Table of Content

Antivirus / এন্টিভাইরাস কী? ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস কি ভাইরাস তাড়ায় নাকি, পোষে!

এন্টিভাইরাস কী

এন্টিভাইরাস শুধু আপনার কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে থাকা পুরনো ভাইরাস দূর করে নতুন করে যেন আর কোনো ভাইরাস আপনার ডিভাইসের সংস্পর্শে আসতে না পারে তা-ই নিশ্চিত করবে না, বরং তার পাশাপাশি আপনার সার্বিক নিরাপত্তাসহ বৃদ্ধি করবে আপনার ডিভাইসের পারফর্মেন্স।

একটি আধুনিক এন্টিভাইরাস আপনাকে নিম্নোক্ত সুবিধাসমূহ দেবে-

সার্বিক গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা হারানো/খোয়া গেলে, ডিভাইসের লোকেশন বের করে দেয়া, সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ ও হালনাগাদ, সব ধরণের ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষা, ব্রাউজার হাইজ্যাকিং বন্ধ করা, ওয়ার্ম অ্যাড ও স্পাইওয়্যার ঠেকানো,
প্রোগ্রামের শর্টকাট তৈরি হতে না দেয়া

এন্টিভাইরাস যা করেঃ

একসময় কম্পিউটারে কিছু সংযুক্ত করলে ‘ক্যাঁক’ করে তাতে ক্ষতিকর কিছু আছে বলে জানিয়ে দিয়ে তাতে প্রবেশ না করতে ও ইতিমধ্যে তা করে থাকলে ম্যানুফ্যাকচারের কাছে (!) তা নিয়ে যেতে তাগাদা দিলেও হালের এন্টিভাইরাস আপনি কোনো সাইটের নাম লিখলে সেকেন্ডের ব্যবধানে তা রিডাইরেক্টেড হওয়ার আগেই তা স্ক্যান করে নেয়, আজেবাজে মেইল নিজ থেকে বেছে আলাদা করে রাখে জাংক বক্সে এমনকি আপডেট করে দেয় পিসির সফটওয়্যার পর্যন্ত! এতোকিছু করলেও আসলে সব এন্টিভাইরাসের মূল কাজ কিন্তু একটাই- যে ডিভাইসে সেটি ইনস্টল করা হচ্ছে তার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এ ধরণের প্রোগ্রামের প্রধান অংশ ‘ভাইরাস গার্ড’ যা যে কোনো ফাইল বা ওয়েবপেইজ ব্যবহার তথা খোলার আগে পরীক্ষা করে দেখে তাতে কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের জন্য ক্ষতিকর কিছু আছে কি না। তেমন কিছু পাওয়া গেলে প্রোগ্রামটি তাৎক্ষণিকভাবে ওই পেইজ বা ফাইলটি ‘ফ্রিজড’ করে তা থেকে ভাইরাস অপসারণ করে বা কোনো কারণে ফাইলটি ত্রুটিমুক্ত না করা গেলে এন্টিভাইরাস সেটিকে ‘ব্লকড’ করে ফেলে বা সম্পূর্ণরুপে মুছে দিয়ে (আপনার নির্দেশ মোতাবেক) আপনার ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

এন্টিভাইরাস প্রোগ্রামগুলি নিচের দুই (২) নিয়মে কাজ করে-

রুটকিট ডিটেকশনঃ

রুটকিট হচ্ছে সে’সব ভাইরাস যারা নিজেদের ধরণ-ধারণ বদলাতে বদলাতে না ধরা পড়ে পৌঁছে যায় অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ লেভেলে। আর, এটি ডিভাইসের প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় সেখানে থাকা ভাইরাস চাইলে এমনকি অপারেটিং সিস্টেমেও পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। তাই এই ভাইরাস দীর্ঘদিন অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ লেভেলে থাকলে ডিভাইস একসময় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, ফলে দেখা যায় অপারেটিং সিস্টেম আবার নতুন করে দিয়ে নিতে হয়।

রুটকিট ডিটেকশন পদ্ধতিতে ডিভাইসের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর এসব ভাইরাস – যারা অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ লেভেলে পৌঁছে যায়, তাদের মোকাবেলা করে।

রিয়েল-টাইম প্রোটেকশনঃ

অন-একসেস স্ক্যানিং, ব্যাকগ্রাউন্ড গার্ড, রেসিডেন্ট শিল্ড কিংবা অটো প্রটেকশন ইত্যাদি সবকিছুই এই রিয়েল টাইম প্রোটেকশনের আওতাধীন। এটা সার্বক্ষণিক মনিটর করে আপনার কম্পিউটার বা স্মার্টফোনটিকে। সিডি প্রবেশ করামাত্র কিংবা কেউ ইমেইল পাঠালে বা কোনো একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই এন্টিভাইরাসের এই অংশ তা স্ক্যান করে জানিয়ে দেয়- তাতে কোনো সমস্যা আছে কি না।

ভাইরাস শনাক্তের পদ্ধতিঃ

কোনো ফাইল বা পেইজ ক্ষতিকর কি না - তা বুঝতে এন্টিভাইরাসগুলো নিচের পাঁচ-রকমে পরীক্ষা করে-

সিগনেচার পদ্ধতিঃ

প্রচলিত বেশীরভাগ এন্টিভাইরাসই এ পদ্ধতিতে কাজ করে। সিগনেচার পদ্ধতিতে এন্টিভাইরাস ইঞ্জিন কোনো একটি ফাইল বা পেইজের কনটেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখে তাতে কোনো ম্যালওয়্যার সিগনেচার পাওয়া যায় কি না।

হিউরিস্টিক এলগরিদমঃ

হিউরিস্টিক এলগরিদম অনেকটা সিগনেচার পদ্ধতির মতোই কাজ করে। এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম এখানে ফাইল বা ওয়েবপেইজের কোড যাচাই করে দেখে।

বিহেভিয়ার এনালাইসিসঃ

রানটাইমে সিগনেচার বা কোডের বদলে একটি ফাইল বা ওয়েবপেইজের বিহেভিয়ার বিশ্লেষণ করে ক্ষতিকর কিছু পাওয়া যায় কি না দেখাই এই ইঞ্জিনের কাজ।

স্যান্ডবক্স ডিটেকশনঃ

স্যান্ডবক্স ডিটেকশন বিহেভিয়ার এনালাইসিসের মতো হলেও এটা কাজ করে একটি প্রোগ্রামকে অন্য একটি ভার্চুয়াল বক্সে রান করিয়ে। সেখানে যদি ফাইল বা পেইজে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায় তাহলে তা মূল কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে প্রোগ্রামটিকে আর চলতে দেয় না।

ডাটা মিনিং টেকনিকঃ

ম্যালওয়্যার অনুসন্ধানের সর্বশেষ প্রযুক্তি ডাটা মিনিং টেকনিক। ডাটাবেজ থেকে কাঙ্ক্ষিত ফাইল বা পেইজ যাচাইপূর্বক ডিভাইসের প্যাটার্ন অনুযায়ী তার কোড বিশ্লেষণ করে এখানে ফাইল বা পেইজের আচরণ পরীক্ষা করা হয়।

 

 ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস কি ভাইরাস তাড়ায়?

‘ফ্রি’ শব্দটা যে ঠিক কোন শব্দের সাথে বোনাস হিসেবে এলো- অনেক খুঁজেও তা পাইনি, বরং একজনের টিউমেন্ট পেলাম যে মাগনা’র গরুর দাঁত নেই! বলার অপেক্ষা রাখে না, টিউমেন্টকারী কিছু একটা ফ্রি’তে পেলেও ‘জাতের’ পাননি বলেই তার এতো ক্ষোভ। বলছিলাম- এন্টিভাইরাসের কথা। তিন ডব্লিউ’র জগতে ঢুকলেই আপনি পাবেন হাজারো নামী-বেনামী ফ্রি এন্টিভাইরাস. কিন্তু, কথা হচ্ছে এগুলো কতোটুকু নিরাপদ?


অন্যরা নগদ টাকায় এন্টিভাইরাস কিনে যা যা সুবিধা পান, মোবাইল ফোন কোম্পানির দেয়া ‘ফ্রি এমবি’ ব্যবহার করে এন্টিভাইরাসও ফ্রি’তে নামিয়ে সেই একই সুবিধা আমিও পাবো- আধুনিক যুগে এসে এটা ভাবছি মানেই তো আমি বোকার স্বর্গে বাস করছি!

বাদ দিন সমান সুবিধা’র কথা – আগে বলুন কখনো পরীক্ষা করে দেখেছেন কি আদৌ এসব ফ্রি এন্টিভাইরাস ম্যালওয়্যার ধরতে পারে কি না বা নিয়মিত আপডেট হয় কি না; ধরুন- ঘরের ইঁদুরের মতো এই এন্টিভাইরাস উল্টো আপনার কম্পিউটারের কোনো ক্ষতি করলো, সেক্ষেত্রে কার কাছে তার সমাধান চাইবেন? অভিযোগ জানাতে কাস্টমার কেয়ার বা তাদের কোনো রিপ্রেজেন্টেটিভ খুঁজে পাবেন কি! এছাড়াও, নেটে সংযুক্ত হলেই যে কিছুক্ষণ পর পর এই এন্টিভাইরাস তার পেইড ভার্সন কেনার জন্য বিজ্ঞাপণ দেখায় এবং তা না করা হলে আস্তে করে সার্ভিস দেয়া বন্ধ করে দেয় – তার কী করবেন?

‘ফ্রি’ না ‘ফি (মাশুল)’ গুনছেন?

নেহায়েত মানবসেবার জন্য ট্রাস্ট খুলে না বসলে কেউ কাউকে যেখানে ফ্রি’তে অ্যাডভাইসও দেয় না সেখানে এন্টিভাইরাস কোম্পানিগুলো আপনাকে-আমাকে বিনে পয়সায় তাদের প্রোডাক্ট দিচ্ছে – কখনো ভেবে দেখেছেন কি এটা তারা কেন করে? আসলে, আখেরে লাভটা তাদেরই!

লাভটা কী- সে কথা বলছি পরে, তার আগে বলি ফ্রি আর ফি দিয়ে নেয়া এন্টিভাইরাসের পার্থক্যঃ

ইউজার ইন্টারফেস

একটি প্রোগ্রামের সাথে আমাদের প্রথম পরিচয় হয় তার নির্ধারিত কাঠামো অর্থাৎ সেই অ্যাপ্লিকেশনটি চালানোমাত্র যে উইন্ডোটি আসে তা দিয়ে। সহজ কথায় এটাকেই বলে ইউজার ইন্টারফেস। দেখা গেছে যে প্রোগ্রামের ইউজার ইন্টারফেস যতো সহজ তা ততো কাজের হয়, মানে ব্যবহার করা ততো সুবিধের হয়।

সাধারণত ফ্রি এন্টিভাইরাসগুলোর ইউজার ইন্টারফেস কিছুটা জটিল হয়, কিন্তু, পেইড ভার্সনেরটা (যার ছবি আপনাকে রোজ অ্যাপ্লিকেশন চালু করামাত্র বিজ্ঞাপণে দেখানো হয়) সহজ-সরল। আর, এটাই আপনাকে উৎসাহিত করে (কিংবা নিয়মিত প্যারা দেয়) পেইড ভার্সনটি নিতে। এখানেই আমাদের আপত্তি - ভালো জিনিস দিলে পয়সা নিয়ে প্রথমেই দাও, কেন ফ্রি’র নামে হেনস্থা করা!

কার্যক্ষমতা

আমাদের আজকের আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি। ফ্রি হোক আর পেইড হোক- আগে তো জানতে হবে কোনটা কতোটুকু কাজের আর কোনটা কেবল শো-অফ! চলুন, দেখি পিসি ওয়ার্ল্ডের একটি সাম্প্রতিক পরীক্ষার ফলাফল।

(উল্লেখ্য, বিভিন্ন এন্টিভাইরাসের কার্যক্ষমতা পরীক্ষার জন্য একই ম্যালওয়্যারে একই কোম্পানির একই ভার্সনের ফ্রি এবং পেইড ভার্সন একই সময় ব্যবহার করা হয়েছে। )

সিগনেচার-ভিত্তিক ভাইরাস অনুসন্ধানে প্রায় সব ক্ষেত্রেই দেখা গেছে পেইড ভার্সনের তুলনায় ফ্রি ভার্সনের পার্ফরম্যান্স অনেক কম। এছাড়া, বিভিন্ন এন্টিভাইরাসের ফ্রি ভার্সনের তুলনায় সবচে পিছিয়ে আছে পান্ডা। হালের ক্রেজ নায়লা নাইম যতোই ‘ছোট ভল্লুক’ নিয়ে নর্তন-কুঁদন করুক না কেন - পান্ডা ক্লাউড এন্টিভাইরাসের প্রো ভার্সনের তুলনায় ফ্রি ভার্সনের ফলাফল ছিল অতিশয় জঘন্য।

আসলে, টাকা সত্যিই কথা বলে. দেখুন না- মোটামুটি সব এন্টিভাইরাসেরই পেইড ভার্সন শতকরা ৯৬.২ ভাগ ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার শনাক্ত করতে পারে অনায়াসে, অথচ সেসবের ফ্রি ভার্সনের ক্ষেত্রে আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় তার হার! এছাড়াও, সামগ্রিকভাবে ফ্রি এন্টিভাইরাসসমূহের নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থতার গড় হার ১৫.২ শতাংশ।

শুধু তাই নয়, শনাক্তকৃত ভাইরাস মুছে ফেলার ক্ষেত্রে এ ব্যবধান আরও ভয়াবহ।

যে কোনো পেইড এন্টিভাইরাসে ম্যালওয়্যার অপসারণের হার যেখানে গড়ে ৭৪ শতাংশ, ফ্রি এন্টিভাইরাসের ক্ষেত্রে তা মাত্র ৩৪ শতাংশ!

তাই, ইতি’র আগেই ইতি টানা হলে এখানেই বলছি- আজই আনইনস্টল করুন আপনার তথাকথিত ফ্রি এন্টিভাইরাস।

গতি

দেখা গেছে যেসব এন্টিভাইরাসের পেইড আর ফ্রি – দু’টি ভার্সন আছে, রহস্যজনকভাবে তাদের ফ্রি ভার্সন কেন যেন খুব স্লো! স্ক্যানিং থেকে শুরু করে কপি-পেস্ট পর্যন্ত সব কাজই এতে কেমন যেন থমকে যায়।

বোধহয় এ থেকেই এসেছে সেই চিরায়ত ডায়লগ ‘এন্টিভাইরাস লাগালে পিসি স্লো হয়ে যায়’। তাই, আমরা বলি কি, ফ্রি এন্টিভাইরাস মুছে ফেলে দেখেশুনে একটি পেইড এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন - দেখবেন পিসি দৌড়াবে!

সুবিধার স্বল্পতা

ফ্রি এন্টিভাইরাসে আপনি নামকাওয়াস্থে শুধু ভাইরাস আছে কি না স্রেফ এটা চেক করতে পারলেও বাদবাকি সব বিষয়েই লবডংকা। উদাহরণস্বরূপ পেইড এন্টিভাইরাসে আপনি ভাইরাস চেক-মুছে দেয়া ছাড়াও আপনি আরও অনেক সুবিধা পাবেন, যেমন নিয়মিত ও সম্পূর্ণ আপডেট সুবিধা, সফটওয়্যার মেইন্টেইনেন্স সুবিধা, যে কোনো সময় যে কোনো সমস্যায় সাপোর্ট, কোনো কারণে ডিভাইস হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে ট্র্যাকিং করার সুযোগ ইত্যাদি – যা ফ্রি এন্টিভাইরাসের ক্ষেত্রে কখনোই পাবেন না।

এছাড়াও, কিছু ফ্রি এন্টিভাইরাসে তার পেইড ভার্সন কেনার জন্য বারবার বিজ্ঞাপণ দেয়া এবং না কেনা হলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর সেবা বন্ধ করে দেয়া’র কথাও পাওয়া গেছে ইউজারদের রিভিউতে – এটা গাছে তুলে মই সরিয়ে দেয়ার মতোই। কারণ- কিছু শনাক্তকৃত ভাইরাসকে আবদ্ধ রেখে হুট করে যদি আবার উন্মুক্ত করে দেয়া হয় সেক্ষেত্রে ফলাফল আরও বেশি বিপদজনক হতে পারে।

আপনার কম্পিউটার বা স্মার্টফোন নিরাপদ রাখতে এন্টিভাইরাসের কোনো বিকল্প নেই। তাই বলে আবার ফ্রি’তে আবর্জনা দিয়ে কম্পিউটার বা স্মার্টফোন ভরানোও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। নগদ টাকায় এন্টিভাইরাস কিনুন, দেখবেন টাকাই কথা বলবে!

আশা করি এই পোস্টটি আপনার উপকারে আসবে। পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।


ধন্যবাদ,

## আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।
## ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে চাইলে ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।

 

Post a Comment