাস্টিলে সাম্রাজ্যের সঙ্গে এক বিশেষ চুক্তিস্বাক্ষর করেন। অর্থাৎ তারা ‘গ্রানাডা আমিরাত’ হিসেবে স্বাধীন থাকার অনুমতি পেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ক্যাস্টিল সাম্রাজ্যের আক্রমণের মুখোমুখি না হওয়ার শর্তে ক্যাস্টিলে সাম্রাজ্যের কাছে কর প্রদান করতে হয়েছিল। এ কর প্রদান করতে হতো প্রতি বছর স্বর্ণমুদ্রা হিসেবে। এ ছাড়া গ্রানাডা আমিরাতের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকার পেছনে অন্য কারণগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে এর ভৌগোলিক অবস্থান। গ্রানাডা দক্ষিণ স্পেনের সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালার মধ্যে অনেক উঁচু স্থানে অবস্থিত, যা আক্রমণকারী বহিঃশক্তির জন্য অনেক কঠিন ছিল। এ প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা গ্রানাডার জন্য শক্তি হিসেবে কাজ করত। এ কারণে খ্রিস্টান ক্যাস্টিলে সাম্রাজ্যের চেয়ে সামরিক শক্তির দিক দিয়ে দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও এ প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা গ্রানাডাকে দিয়েছিল আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে বিশাল এক সুবিধা। প্রায় ২৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গ্রানাডা টিকে ছিল স্পেনের শেষ মুসলিম রাজ্য হয়ে।

 

চীনের মসজিদের শহর ছিল সুজু

চীনে ইসলামের ইতিহাস অনেক পুরনো। টাং রাজবংশের শাসনামলে চীনে ইসলাম প্রবেশ করে। তবে চীনে ইসলাম আগমনের সঠিক সময় নিয়ে দুটি মত পাওয়া যায়। কেউ কেউ বলেন, মুহাম্মদ (সা.) এর জীবদ্দশায় ৬২০ খ্রিস্টাব্দে চীনে ইসলাম প্রবেশ করে। বলা হয়ে থাকে চীনের হারিয়ে যাওয়া মসজিদের শহর সুজু। চীনের এই বিখ্যাত বাণিজ্যিক নগর সুজু শহর খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ শতাব্দীতে স্থাপিত হয়েছিল। দেশটির পূর্বাঞ্চল সাংহাইয়ের পার্শ্ববর্তী জিয়াংসু প্রদেশে অবস্থিত এশিয়ার দীর্ঘতম ইয়াংজির নদী। এর অববাহিকায় গড়ে উঠেছে সুজু শহর। অসম্ভব সুন্দর প্রাকৃতিক নদ-নদী আর ঝরনায় ভরপুর এই শহর। এর নান্দনিক দৃশ্যে মুগ্ধ হয়ে ঘুরতে আসেন বিশ্বের নানা দেশের পর্যটকরা। প্রাচীন সুজু শহরে এখন ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। সাংহাই থেকে দ্রুতগতির ট্রেনে আসতে মাত্র ২০ মিনিটের পথ। এক সময়ের মুসলমানদের শহর হিসেবে পরিচিত সুজু শহরে এখন কেবল একটি মাত্র মসজিদ বিদ্যমান। অথচ একটা সময় এই শহর ছিল মসজিদে পরিপূর্ণ। বিভিন্ন পাথরের ফলক, সম্রাটদের নথি ও লিখিত দলিল থেকে বোঝা যায়, তৎকালীন মুসলিমরা চীনা রাজবংশের সম্রাটদের শাসনকাল দেখেছেন। বিশেষত তাং রাজবংশ, ইউয়ান রাজবংশ, মিং রাজবংশ, কিন রাজবংশ ইসলামের প্রতিনিধিদের অত্যন্ত সম্মান করতেন। ইসলামের নৈতিক শিক্ষার প্রভাবে সম্রাটরা মুসলমানদের শ্রদ্ধা করতেন। তাছাড়া সাম্রাজ্যে বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস তাদের পছন্দনীয় ছিল।

 

ইস্তাম্বুল ছিল অনেক শক্তিশালী সাম্রাজ্যের রাজধানী

ইস্তাম্বুল বিশ্বের একমাত্র নগরী যেটি একই সঙ্গে দুটি মহাদেশের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। এটি তুরস্কের উত্তর-পশ্চিম ভাগে অবস্থিত বৃহত্তম নগরী ও প্রধান সমুদ্রবন্দর। আঙ্কারা শহরটি তুরস্কের প্রশাসনিক রাজধানী হলেও ইস্তাম্বুল আজও দেশটির ইতিহাস, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এটি প্রাচীনকালে বাইজেন্টাইন ও কনস্টান্টিনোপল নামে পরিচিত ছিল। এই ঐতিহাসিক নগরীটি ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশকে পৃথককারী এবং কৃষ্ণ সাগর ও মারমারা সাগরকে সংযুক্তকারী সরু বসফরাস প্রণালিটির পূর্ব ও পশ্চিম অংশ জুড়ে অবস্থিত। ইস্তাম্বুল প্রায় ১৬ শতক ধরে ধারাবাহিকভাবে অনেক শক্তিধর সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। তার মধ্যে উসমানীয় সাম্রাজ্য (১৪৫২-১৯২২) ছিল অন্যতম। এ সময় এখানে মুসলমানদের নগরী হয়ে ওঠে। এই শহরে রয়েছে বহু ইসলামিক নিদর্শন। বর্তমানে  ইস্তাম্বুলে ১ কোটি ৫০ লাখেরও অধিক অধিবাসীর বাস যা তুরস্কের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।  শহরের ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রসহ দুই-তৃতীয়াংশ অধিবাসীর বাসস্থান ইউরোপীয় অংশে অবস্থিত।

 

ঐতিহাসিক নগরী সাবতা

মরক্কোর ঐতিহাসিক নগরী সাবতা। বর্তমান নাম সিউটা। ছয় শতাব্দীকাল ধরে সাবতায় স্পেনের উপনিবেশ। স্পেনীয়রা এর নাম বদলে রাখে সিউটা। মরক্কোর দেশীয় মিডিয়াগুলো এই উপনিবেশকে স্পেনীয় ছিটমহল বলে প্রচার করে। মরক্কোর অবিচ্ছেদ্য অংশ সাবতার ইতিহাস কোনোক্রমেই মুসলিম আন্দালুস ও মরক্কোর ইতিহাস থেকে ভিন্ন নয়। মুসলিম শাসনামলে সাবতা অত্যন্ত সমৃদ্ধিশালী ছিল। এতে ছিল সহস্রাধিক মসজিদ, জ্ঞান-বিজ্ঞানের জগদ্বিখ্যাত অনেক মহাবিদ্যালয়। আর সমৃদ্ধ বহু সংখ্যক পাঠাগার। এখন যদিও পুরো শহরটিতে মাত্র পাঁচটি মসজিদ রয়েছে। ইসলামী স্থাপত্য বলতে আট দশক আগের মাওলা আল-মাহদি মসজিদ, রাজকীয় নগরপ্রাচীর আর কিছু জীর্ণ দুর্গ ও গোসলখানা অবশিষ্ট রয়েছে। এগুলোও বর্তমানে অযত্নে-অনাদরে ধ্বংসপ্রায়। মুরাবিত, মুওয়াহহিদ ও আলমারিনিরা এটি শাসন করেছে শত শত বছর। একসময় আন্দালুসে মুসলিম শাসন দুর্বল হয়ে পড়লে ১৪১৫ সালে পর্তুগিজরা শহরটি দখলে নিয়ে নেয়।

 

ইরাকের শহর কুফা

হজরত উমর (রা.) এর খিলাফতের সময় কুফানগরীর  গোড়াপত্তন হয়। কুফা বর্তমান ইরাকের একটি শহর। শহরটি বাগদাদ হতে ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং নাজাফ হতে ১০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে ইউফ্রেটিস নদীর তীরে অবস্থিত। ২০০৩ সালে শহরটির আনুমানিক জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ১০ হাজার। সামাররা, কারবালা, খাদিমিয়া, নাজাফ এই চারটি ইরাকি শহরের সঙ্গে কুফা শহরটিও শিয়া মুসলিমদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। উমর (রা.)-এর খিলাফতের সময় এ শহরটি গড়ে ওঠে। এই নগরী ছিল ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলী (রা.)-এর রাজধানী। এ শহরে রয়েছে সপ্তম শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত ইসলামের প্রারম্ভিক কালের একটি মসজিদ। যা মসজিদ আল-কুফা নামে পরিচিত।

Thursday, May 26, 2022

কিভাবে ইউটিউব লাইভ করবেন?

বর্তমানে লাইভস্ট্রিম অডিয়েন্স এনগেজমেন্ট এর একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। বিশেষ করে ইউটিউবে যেকোনো ধরনের লাইভস্ট্রিম করা যায়, যা অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছে যায় বেশ অল্প সময়ের মধ্যে। সাধারণ আপলোড এর চেয়ে লাইভস্ট্রিম আরও বেশি উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ায় ইদানিং কমবেশি সবাই লাইভস্ট্রিম দেখে থাকেন।

প্রতি মিনিটে যেখানে ইউটিউবে ৫০০ঘন্টা বা তার বেশি ভিডিও আপলোড হয়, সেখানে ভিউয়ার নিজের দখলে রাখতে ইউটিউব লাইভ এর মত ফিচার বেশ কাজে আসতে পারে। সাধারণ গেমিং সেশন থেকে লাইভ প্রশ্নোত্তর পর্যন্ত অসংখ্য ধরনের বিষয়ের উপর ভিত্তি করে লাইভস্ট্রিম করা যায়। এই পোস্টে ইউটিউব লাইভ সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন।

ইউটিউব লাইভ কি?

ইউটিউব লাইভ হলো ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব এর লাইভস্ট্রিম করার ফিচার। টুইচ এর পর ইউটিউব হলো দ্বিতীয় অধিক জনপ্রিয় লাইভস্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম। টুইচ মূলত গেমিং এর জন্য সুপরিচিত হলেও ইউটিউবে সকল ধরনের লাইভস্ট্রিম হয়ে থাকে।

ইউটিউব লাইভ ফিচারটি ২০১১সালে অফিসিয়ালি লঞ্চ করা হয়। প্রথমে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু পার্টনার ব্যবহার করতে পারতো লাইভ সুবিধা। বর্তমানে ১,০০০ বা তার বেশি সাবস্ক্রাইবার আছে এমন যেকোনো চ্যানেল ইউটিউবে লাইভস্ট্রিম করতে পারে।৩০% এর অধিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রতি সপ্তাহে একটি হলেও লাইভস্ট্রিম দেখেন, এর মানে হলো লাইভস্ট্রিম এর মাধ্যমে অগণিত মানুষের কাছে বেশ সহজে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।

ইউটিউব লাইভ এর সুবিধা

অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা হিসেবে তুলে ধরতে ইউটিউব লাইভস্ট্রিম ফিচার ব্যবহার করতে পারেন। যেসব কারণে ইউটিউব লাইভ ফিচারটি ব্যবহার করা যাবে সেগুলো হলোঃ

  • ভিডিওকে ইভেন্টে পরিণত করা যায়
  • অপেক্ষাকৃত বৃহৎ অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছানো যায়
  • ভিউয়ারদের সাথে রিয়েল-টাইমে সংযোগ স্থাপন করা যায়
  • লাইভস্ট্রিম টুলস এর সাহায্যে বেশ সহজে অসাধারণ ভিডিও এক্সপেরিয়েন্স তৈরী করা যায়।

ইউটিউবে লাইভস্ট্রিম করার নিয়ম

এবার প্রশ্ন হচ্ছে ইউটিউবে কিভাবে লাইভস্ট্রিম করতে হয়। প্রথমে আমরা লাইভস্ট্রিম ফিচার চালু করা শিখবো, এরপর মোবাইল ও কম্পিউটার থেকে ইউটিউবে কিভাবে লাইভস্ট্রিম করতে হয় তা জেনে নিবো।

লাইভস্ট্রিম ফিচার চালু করার নিয়ম

ইউটিউবে লাইভস্ট্রিম করতে চাইলে প্রথমে ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফাই করতে হবে। ঘাবড়ে যাবেন না, এখানে ইউটিউব ভেরিফিকেশন ব্যাজ এর কথা বলা হচ্ছেনা। ইউটিউবে ফোন নাম্বার দ্বারা বেশ সহজে চ্যানেল ভেরিফাই করা যাবে।

ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফাই করতে www.youtube.com/verify লিংকে প্রবেশ করে ফোন নাম্বার প্রদান করুন ও ফোনে আসা ভেরিফিকেশন কোড প্রদান করে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন। ভেরিফিকেশনের পর পরবর্তী ২৪ঘন্টার মধ্যে আপনার ইউটিউব চ্যানেলে লাইভস্ট্রিম ফিচারটি চালু হয়ে যাবে। ফিচারটি চালু করার পর যেকোনো এমাউন্টের সাবস্ক্রাইবার থাকলে ডেস্কটপ থেকে লাইভস্ট্রিম করা যাবে। তবে মোবাইল থেকে পুরোদমে লাইভস্ট্রিম করতে চাইলে কমপক্ষে ১,০০০সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে। ৫০+ সাবস্ক্রাইবার নিয়েও মোবাইল থেকে ইউটিউব লাইভ করা যাবে, তবে সেক্ষেত্রে ভিউয়ার লিমিটেশন আসতে পারে।

এবার আমরা জেনে নিবো কিভাবে ডেস্কটপ ও মোবাইলে লাইভস্ট্রিম ফিচারটি ব্যবহার করতে হয়।

ডেস্কটপ

  • www.youtube.com/dashboard লিংকে প্রবেশ করুন (ইউটিউবে সাইন ইন করতে হবে)
  • ডানদিকের টপ কর্নারে থাকা Create বাটনে ক্লিক করুন
  • এরপর Go Live অপশন সিলেক্ট করলে Youtube Live Control Room দেখতে পাবেন
  • এরপর আপনার সুবিধামত লাইভস্ট্রিম সেটিং করে ইউটিউবে লাইভ করতে পারবেন
  • আপনার ওয়েবক্যাম দ্বারা লাইভস্ট্রিম করতে চাইলে বামদিকে থাকা ওয়েবক্যাম সিলেক্ট করুন
  • এরপর টাইটেল, ডেসক্রিপশন ও প্রাইভেসি সেট করুন
  • More Options > Advanced Settings এ প্রবেশ করুন আরো সেটিংস এর জন্য
  • Next এ ক্লিক করে ক্যামেরা দ্বারা থাম্বনাইল সেট করুন
  • ঠিক মাইক্রোফোন ও ওয়েবক্যাম সিলেক্ট করা আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন
  • Go Live এ ক্লিক করে লাইভস্ট্রিম শুরু করুন
  • Edit অপশনে ক্লিক করে প্রাইভেসি, মনিটাইজেশন, লাইভ চ্যাট, ট্যাগ, ইত্যাদি সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন
  • End Stream এ ক্লিক করে লাইভস্ট্রিম শেষ করতে পারবেন

মোবাইল

  • ইউটিউব অ্যাপে প্রবেশ করুন
  • অ্যাপের বোটমে থাকা প্লাস আইকনে ট্যাপ করুন
  • এরপর Go Live সিলেক্ট করুন
  • এরপর ভিডিও টাইটেল, এজ রেস্ট্রিকশন, লাইভ চ্যাট, ইত্যাদি ফিচার এডজাস্ট করুন
  • পরবর্তী স্ক্রিনে থাকা Go Live অপশনে ট্যাপ করে লাইভ শুরু করুন
  • স্ট্রিম শেষ করতে Finish অপশনে ট্যাপ করুন

কম্পিউটার ও মোবাইল থেকে লাইভস্ট্রিম এর অনেক মাধ্যম রয়েছে। আপনি চাইলে সরাসরি ডিভাইসের বিল্ট-ইন ক্যামেরা দ্বারা লাইভস্ট্রিম করতে পারবেন। আবার চাইলে এক্সটারনাল ক্যামেরা দ্বারাও লাইভস্ট্রিম করা যাবে। এছাড়া চাইলে OBS Studio এর মত প্রোগ্রাম ব্যবহার করে স্ক্রিন শেয়ার করে অসাধারণ লাইভস্ট্রিম সেশনও হোস্ট করা যাবে।

Wednesday, May 25, 2022

কিভাবে আপনার পছন্দের ইউটিউব ভিডিওর ট্যাগ বের করবেন?

আজ আমরা জানবো কিভাবে আপনি আপনার পছন্দের ইউটিউব ভিডিওর ট্যাগ বের করবেন? আজকের পোস্টটি যারা ইউটিউব ভিডিও তৈরি করেন তাদের জন্য উপকারি।

চলুন শুরু করা যাক।

প্রথমে Play Store এ গিয়ে Tag You লিখে সার্চ দিন। এরপর নিচের এপটি ডাউনলোড করে ওপেন করুন।

ওপেন করার পর Get Tags From Url এ ক্লিক করুন।



এরপর আপনার ভিডিও লিংকটি পেস্ট করুন এখানে।

এরপর ভিডিওতে দেওয়া ট্যাগগুলো দেখতে পাবেন।



কপি করার জন্য উপরের দেখানো জায়গায় ক্লিক করুন।

এছাড়াও ভিডিও Rank করার জন্য এপটিতে আরো অনেক ফিচার আছে। এপটি ব্যবহার করলেই বুঝতে পারবেন।

Tuesday, May 24, 2022

পুরাতন এন্ড্রয়েড ফোনের দারুণ কিছু বিকল্প ব্যবহার জানুন।

প্রতিবছর স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানিগুলো অসংখ্য নতুন অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট বাজারে নিয়ে আসেন। এই ব্যাপারটি গ্রাহকদের জন্য সুবিধার, তবে নিজের পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনের কোনো সুরাহা করতে পারেন না অনেকে।

নতুন ফোন কেনার আগে পুরোনো ফোন কি কাজে ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে চিন্তা করা উচিত। আপনি যদি আপনার ফোন বিক্রি করতে না চান, সেক্ষেত্রে পুরোনো ফোন এর কোনো ব্যবহার চিন্তা করা উচিত। এই পোস্টে পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন কি কি কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে সে সম্পর্কে জানবেন।

সিকিউরিটি ক্যামেরা

পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে আপনার ঘরের সিকিউরিটি ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। মূলত অ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজে অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে সিকিউরিটি ক্যামেরা (সিসিটিভি) তে রুপান্তর করা যাবে। ঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে সিকিউরিটি ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার বেশ কাজে আসতে পারে। আবার ঘরে থাকা ইন্টারনেট সংযোগ এর সাহায্যে যেকোনো স্থান থেকে এই ক্যামেরা অ্যাকসেস করা যাবে।

কন্ট্রোলার

ডিসপ্লের সাথে কানেক্ট করে পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে ওয়্যারলেস ট্র‍্যাক প্যাড হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ক্ষেত্রেও আপনার প্রয়োজন হবে একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ এর, যা দুইটি ওয়্যারলেস ডিভাইসকে একসাথে সংযুক্ত করবে। একেকটি ফোনে একেক অ্যাপ ভালোভাবে কাজ করতে পারে, তাই কোন অ্যাপটি আপনার ডিভাইসের সাথে কাজ করে তা পরীক্ষা করে খুঁজে বের করতে হবে।

রিমোট

আপনার বাসায় যদি স্মার্ট টিভি বা গুগল ক্রোমকাস্টযুক্ত কোনো টিভি থাকে, তবে পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে ওয়্যারলেস স্মার্ট রিমোট ও মিডিয়া ন্যাভিগেশন সিস্টেম হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন। একইভাবে ফোনকে স্মার্ট ওয়্যারলেস রিমোটে পরিণত করতে অ্যাপের সাহায্য নিতে হবে। তবে আপনার কাছে যদি শাওমির ফোন থাকে, তবে বিল্ট-ইন Mi Remote অ্যাপ দ্বারা একই কাজ করা যাবে। আবার গুগল হোম অ্যাপের মাধ্যমে গুগল ক্রোমকাস্ট এর সাথে পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে যুক্ত করে মিডিয়া ন্যাভিগেট করা যাবে।

ডিজিটাল ফটো ফ্রেম

আপনার পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে ডিজিটাল ফটো ফ্রেম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এই কাজে Fotoo অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারেন। এই অ্যাপটি স্লাইডশো আকারে পুরোনো ফোনে ছবি দেখানোর কাজে আসে। এই অ্যাপটি ব্যবহার করে ফটো গ্যালারির পাশাপাশি গুগল ফটোস, ড্রপবক্স, গুগল ড্রাইভ, মাইক্রোসফট ওয়ানড্রাইভ, ইত্যাদি ক্লাউড সার্ভিস থেকেও ছবি ফোনের স্ক্রিনের প্রদর্শন করা যাবে।

ই-রিডার

পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন বা ট্যাবলেটকে ই-রিডার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ই-রিডার বা ই-বুক রিডার হলো একটি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস যা দ্বারা ই-বুক পড়া যায়। বর্তমানে সকল স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট পিডিএফ ফাইল সাপোর্ট করে, যার ফলে এসব ডিভাইসে ই-বুক পড়া বেশ সহজ। আবার অ্যামাজন কিন্ডল, বইটই এর মত অ্যাপ ব্যবহার করে এসব ডিভাইসে বেশ সহজে বই পড়া যেতে পারে।

স্মার্ট ড্যাশ সিস্টেম

অ্যান্ড্রয়েড অটো নামে গুগল এর একটি অ্যাপ আছে যা কারের সাথে ব্যবহার করা যায়। এই অ্যান্ড্রয়েড অটো অ্যাপ একটি স্মার্ট ড্রাইভিং কম্পানিয়ন অ্যাপ যা ড্রাইভারদের ফোকাসড ও গুগল অ্যাসিস্টেন্টের সাথে যুক্ত থাকার সুবিধা প্রদান করে।

ড্রাউভিং করার সময় ও অ্যান্ড্রয়েড অটো ফিচার ব্যবহারের সময় ফোন হোল্ডার ব্যবহার করুন। ম্যাপ দেখার পাশাপাশি ড্যাশ ক্যাম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে। এছাড়া মিডিয়া প্লেয়ার হিসেবেও পুরোনো ফোন ব্যবহার করা যেতে পারে।

টেস্টিং

আপনার পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা চালাতে পারেন। যেহেতু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কাস্টমাইজেশন ও পারসোনালাইজেশন এর অঢেল সুযোগ রয়েছে, তাই আপনার পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের টেস্ট করতে পারেন।

প্রথমত আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোন চাইলে রুট করতে পারেন, যার মাধ্যমে রুট করার বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। আবার চাইলে কাস্টম রম ইন্সটল করে ফোনটিকে কাস্টম ফোনে পরিণত করতে পারেন। অর্থাৎ এই ফোনটি যেহেতু আপনার ব্যবহারের পরিকল্পনা নেই, তাই এটির মাধ্যমে আপনার পছন্দের বিভিন্ন পরীক্ষা চালাতে পারেন।

রিট্রো গেমিং

রিট্রো গেম এমুলেটর হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড বেশ ভালোভাবে কাজ করে। রিট্রো গেম বলতে এখানে পুরোনো গেমিং কনসোলকে বুঝানো হচ্ছে। আগের দিনের গেমিং কনসোলগুলোর গেম বেশ সহজে বর্তমানের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে চালানো যায় এমুলেটর ব্যবহার করে। ফিরে যেতে পারেন আপনার ছোটবেলায় কোনো রিট্রো গেম এমুলেটর ব্যবহার করে। প্লে স্টোরে এই ধরনের অসংখ্য এমুলেটর অ্যাপ পেয়ে যাবেন। অনেক এমুলেটর গেমে ফিজিক্যাল কন্ট্রোলার ব্যবহার করা যায় যা পূর্ণাঙ্গ কনসোল গেমিং এর স্বাদ প্রধান করে থাকে।

মিডিয়া প্লেয়ার

পুরোনো ফোনের ব্যবহার সম্পর্কিত উল্লেখিত সকল সমাধান কঠিন বলে মনে হলে আপনার পুরোনো ফোনটিকে মিডিয়া প্লেয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ফোনে মুভি দেখা থেকে শুরু করে গান শোনা পর্যন্ত বিভিন্ন বিনোদনমূলক কাজে পুরোনো ফোন কাজে লাগাতে পারেন। পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন বিক্রি করতে না চাইলে সবচেয়ে সহজ ব্যবহার এটি।

Friday, May 20, 2022

লিংকডইনে সহজে চাকরি পেতে এগুলো মেনে চলুন।

অধিকাংশ চাকরি প্রার্থী জানেন যে তাদের লিংকডইন প্রোফাইলে একটি প্রফেশনাল দেখতে ফটো থাকতে হবে। কিন্তু নিয়োগদাতা শুধুমাত্র এই প্রোফাইল ফটো দেখে কিন্তু আপনাকে কোনো পদে নিয়োগ প্রদান করবেনা!

চাকরি প্রার্থীদের জন্য লিংকডইন নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ সোশ্যাল নেটওয়ার্ক৷ বর্তমানে ক্রমবর্ধমান হারে নিয়োগদাতারা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন ও লিংকডইন এইক্ষেত্রে সর্বাধিক ব্যবহৃত সোশ্যাল নেটওয়ার্ক। এই পোস্টে লিংকডইনে সহজে চাকরি খুঁজে পাওয়ার কৌশল, টিপস ও ট্রিকস, এবং কিছু কার্যকরী উপায় সম্পর্কে জানবেন।

নিজের গল্প সাজান

শুরুতেই বলে নিচ্ছি, এই “গল্প” বলতে কিন্তু বানিয়ে বানিয়ে চাপাবাজি করাকে বোঝানো হয়নি। বরং আপনার কার্যকলাপের গোছানো বর্ণনাকেই বোঝানো হয়েছে। নিয়োগকারী ও হায়ারিং ম্যানেজারগণ সাধারণ মানুষের মতই, তাই অসংখ্য তথ্য প্রদান করে তাদেরকে বিরক্ত করার চেয়ে আপনার নিজস্ব কাজের গল্পের মাধ্যমে কোনো প্রশ্নের উত্তর তুলতে পারা অধিক কার্যকরী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে কোনো বিষয় গল্প দ্বারা কাউকে বুঝানোর চেষ্টা করলে সেক্ষেত্রে তা ব্রেইনে অধিক সময় ধরে সংরক্ষিত থাকে। আর নিয়োগকারীর জন্য লিংকডইন প্রোফাইলে এমন এক বা একাধিক গল্প তাদের আপনার সাথে কাজ করার ইচ্ছা বাড়িয়ে দিবে।

অর্থাৎ আপনি যে বিষয়ে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন, উক্ত বিষয়ে সংক্ষেপে তথ্য প্রদান না করে বরং আপনি কিভাবে কোনো দুর্ভেদ্য সমস্যা সমাধান করেছেন তা তুলে ধরতে পারেন।

উদ্দেশ্য তুলে ধরুন

ক্যারিয়ারের মাঝপথে নতুন দিশার সন্ধানে অন্য পদ বা ইন্ডাস্ট্রির কাজ খুঁজে থাকেন অনেক পেশাদারগণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব পেশাদার তাদের লিংকডইন প্রোফাইলে তাদের বর্তমান কর্মকান্ড তুলে ধরে থাকেন। তবে বর্তমান অবস্থার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কী করতে চান ও আপনার লক্ষ্য কী, তা লিংকডইন প্রোফাইলে তুলে ধরাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে আপনার কাজ সম্পর্কে ধারণা রাখা কোম্পানিগুলো আপনার সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারবে, যেখান থেকে আরো ভালো চাকরি পাওয়া সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

অনন্য হওয়ার চেষ্টা করুন

একজন ব্যক্তির লিংকডইন প্রোফাইল হওয়া উচিত তাকে নিয়োগ প্রদান করার ট্রাম্প কার্ড স্বরুপ৷ তবে শুধুমাত্র “প্রফেশনাল” দেখানোর উদ্দেশ্য নিয়ে লিংকডইন ব্যবহার করলে আপনার লিংকডইন প্রোফাইল অন্য দশটি প্রোফাইলের মতো হয়ে যাবে। তাই লিংকডইনে সাধারণ সোশ্যাল একাউন্টের মত একটি ব্যক্তিগত টাচ রাখুন। ট্রেন্ডিং বিষয়, ইন্ডাস্ট্রি, ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আপনার চিন্তাভাবনা পোস্ট করতে পারেন লিংকডইনে যা আপনার প্রোফাইলকে অনন্য করে তুলবে। 

ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট শেয়ার

ইন্সটাগ্রাম এর এই যুগে ভিজ্যুয়াল কনটেন্টকে সবাই গুরুত্ব সহকারে দেখে, যা লিংকডইন এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আপনি যদি কোনো ধরনের ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট পেয়ে থাকেন, তবে এসব বিষয় টেক্সট আকারে প্রোফাইলে এড করে বসে থাকবেন না। উল্লেখযোগ্য ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট এর ছবি আপলোড করতে পারেন আপনার লিংকডইন প্রোফাইলে। আবার আপনি যদি কোনো ভালো প্রেজেন্টেশন তৈরী করেন, তবে তা লিংকডইন এর মালিকানাধীন আরেক প্ল্যাটফর্ম, স্লাইডশেয়ার এ পোস্ট করতে পারেন ও তা শেয়ার করতে পারেন লিংকডইনে।

যোগাযোগের পথ খোলা রাখুন

লিংকডইন ব্যবহারে একটি উল্লেখযোগ্য ভুল হলো কিভাবে আপনার সাথে ফোনে বা ইমেইলে যোগাযোগ করতে পারবে সে সম্পর্কে তথ্য না রাখা। লিংকইন এর ইনমেইলস একটি প্রিমিয়াম সেবা, তাই প্রোফাইলে যোগাযোগের উদ্দেশ্যে ফোন নাম্বার ও ইমেইল যোগ করে রাখা উচিত যাতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কাজের প্রয়োজনে আপনার সাথে খুব সহজে যোগাযোগ করতে পারে।

নিয়োগকারীর সাথে যোগাযোগ করুন

বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে আসা বেশ সহজ হয়ে গিয়েছে লিংকডইন এর মক্ত প্ল্যাটফর্মের কল্যাণে। লিংকডইনে সহজে চাকরি খুঁজে পেতে চাইলে সরাসরি নিয়োগকারীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। লিংকডইন এর মাধ্যমে যেহেতু নিয়োগদাতার সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের সুবিধা রয়েছে, তাই এই ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষ সম্পর্কিত কোনো ধরনের সমস্যা থাকছেনা। তবে সুস্থ সম্পর্ক স্থাপন করা জরুরি। কোনো পূর্ব পরিচয় ছাড়া হুট করে কোনো ব্যক্তির ইনবক্সে গিয়ে চাকরির খোঁজ করা বিষয়টি যে কারো কাছে বিরক্তিকর মনে হবে।

সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে ব্যবহার

গুগল এর মত লিংকডইন ও কিন্তু একটি সার্চ ইঞ্জিন, যা মূলত পেশাদার, নিয়োগকর্তা, কোম্পানি, চাকরি, ইত্যাদি খুঁজতে ব্যবহার করা যায়। লিংকডইন ব্যবহার করে আপনার ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়োগ এর খোঁজ করতে পারেন। যেমনঃ আপনি ওয়েব ডেভলপমেন্ট এর কাজ করলে, ওয়েব ডেভলপমেন্ট এর নিয়োগ সম্পর্কিত তথ্য সরাসরি সার্চ করার মাধ্যমে লিংকডইন থেকে খুঁজে নিতে পারেন।

আবার নিয়োগদাতারা কিওয়ার্ড ব্যবহার করে একইভাবে ক্যান্ডিডেট এর খোঁজ করে থাকেন। তাই আপনার দক্ষতাসমূহ সঠিক কিওয়ার্ডসহ প্রোফাইলে উল্লেখ করা জরুরি। তাই আপনার লিংকডইন প্রোফাইলকে সুন্দরভাবে সাজাতে ভুলবেন না, যদি লিংকডইন এ সহজে চাকরি পেতে চান।

অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াকে গুরুত্ব প্রদান করুন

চাকরি নিয়োগাদাতারা নিয়োগ এর ক্ষেত্রে লিংকডইন অধিক ব্যবহার করলেও এটি নিয়োগদাতাদের ব্যবহ্রত একমাত্র মাধ্যম নয়। নিয়োগদাতা আপনার অন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল চেক করতে পারে, যার কারণে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলগুলো সুন্দরভাবে সাজানো বেশ জরুরি। তাই কোনো কাজ বা চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লিংকডইন এর পাশাপাশি অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকেও গুরুত্ব দিন।

প্রফেশনাল ফটো পোস্ট করুন

লিংকইন প্রোফাইলে সবসময় প্রফেশনাল দেখতে ছবি পোস্ট করা উচিত – এটি ইতিমধ্যে লিংকডইন এর প্রথম নিয়ম হলেও অনেকে এই বিষয়টিকে বেশ অবজ্ঞা করে থাকে। লিংকডইন এর ক্ষেত্রে আপনার প্রোফাইল ফটো অনেক গুরুত্ব বহন করে। কাজের ক্ষেত্রে আপনার ব্যক্তিত্ব তুলে ধরে এই প্রোফাইল পিকচার। এছাড়া সার্চেও প্রোফাইল পিকচার দেখা যায়। তাই অবশ্যই একটি প্রফেশনাল লিংকডইন প্রোফাইল পিকচার পোস্ট করতে ভুলবেন না। এছাড়া চেষ্টা করুন আপনার আপডেটেড ফটো লিংকডইনে প্রোফাইল পিকচার হিসেবে সেট করতে, যাতে আপনাকে সহজে চেনা যায়।

এই পোস্টে উল্লেখিত লিংকডইনে সহজে চাকরি খুঁজে পাওয়ার কৌশলসমূহ সঠিকভাবে অনুসরণ করলে সুফল পেতে পারেন অল্প সময়ের মধ্যে।


Thursday, May 19, 2022

বাংলাদেশে অভিজ্ঞতার কোনো মূল্য নেই: মুশফিকুর রহিম

"শুধু বাংলাদেশে, আমি দেখেছি যে আমি যখন সেঞ্চুরি করি তখন লোকেরা আমাকে ব্র্যাডম্যানের সাথে তুলনা করে, কিন্তু যখন আমি রান করি না, তখন আমি নিজের জন্য একটি গর্ত খুঁড়ে মনে করি। আমি সিনিয়র খেলোয়াড়দের একজন তাই আমরা নই। দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে হবে। কিন্তু এটি একটি সংস্কৃতি হয়ে উঠছে, তাই তরুণ খেলোয়াড়দের সমর্থন প্রয়োজন। যদি মাঠের বাইরে এই বিষয়গুলি মোকাবেলা করতে আমাকে এত সময় ব্যয় করতে হয় তবে মাঠের দায়িত্বগুলি প্রভাবিত হয়।"


চতুর্থ দিনের খেলার পর সংবাদ সম্মেলনে মুশফিকুর রহিম খানিকটা হাইপারবোলিক হলেও বেশ আবেগঘন পিচ করেছিলেন। এটি এমন একটি দিনে এসেছিল যখন তিনি অষ্টম টেস্ট সেঞ্চুরি নথিভুক্ত করেছিলেন, এই পথে তিনি 5000 টেস্ট রান নিবন্ধনকারী প্রথম বাংলাদেশি খেলোয়াড় হয়েছিলেন।


ডানহাতি ব্যাটার সাম্প্রতিক মাসগুলিতে একটি পরীক্ষার সময় অতিক্রম করেছিলেন, 2020 সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার ডাবল সেঞ্চুরি করার পর থেকে তিনি যে 18টি ইনিংস খেলেছেন তাতে তিন-অঙ্কের চিহ্নে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছেন৷ একমাত্র যখন তিনি চিহ্নের কাছাকাছি এসেছিলেন 2021 সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে যখন তিনি 91 রান করেছিলেন। এই সময়ের মধ্যে একমাত্র পঞ্চাশ প্লাস স্কোরটি সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এসেছিল।


বুধবার, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে, মুশফিকুর লেগ সাইডে অসিথা ফার্নান্দোকে একটি অস্পষ্ট টিকলি দিয়ে সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছেন এবং বোলারের সাথে কিছু কথাবার্তা ও ঝাঁকুনি বিনিময়ের পরে মুষ্টি পাম্প দিয়ে চিহ্ন উদযাপন করেছেন। তার উদযাপন দেখে মনে হচ্ছিল এটা বোলারের দিকেই আঙুল তুলেছে।


দিনের খেলা শেষে মুশফিকুর বলেন, 'আমি নিশ্চিত সেঞ্চুরি করার পর আমাকে কিছুটা উদযাপন করতে দেওয়া হবে, তাই না?' "সে (ফার্নান্দো) গরমে আমার দিকে বোলিং করছিল। তাদের উভয় ফাস্ট বোলারই দুর্দান্ত ছিল। এই ধরনের লড়াই সাধারণত আপনাকে অনুপ্রাণিত করে। আমরা কয়েকটি শব্দ বিনিময় করেছি, কিন্তু এটি ক্রিকেটের অংশ। আমরা পরে একে অপরের প্রশংসা করেছি।


যাইহোক, তিনি সমালোচকদের সমালোচক ছিলেন যারা তাদের নিম্ন পর্যায়ের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সমর্থন করেন না। "(যা বলা হচ্ছে) একজন খেলোয়াড়ের জন্য কাম্য নয়।"


তিনি আরও যোগ করেছেন, "আমি মনে করি বাংলাদেশে অভিজ্ঞতার কোনো মূল্য নেই। 17 বছর ধরে খেলাটা অনেক বড় ব্যাপার। আমার জন্য যা অপেক্ষা করছে আল্লাহ তা লিখে রেখেছেন, এবং আমি সেটাই ভালো করতে চাই।"


তার হতাশা সত্ত্বেও, 'রক্ষক-ব্যাটারের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল। তার প্রচেষ্টা বাংলাদেশকে শুধুমাত্র শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে 68 রানের প্রথম ইনিংসে লিড নিতে দেয়নি বরং তাকে তামিম ইকবালকে 5000 রানের দৌড়ে ছাড়িয়ে যেতে সাহায্য করেছিল।


মুশফিক, যিনি 53 রানে দিনটি আবার শুরু করেছিলেন, তিনি ভাল করেই জানেন যে ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্কে পৌঁছাতে তার আরও 15 রান দরকার এবং সেই রানগুলি করতে 48টি ডেলিভারি নিয়েছিলেন। একটি দুটি তুলতে অসিথার কাছ থেকে ফাইন পায়ের দিকে ধাক্কা দিয়ে তিনি চিহ্নে পৌঁছে যান।


"প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ৫,০০০ রান ছুঁতে পারাটা দারুণ অনুভূতি। কিন্তু আমি নিশ্চিত আমি শেষ নই। আমাদের সিনিয়র এবং জুনিয়রদের মধ্যে অনেক যোগ্য খেলোয়াড় থাকবে যারা ৮,০০০ বা ১০,০০০ রান ছুঁতে পারবে, " সে বলেছিল.


"আমার লক্ষ্য (আমার অভিষেক টেস্টে) ছিল দ্বিতীয় টেস্ট খেলা (হাসি)। আমি আমার প্রথম টেস্টে ভালো করতে পারিনি। একজন 'রক্ষক-ব্যাটসম্যান হওয়ার কারণে, আমি সবসময় টেস্টকে প্রাধান্য দিয়েছি। আপনার বিচার করা হয় কতজন ফরম্যাটে আপনি বড় শতরান পান। আমি সবসময়ই দীর্ঘ সময় ধরে টেস্ট খেলতে চেয়েছিলাম যাতে আমি ব্যক্তি এবং দল হিসেবে বড় অর্জন করতে পারি। সাফল্যের কোনো সীমা নেই, তবে আমি আমার অর্জনে খুব খুশি।"


সেই ল্যান্ডমার্কে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায়, তিনি তার সতীর্থ তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে যান, যিনি ৩য় দিনে সেঞ্চুরি করার পর অবসরে গিয়েছিলেন। সাউথপা বুধবার ব্যাট করতে ফিরেছিলেন কিন্তু তার রাতারাতি স্কোর 133 যোগ না করেই আউট হন।


"তিনি (তামিম) এই সমস্ত জিনিস (রেকর্ড) জানেন এবং তিনি খুব কাছাকাছি ছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, আমি সেখানে যেতে পারিনি, আপনি করেছেন। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমি সবসময় মনে করি যে এটি একটি ভাল অনুভূতি যা আপনার ভাই, সতীর্থ বা বন্ধু অর্জন করে। রেকর্ডগুলো ভাঙতে হয়। তামিম যখন আমার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ভেঙেছিলেন তখন আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। সে তখন আমাকে বলেছিল যে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে আমি আবার তার রেকর্ড ভাঙব। এটা একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা, এবং এটা এমনই হওয়া উচিত। আমরা সতীর্থ হিসেবে একে অপরকে সাহায্য করি।"


মুশফিক, যিনি তার ধীরতম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন, প্রচণ্ড উত্তাপে সাত ঘন্টা 48 মিনিট ধরে লড়াই করেছিলেন। তার ইনিংস চলাকালীন তার বিখ্যাত রিভার্স সুইপ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত তার দীর্ঘ টিকে থাকার ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করেছিল কিন্তু তিনি জোর দিয়েছিলেন যে তিনি তার উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ফলপ্রসূ শট ছেড়ে দিতে প্রস্তুত নন।


তিনি বলেন, এটা নির্ভর করে উইকেট কেমন খেলে তার ওপর। "আপনি যখন লাইনে খেলতে পারেন তখন এই ধরনের শট (যেমন রিভার্স সুইপ) খেলার প্রশ্নই আসে না। এটি একটি ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট যেখানে আপনি সোজা ব্যাট দিয়ে আপনার শট খেলার শক্তি ফিরিয়ে দিতে পারেন।


"আমি উল্লেখ করতে চাই যে আমি আমার দুটি ডাবল সেঞ্চুরিতে তিন বা চারটি রিভার্স সুইপ খেলেছি। ভিডিওটি দেখুন। অবশ্যই, এটি আমার উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ শটগুলির মধ্যে একটি, তবে আমি অদূর ভবিষ্যতে এটি খেলতে ভয় পাই না"।