শীত আসার আগেই গিজারের যত্ন নিন, নিরাপদে গরম পানি পেতে মানুন ১০টি জরুরি নিয়ম
শীত আসার আগে গিজারের যত্ন কেন জরুরি?
শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই বাড়ির গিজার বা ওয়াটার হিটার পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হঠাৎ যন্ত্রটি চালু করলে পানি গরম হতে দেরি করা, অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া, পানি চুইয়ে পড়া কিংবা বৈদ্যুতিক সংযোগে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আগে থেকে পরীক্ষা করালে এসব সমস্যা চিহ্নিত করা সহজ হয়। একই সঙ্গে গিজার নিরাপদে ব্যবহার করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমানোর সুযোগও তৈরি হয়।বাংলাদেশে শীতের সকালে গোসল করা, রাতে ঘুমানোর আগে গরম পানিতে হাত-মুখ ধোয়া কিংবা শিশু ও বয়স্কদের জন্য পানি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে গিজার অনেক পরিবারের প্রয়োজনীয় যন্ত্র। তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও ঠান্ডা পানিতে গোসল করতে অনেকের অস্বস্তি হয়। তাই শীতের শুরুতেই গরম পানির ব্যবস্থা ঠিকঠাক রাখা সুবিধাজনক।
তবে গিজার শুধু সুইচ অন করলেই ব্যবহার উপযোগী হয়ে যায়, এমন ধারণা ঠিক নয়। যন্ত্রটির ধরন, বয়স, পানির গুণমান এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের অবস্থার ওপর এর নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতা নির্ভর করে। বিশেষ করে ইলেকট্রিক গিজারের ক্ষেত্রে তার, প্লাগ, আর্থিং, থার্মোস্ট্যাট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
শীত আসার আগে কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। বাইরের অংশ পরীক্ষা করা, পানির সংযোগে লিক আছে কি না দেখা, সঠিক তাপমাত্রা নির্বাচন করা এবং প্রয়োজনে দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে সার্ভিসিং করানো এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এতে হঠাৎ গিজার নষ্ট হওয়ার ঝামেলা কমতে পারে এবং নিরাপদ ব্যবহারের সুযোগ বাড়ে।
১. দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গিজার চালুর আগে পরীক্ষা করুন
গরমের সময় অনেক পরিবার কয়েক মাস গিজার ব্যবহার করে না। এই সময়ে যন্ত্রটির বাইরের অংশে ধুলো জমতে পারে, পানির পাইপের সংযোগ ঢিলা হয়ে যেতে পারে অথবা বৈদ্যুতিক তারের কোনো ক্ষতি হতে পারে। ফলে শীতের শুরুতে গিজার চালু করার আগে প্রাথমিক পরীক্ষা করা দরকার। প্রথমে গিজারের বাইরের অংশ ভালোভাবে দেখুন। কোথাও মরিচা, ফাটল, পোড়া দাগ কিংবা পানি পড়ার চিহ্ন আছে কি না খেয়াল করুন। পানির পাইপ ও ভালভের সংযোগেও নজর দিন। যন্ত্রের নিচে বা আশপাশে পানি জমে থাকলে সেটিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া উচিত নয়। গিজার চালুর আগে প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা দেখে নিন। বিশেষ করে স্টোরেজ গিজারের ট্যাংকে পর্যাপ্ত পানি আছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ট্যাংক খালি বা অসম্পূর্ণভাবে ভরা অবস্থায় ইলেকট্রিক হিটিং এলিমেন্ট চালু করলে সেটি অতিরিক্ত গরম হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গিজারের ভেতরের অংশ খুলে পরীক্ষা করার চেষ্টা করবেন না। বৈদ্যুতিক সংযোগ, হিটিং এলিমেন্ট, থার্মোস্ট্যাট কিংবা নিরাপত্তা ভালভ পরীক্ষা করার জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিন।২. গিজার পরিষ্কার ও সার্ভিসিং করান
দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে গিজারের ট্যাংকের ভেতরে পানির খনিজ পদার্থের আস্তরণ জমতে পারে। পানিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকলে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা দিতে পারে। সময়ের সঙ্গে জমে থাকা আস্তরণ হিটিং এলিমেন্টের কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং পানি গরম হতে বেশি সময় লাগতে পারে। তবে সব গিজারের ক্ষেত্রে একই সময় পরপর পরিষ্কার করার প্রয়োজন হয় না। যন্ত্রের ধরন, পানির কঠোরতা, ব্যবহার এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশনার ওপর সার্ভিসিংয়ের সময় নির্ভর করে। শীতের আগে একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে গিজার পরীক্ষা করালে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা যায়।- ট্যাংকের ভেতরে অতিরিক্ত খনিজ আস্তরণ বা ময়লা জমেছে কি না।
- হিটিং এলিমেন্ট ঠিকভাবে কাজ করছে কি না।
- থার্মোস্ট্যাট পানি নির্ধারিত তাপমাত্রায় গরম করতে পারছে কি না।
- পানির পাইপ, সংযোগ এবং ভালভে কোনো লিক আছে কি না।
- প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না।
৩. বৈদ্যুতিক তার, প্লাগ ও সুইচ পরীক্ষা করুন
ইলেকট্রিক গিজার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। পানি ও বিদ্যুৎ একই স্থানে ব্যবহৃত হওয়ায় সামান্য অসাবধানতাও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার সময় তারে ইঁদুরের কামড়, প্লাগে ক্ষয়, সংযোগ ঢিলা হয়ে যাওয়া কিংবা আর্দ্রতার কারণে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই গিজার চালু করার আগে বাইরে থেকে দৃশ্যমান তার, প্লাগ, সুইচ এবং সংযোগস্থল পরীক্ষা করুন। নিচের লক্ষণগুলোর কোনোটি দেখা গেলে গিজার চালু করবেন না।- তার কাটা, ছেঁড়া বা আবরণ উঠে যাওয়া।
- প্লাগ বা সুইচে পোড়া দাগ কিংবা গলনের চিহ্ন।
- সুইচ অন করার সময় স্পার্ক দেখা বা পোড়া গন্ধ পাওয়া।
- গিজারের ধাতব অংশে বিদ্যুতের শক অনুভূত হওয়া।
- বারবার সার্কিট ব্রেকার ট্রিপ করা।
৪. গিজারের ট্যাংকে পানি আছে কি না নিশ্চিত করুন
স্টোরেজ গিজার চালু করার আগে ট্যাংক পানি দিয়ে পূর্ণ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এই ধরনের গিজারের ভেতরে পানি জমা থাকে এবং হিটিং এলিমেন্ট সেই পানিকে গরম করে। ট্যাংকে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে হিটিং এলিমেন্ট অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে নষ্ট হতে পারে। কিছু মডেলে শুকনো অবস্থায় চালু হওয়া ঠেকানোর ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু সব যন্ত্রে একই ধরনের সুরক্ষা নেই। তাই অটো-প্রোটেকশন আছে ধরে নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। নতুন করে পানি সংযোগ দেওয়ার পর বা রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ট্যাংক খালি করা হলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। সাধারণত ট্যাংক পূর্ণ হওয়া এবং গরম পানির লাইনে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার পরই বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়। নির্দিষ্ট মডেলের নির্দেশিকা অনুসরণ করাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ট্যাংক পূর্ণ হচ্ছে কি না বুঝতে সমস্যা হলে নিজে অনুমান করে সুইচ অন করবেন না। টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিন। এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার: স্টোরেজ গিজার এবং ইনস্ট্যান্ট গিজারের কাজের ধরন আলাদা। তাই একটি মডেলের নিয়ম অন্য মডেলের ক্ষেত্রে হুবহু প্রযোজ্য নাও হতে পারে।৫. পানি চুইয়ে পড়ছে কি না দেখুন
গিজারের ট্যাংক, ইনলেট পাইপ, আউটলেট পাইপ, ভালভ এবং সংযোগস্থলে পানি লিক হচ্ছে কি না পরীক্ষা করুন। ছোট ফোঁটা অনেক সময় সাধারণ সমস্যা মনে হলেও দীর্ঘদিন অবহেলা করলে যন্ত্রের ক্ষতি, দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব কিংবা বৈদ্যুতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। গিজারের নিচে পানি জমে থাকলে প্রথমে বুঝতে হবে পানি কোথা থেকে আসছে। এটি পাইপের সংযোগ, ভালভ, কনডেনসেশন বা ট্যাংকের ত্রুটি থেকে হতে পারে। কারণ নিশ্চিত না হয়ে নিজে থেকে কোনো অংশ খুলবেন না। যদি পানির লিক বৈদ্যুতিক অংশের কাছে হয়, গিজার চালু করবেন না। নিরাপদে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে পেশাদার সাহায্য নিন। ট্যাংক থেকে লিক হলে শুধু সিল্যান্ট লাগিয়ে সমস্যা ঢাকার চেষ্টা না করে যন্ত্রটি পরীক্ষা করানো জরুরি। প্রেশার রিলিফ ভালভ থেকেও কিছু পরিস্থিতিতে পানি বের হতে পারে। ট্যাংকের পানি গরম হলে চাপ বাড়তে পারে, তাই ভালভের কাজের ধরন বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। নিরাপত্তা ভালভের মুখ বন্ধ করে দেওয়া বা সেখানে কোনো বাধা তৈরি করা বিপজ্জনক।৬. অপ্রয়োজনে গিজার চালু রাখবেন না
গিজারের বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার সহজ উপায় হলো প্রয়োজন অনুযায়ী পানি গরম করা। অনেকেই গোসলের আগে গিজার চালু করেন, কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর সুইচ বন্ধ করতে ভুলে যান। এতে কিছু মডেলে পানি গরম রাখার জন্য যন্ত্রটি বারবার বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। অটো-কাট বা থার্মোস্ট্যাট থাকলে নির্ধারিত তাপমাত্রায় পৌঁছানোর পর হিটিং এলিমেন্ট বন্ধ হতে পারে। তবু অপ্রয়োজনীয় সময় গিজার চালু রাখলে তাপ ধরে রাখার জন্য বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো বা কম নিরোধকযুক্ত স্টোরেজ গিজারে তাপের ক্ষতি বেশি হলে বিদ্যুৎ খরচও বাড়তে পারে। ব্যবহার শেষে গিজারের সুইচ বন্ধ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তবে নির্দিষ্ট মডেলের নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং কোনো অবস্থাতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাদ দিয়ে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর চেষ্টা করবেন না। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য কয়েকটি অভ্যাস কাজে আসতে পারে।- গোসল বা অন্য কাজে যতটুকু গরম পানি দরকার, সেই অনুযায়ী গিজার চালু করুন।
- অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় পানি গরম করবেন না।
- থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা যুক্তিসংগত পর্যায়ে রাখুন।
- ট্যাংক ও পাইপে তাপের ক্ষতি কমাতে প্রস্তুতকারকের নির্দেশিত ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।
- গিজারের ধারণক্ষমতা ও পরিবারের ব্যবহার মিলিয়ে নিন।
৭. পরিবারের জন্য উপযুক্ত ধারণক্ষমতার গিজার বেছে নিন
গিজার কেনার সময় শুধু দাম বা বাহ্যিক নকশা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, একসঙ্গে কতজন গরম পানি ব্যবহার করেন, গোসলের ধরন এবং প্রতিদিনের চাহিদা বিবেচনা করা দরকার। স্টোরেজ গিজারের ক্ষেত্রে ধারণক্ষমতা কম হলে একবার পানি গরম করার পর তা দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে পরবর্তী ব্যবহারের জন্য আবার পানি গরম করতে হয়। অন্যদিকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বড় ট্যাংক কিনলে ব্যবহার না হওয়া পানি গরম রাখতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় হতে পারে। ইনস্ট্যান্ট গিজার ও স্টোরেজ গিজারের প্রয়োজনও আলাদা। ইনস্ট্যান্ট মডেলে পানি প্রবাহের হার এবং হিটিং ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। স্টোরেজ মডেলে ট্যাংকের ধারণক্ষমতা, নিরোধক এবং পুনরায় পানি গরম হতে কত সময় লাগে, সেগুলো বিবেচনা করতে হয়। কেনার আগে দেখুন:- প্রস্তুতকারকের নির্দেশিত ব্যবহার ও ধারণক্ষমতা।
- গিজারের বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং রেটেড পাওয়ার।
- থার্মোস্ট্যাট ও অতিরিক্ত তাপ থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা।
- প্রেশার রেটিং এবং বাড়ির পানির চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য।
- ওয়ারেন্টি, সার্ভিসিং সুবিধা ও খুচরা যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা।
৮. এনার্জি-এফিশিয়েন্ট গিজার কেনার আগে কী দেখবেন?
পুরোনো গিজার বারবার নষ্ট হলে, পানি গরম হতে অস্বাভাবিক বেশি সময় লাগলে বা বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে গেলে নতুন মডেল কেনার কথা ভাবা যেতে পারে। তবে শুধু পুরোনো বলেই গিজার বদলে ফেলতে হবে, এমন নয়। প্রথমে সার্ভিসিং করে সমস্যার কারণ নির্ণয় করা ভালো। নতুন গিজার কেনার সময় শক্তি সাশ্রয়ের বৈশিষ্ট্য, ট্যাংকের নিরোধক, থার্মোস্ট্যাটের মান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করুন। কোনো দেশে ব্যবহৃত পাঁচ-তারকা রেটিং অন্য দেশের যন্ত্রে একই অর্থ বহন নাও করতে পারে। তাই বাংলাদেশে কেনার সময় প্রযোজ্য স্থানীয় মান, পরীক্ষিত শক্তি-দক্ষতার তথ্য এবং প্রস্তুতকারকের স্পেসিফিকেশন যাচাই করুন। শুধু বেশি স্টার রেটিং দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন না। যন্ত্রটির ক্ষমতা আপনার পরিবারের চাহিদার সঙ্গে মানানসই কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে কম দামি মডেল কিনে পরে বেশি বিদ্যুৎ খরচ বা ঘন ঘন মেরামতের মুখে পড়লে মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে। কেনার আগে বিক্রেতার কাছে বিদ্যুৎ ব্যবহার, ওয়ারেন্টি, নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য এবং সার্ভিসিংয়ের খরচ সম্পর্কে জেনে নিন। সম্ভব হলে একই ধরনের কয়েকটি মডেলের তথ্য তুলনা করুন।৯. গিজারের তাপমাত্রা নিরাপদ পর্যায়ে রাখুন
গিজারের পানি অতিরিক্ত গরম হলে তা থেকে পোড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাঁদের তাপমাত্রা বোঝার ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে। তাই থার্মোস্ট্যাটের সেটিং প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন। খুব বেশি তাপমাত্রা নির্বাচন করলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে পারে এবং গরম পানি ব্যবহারের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। তবে ট্যাংকের তাপমাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা ভাবলে হবে না। কিছু স্টোরেজ ওয়াটার হিটারে পানির স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরামর্শ অনুসরণ করুন। প্রয়োজন হলে উপযুক্ত অ্যান্টি-স্ক্যাল্ড ব্যবস্থা ব্যবহার করা যায়। গরম পানি সরাসরি শরীরে ব্যবহার করার আগে তাপমাত্রা যাচাই করুন। শিশুদের গোসলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকুন এবং তাদের একা গরম পানির কল বা গিজারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে দেবেন না।১০. গিজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কখনো বন্ধ করবেন না
গিজারে থার্মোস্ট্যাট, অতিরিক্ত তাপ থেকে সুরক্ষা এবং প্রেশার রিলিফ ভালভের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতে পারে। এগুলো যন্ত্রের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। প্রতিটি অংশের কাজ আলাদা, কিন্তু উদ্দেশ্য হলো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ঝুঁকি কমানো। গিজার থেকে অস্বাভাবিক শব্দ হলে, বারবার সার্কিট ব্রেকার বন্ধ হয়ে গেলে, পানি অতিরিক্ত গরম হলে কিংবা নিরাপত্তা ভালভ থেকে অস্বাভাবিকভাবে পানি বের হলে সমস্যাটি পরীক্ষা করান। প্রেশার রিলিফ ভালভের পাইপ বন্ধ করে দেওয়া, থার্মোস্ট্যাট বাইপাস করা বা নিরাপত্তা সুইচ বাদ দিয়ে গিজার চালানোর চেষ্টা করবেন না। এতে চাপ বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা বিপজ্জনক পর্যায়ে যেতে পারে। যন্ত্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করার পদ্ধতি মডেলভেদে আলাদা হতে পারে। তাই নিজে থেকে ভালভ খুলে বা কোনো বৈদ্যুতিক অংশে হাত দিয়ে পরীক্ষা করার পরিবর্তে প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়াই নিরাপদ।শীতের সময় গিজার ব্যবহার করে বিদ্যুৎ বিল কমানোর উপায়
গিজারের বিদ্যুৎ খরচ মূলত কতটা পানি গরম করা হচ্ছে, পানির প্রাথমিক তাপমাত্রা, নির্ধারিত তাপমাত্রা, যন্ত্রের দক্ষতা এবং তাপের ক্ষতির ওপর নির্ভর করে। তাই বিদ্যুৎ বিল কমাতে শুধু সুইচ বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়; ব্যবহার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা দরকার। প্রথমত, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গরম পানি তৈরি করবেন না। দ্বিতীয়ত, গোসলের সময় অযথা পানি প্রবাহিত হতে দেবেন না। তৃতীয়ত, ট্যাংকের ধারণক্ষমতা ও পরিবারের ব্যবহারের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখুন। স্টোরেজ গিজারের ট্যাংক ও পাইপে যথাযথ নিরোধক থাকলে তাপের ক্ষতি কমতে পারে। তবে কোনো নিরোধক যোগ করার আগে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা যাচাই করুন। ভুলভাবে আবরণ লাগালে বৈদ্যুতিক অংশ, তাপ নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপত্তা ভালভের কাজে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। গিজার ব্যবহারের সময় ও বিদ্যুৎ খরচ সম্পর্কে ধারণা রাখতে চাইলে মাসিক বিলের সঙ্গে আগের মাসের বিল তুলনা করুন। তবে একই সময়ে অন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বদলালে শুধু গিজারের কারণে বিল বেড়েছে বা কমেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।গিজার চালু করার আগে দ্রুত চেকলিস্ট
শীতের শুরুতে গিজার চালুর আগে নিচের তালিকাটি দেখে নিতে পারেন।- গিজারের বাইরের অংশে ফাটল, মরিচা বা পোড়া দাগ নেই।
- পানির পাইপ ও সংযোগস্থলে দৃশ্যমান লিক নেই।
- বৈদ্যুতিক তার, প্লাগ ও সুইচ অক্ষত।
- সঠিক আর্থিং ও উপযুক্ত বৈদ্যুতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।
- স্টোরেজ গিজারের ট্যাংকে পর্যাপ্ত পানি আছে।
- থার্মোস্ট্যাট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষিত।
- প্রয়োজনে দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে সার্ভিসিং করানো হয়েছে।
- ব্যবহার শেষে সুইচ বন্ধ করার অভ্যাস রয়েছে।
