Pegasus কি? নিজের কমপিউটার বা মোবাইলকে এই স্পাইওয়্যার থেকে সুরক্ষিত রাখবেন কিভাবে?
শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবীসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ফোনে আড়ি পাতার ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। ইসরায়েলের তৈরি হ্যাকিং সফটওয়্যার ‘পেগাসাস’ ব্যবহার করে বেশ কিছু দেশের সরকার এই নজরদারি চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্পাইওয়্যার কী?
স্পাইওয়্যার একধরনের কমপিউটার সফটওয়্যার যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনার অজান্তে আপনার কমপিউটারে ইনস্টল হয়ে যায়। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি করা যায়। শুধু তাই নয় ফোনে আপনার কথপোকথনের উপরও নজরদারি চালানো যায়।আপনার অজান্তে এটি আপনার ভয়েস রেকর্ডার বা ক্যামেরা অন করে দেয় এবং আপনার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। এটি আপনার কমপিউটারে কিছু অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম ইনস্টল করে দেয়। যা আপনার ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত তথ্যও হাতিয়ে নিতে পারে।
কবে প্রথম প্রকাশ
১৯৯৬ সালে প্রথম স্পাইওয়্যার শব্দটি জানা যায়। ২০০৪ সালে আমেরিকা একটি সমীক্ষা করে। সেই সমীক্ষায় উঠে আসে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ মানুষ স্পাইওয়্যার আক্রামণের স্বীকার হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪ শতাংশ মানুষ জানতেনই না যে তাদের কমপিউটারে স্পাইওয়্যার রয়েছে।
পেগাসাস কী?
'পেগাসাস' হচ্ছে ইজরায়েলী সংস্থা এনএসও-র তৈরি একটি সফটওয়্যার যার মাধ্যমে ফোনে আড়ি পাতা যায় বা ফোন হ্যাক করা যায়। এই প্রজুক্তি ব্যবহার করে সহজেই যে কোনও ফোনের সমস্ত তথ্য হাতিয়ে দেওয়া সম্ভব। তবে অবশ্যই ফোনটি স্মার্টফোন হতে হবে। এর মাধ্যমে ফোনের ভয়েস কল ও হোয়াটসঅ্যাপ ডেটা-সহ সমস্ত তথ্য কয়েক মিনিটের মধ্যে হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব। সবথেকে আতঙ্কের বিষয়, গোটা প্রক্রিয়াটি এতটাই গোপনে হয় যে, ব্যবহারকারী কোনও রকম আন্দাজ পায় না যে তাঁর ফোনের সঙ্গে কী হচ্ছে। এতএব, অজান্তেই তাঁর সমস্ত গোপন তথ্য কয়েক মিনিটে চলে যায় অন্যের হাতে।
পেগাসাস কীভাবে কাজ করে?
যারা এটি নিয়ন্ত্রণ করে তাঁরা নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর স্মার্টফোনে একটি লিংক পাঠায়। সেটিতে জেনেশুনে তো বটেই, অজান্তে ক্লিক করে ফেললেই ফোনে পেগাসাস ইনস্টল হয়ে যায়। তারপর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই ফোনের যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ চলে যায় হ্যাকারদের হাতে। শুধু ফোনে কথোপকথনই নয় হোয়াটসঅ্যাপে কী লেখা হচ্ছে, সে বিষয়েও এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে জানা যায়। এমনকী যে ফোনটি হ্যাক করা হয়েছে সেই ফোনে কী তথ্য বা ছবি রয়েছে সেটাও দেখা যায়। অথচ যাঁর ফোন হ্যাক করা হয়েছে, তিনি কিছু বুঝতেই পারবেন না।
কয়েকটি অন্য স্পাইওয়্যার
ট্রোজান : এটি একটি পরিচিত স্পাইওয়্যার। বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোডের সময় এযি সিস্টেমে ইনস্টল হয়ে যায়। একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ব্যাঙ্কের ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত তথ্য চুরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
কিলগার : এই সফটওয়্যাটি আপনার কমপিউটারে ইনস্টল করলে আপনি কী টাইপ করছেন তার সব তথ্য চলে যাবে অন্যের হাতে। সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্যাঙ্কের তথ্য দুষ্কৃতীদের হাতে চলে যেতে পারে।
অ্যাডওয়্যার : এটি আপনার ব্রাউজার বা ফোনকে নজর করবে এবং সেই অনুযায়ী অ্যাড দেখাবে। এটি সিস্টেমে ইনস্টল হলে কমপিউটার স্লো হয়ে যায়।
এগুলি ছাড়াও আর কয়েকটি স্পাইওয়্যার হল, ট্র্যাকিং কুকি, সিস্টেম মনিটর, কী বোর্ড লগার, ব্রাউজার হাইজ্যাক, ব্যাঙ্কার টোজান ইত্যাদি।
নিজের কমপিউটার বা মোবাইলকে নিরাপদে রাখবেন কী ভাবে?
- মোবাইল বা কমপিউটারকে নিরাপদে রাখার জন্য বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট ব্যাবহার করুন। অজানা কোন লিঙ্ক থেকে কোন কিছু ডাউনলোড করবেন না।
- সোশ্যাল মিডিয়ায় অপ্রয়োজনীয় লিঙ্ক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। সেই সব ব্যবহার করলে আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়ে যেতে পারে।
- কোনো অপ্রয়োজনী প্রোগ্রাম দেখলে দ্রুত তাকে আনইনস্টল বা ডিলিট করুন। প্রয়োজনে কমপিউটার বা মোবাইল রির্স্টাট করে ভালো করে চেক করে দেখুন সেটি আছে কি না।
- অপরিচিত অ্যাড্রেস থেকে কোনো ই-মেল এলে তা খোলা থেকে বিরত থাকুন। কারণ, এই ধরনের ই-মেল খুলুলেই স্পাইওয়্যার আপনার মেশিনে ডাউনলোড হয়ে যাবে।
- কমপিউটার বা ফোনে অপারেটিং সিস্টেন নিয়মিত আপডেট করুন। এরফলে আপনার ডিভাইসগুলি নিরাপত্তা আরও বাড়বে।
কমপিউটার বা নিজের মোবাইলকে সুরক্ষিত রাখতে অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন। চেষ্টা করুন প্রযুক্তি সম্পর্কে নিজেকে আপডেট রাখতে। তবে সবার পক্ষে এটা হয়তো সম্ভব নাও হতে পারে। তবে দুটো বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। অপরিচিত কোন লিঙ্ক বা মেল খুলবেন না। হঠাত্ করে আসা কিছু সফটওয়্যার না জেনে বুঝে ফোন বা কমপিউটারে ইনস্টল করবেন না।
আশা করি এই পোস্টটি আপনার উপকারে আসবে। পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।
ধন্যবাদ,
