হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে যেভাবে ফিরে পাবেন, জেনে নিন জরুরি নিরাপত্তা কৌশল
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে যেভাবে ফিরে পাবেন
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেলে ব্যক্তিগত কথোপকথন, ছবি, ভিডিও এবং পরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। শুধু তা-ই নয়, হ্যাকার আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা সহকর্মীদের কাছে টাকা চাইতে পারে। পরিচিত নম্বর থেকে বার্তা আসায় অনেকে বুঝতেও পারেন না যে বার্তাটি আসলে অন্য কেউ পাঠাচ্ছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। নিজের ফোন নম্বরের নিয়ন্ত্রণ আপনার কাছে থাকলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে প্রথমে নিজের নম্বর দিয়ে আবার নিবন্ধন করতে হবে। এরপর এসএমএস বা ফোন কলের মাধ্যমে পাওয়া যাচাইকরণ কোড ব্যবহার করে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। তবে অ্যাকাউন্টে দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু থাকলে অতিরিক্ত পিনের প্রয়োজন হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছুটা অপেক্ষাও করতে হতে পারে। নিচে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের পদ্ধতি, নিরাপত্তা সেটিংস এবং হ্যাক হওয়ার পর কী কী করা উচিত, তা ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো।
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে কি না বুঝবেন যেভাবে
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে মানেই যে আপনার ফোনে কোনো ভাইরাস ঢুকেছে, এমন নয়। কেউ আপনার যাচাইকরণ কোড জেনে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারে। আবার আপনার অনুমতি ছাড়াই কোনো কম্পিউটার বা অন্য ফোনকে লিংকড ডিভাইস হিসেবে যুক্ত করা হলেও আপনার কথোপকথনে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কখনো সিম কার্ডের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেও অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে পড়ে।
কয়েকটি লক্ষণ খেয়াল করলে সমস্যাটি শনাক্ত করা সহজ হয়।
- হঠাৎ অ্যাকাউন্ট থেকে বের হয়ে যাওয়া: হোয়াটসঅ্যাপ খুললে আবার ফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে বলছে, অথচ আপনি নিজে লগ আউট করেননি।
- অচেনা বার্তা পাঠানো: আপনার পরিচিত কেউ জানাচ্ছেন যে আপনার নম্বর থেকে অস্বাভাবিক বার্তা বা টাকা চাওয়ার অনুরোধ গেছে।
- অপরিচিত লিংকড ডিভাইস: Linked Devices বিভাগে এমন কম্পিউটার বা ডিভাইস দেখা যাচ্ছে, যেটি আপনি যুক্ত করেননি।
- যাচাইকরণ কোডের বার্তা: আপনি লগইন করার চেষ্টা না করলেও হোয়াটসঅ্যাপের কোড আসছে।
- অ্যাকাউন্টের সেটিংস বদলে যাওয়া: প্রোফাইলের তথ্য বা নিরাপত্তা সেটিংসে এমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, যা আপনি করেননি।
- সিমে সমস্যা: হঠাৎ কল ও এসএমএস বন্ধ হয়ে গেছে, যদিও আপনার ফোনে নেটওয়ার্ক থাকার কথা। এটি সিম-সংক্রান্ত সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।
এর যেকোনো একটি লক্ষণ দেখলেই নিশ্চিতভাবে হ্যাকিং হয়েছে বলা যায় না। তবে সন্দেহ হলে দ্রুত অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা পরীক্ষা করুন। বিশেষ করে অন্য কেউ আপনার পরিচয়ে টাকা চাইছে কি না, সেটি পরিচিতদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
হ্যাক হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার নিয়ম
নিজের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে না পারলে প্রথমে যে ফোন নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়েছিল, সেটির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করুন। নম্বরটি সচল থাকলে এবং আপনি এসএমএস বা ফোন কল গ্রহণ করতে পারলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
ধাপ ১: নিজের ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ খুলুন
প্রথমে নিজের ফোনে অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপ খুলুন। প্রয়োজনে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি হালনাগাদ করুন। শুধু অ্যাকাউন্ট ফেরত পাওয়ার আশায় অপরিচিত ওয়েবসাইট থেকে কোনো পরিবর্তিত অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না। এসব অ্যাপ আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অ্যাকাউন্ট থেকে বের হয়ে গেলে লগইন বা নিবন্ধনের পর্দায় যান। সেখানে দেশের কোডসহ আপনার হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত ফোন নম্বরটি লিখুন। বাংলাদেশি নম্বর হলে বাংলাদেশের সঠিক আন্তর্জাতিক কোড নির্বাচন করুন এবং নম্বরটি ঠিকভাবে লিখেছেন কি না, তা পরীক্ষা করুন।
ধাপ ২: এসএমএস বা ফোন কলের মাধ্যমে যাচাইকরণ কোড নিন
নম্বর দেওয়ার পর হোয়াটসঅ্যাপ সাধারণত এসএমএসের মাধ্যমে ছয় সংখ্যার একটি যাচাইকরণ কোড পাঠায়। নির্ধারিত স্থানে কোডটি লিখে নিজের নম্বরের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করুন। এসএমএস না এলে অ্যাপে দেখানো নির্দেশনা অনুযায়ী অপেক্ষা করুন। সুবিধাটি উপলভ্য থাকলে ফোন কলের মাধ্যমে কোড পাওয়ার বিকল্পও ব্যবহার করতে পারেন।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যাচাইকরণ কোডটি কাউকে জানাবেন না। কেউ নিজেকে হোয়াটসঅ্যাপের কর্মী, পরিচিত ব্যক্তি বা নিরাপত্তাকর্মী পরিচয় দিলেও কোড শেয়ার করা যাবে না। আপনার অ্যাকাউন্ট ফেরত দেওয়ার কথা বলে কেউ কোড চাইলে সেটিকে প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করুন।
ধাপ ৩: নিজের নম্বর পুনরায় নিবন্ধন করুন
সঠিক যাচাইকরণ কোড প্রবেশ করিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন। আপনার নম্বর ব্যবহার করে অন্য কেউ যদি মূল হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে নিবন্ধিত থাকে, তাহলে সফলভাবে পুনরায় নিবন্ধনের পর তার মূল ফোনের সেশন থেকে অ্যাকাউন্টটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা। ফলে সে আগের মতো আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে না।
তবে মনে রাখবেন, মূল ফোনের নিবন্ধন বন্ধ হওয়া এবং সব ধরনের অননুমোদিত প্রবেশ বন্ধ হওয়া এক বিষয় নয়। আগে কোনো কম্পিউটার বা অন্য ডিভাইস লিংক করা থাকলে সেগুলো আলাদাভাবে পরীক্ষা করে লগ আউট করতে হবে।
ধাপ ৪: দুই ধাপের যাচাইকরণ পিন চাইলে কী করবেন
কোড দেওয়ার পর হোয়াটসঅ্যাপ আপনার কাছে দুই ধাপের যাচাইকরণ পিন চাইতে পারে। এটি সাধারণত ছয় সংখ্যার একটি পিন, যা অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত নিরাপত্তা যোগ করে। আপনি আগে থেকেই এই পিন চালু করে থাকলে নিজের পিন দিন।
কিন্তু হ্যাকার যদি নিজের পিন চালু করে দেয় এবং আপনি সেটি না জানেন, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। অ্যাকাউন্টে আগে থেকে যুক্ত পুনরুদ্ধারের ইমেইল ঠিকানা থাকলে সেটির মাধ্যমে পিন রিসেট করার বিকল্প পাওয়া যেতে পারে। ইমেইল যুক্ত না থাকলে বা সেটিতে প্রবেশ করতে না পারলে হোয়াটসঅ্যাপের নির্দেশনা অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাত দিন অপেক্ষা করার পর পিন ছাড়াই আবার লগইন করার সুযোগ দেওয়া হয়।
এই অপেক্ষার সময় অন্য কোনো পদ্ধতিতে পিন ভাঙার চেষ্টা করবেন না। অপরিচিত ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট ফেরত নেওয়ার প্রস্তাবেও রাজি হবেন না। হোয়াটসঅ্যাপের অ্যাপের ভেতরে দেখানো নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ।
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার পর যে কাজগুলো করবেন
অ্যাকাউন্টে আবার প্রবেশ করতে পারা স্বস্তির বিষয়। কিন্তু শুধু লগইন করেই কাজ শেষ করবেন না। হ্যাকার কীভাবে প্রবেশ করেছিল, সেটি শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে একই ঘটনা ঠেকানোর জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
১. লিংকড ডিভাইস পরীক্ষা করুন
হোয়াটসঅ্যাপের Settings বা সেটিংস থেকে Linked Devices বিভাগে যান। এখানে আপনার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত কম্পিউটার, ব্রাউজার বা অন্য ডিভাইসের তালিকা দেখতে পাবেন। কোনো ডিভাইস চিনতে না পারলে সেটিতে প্রবেশ করে Log Out নির্বাচন করুন।
যদি একাধিক অচেনা ডিভাইস থাকে, প্রতিটি আলাদাভাবে পরীক্ষা করুন। নিজের ব্যবহৃত কম্পিউটার বা ব্রাউজারের নাম চিনতে না পারলেও সেটিকে সন্দেহের তালিকায় রাখুন। প্রয়োজন হলে সব লিংকড ডিভাইস থেকে লগ আউট করে পরে শুধু নিজের পরিচিত ডিভাইস যুক্ত করুন।
২. দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু করুন
হোয়াটসঅ্যাপের Settings থেকে Account এবং তারপর Two-step verification বিভাগে যান। সেখানে নির্দেশনা অনুসরণ করে একটি পিন সেট করুন। আপনার অ্যাপের সংস্করণ অনুযায়ী মেনুর নাম বা অবস্থান কিছুটা আলাদা হতে পারে।
এমন পিন নির্বাচন করুন, যা সহজে অনুমান করা যায় না। নিজের জন্মতারিখ, ফোন নম্বরের শেষ ছয় সংখ্যা কিংবা ১২৩৪৫৬-এর মতো পরিচিত সংখ্যা ব্যবহার করবেন না। পিনটি নিরাপদে সংরক্ষণ করুন এবং অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
৩. পুনরুদ্ধারের ইমেইল যুক্ত করুন
দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু করার সময় হোয়াটসঅ্যাপ পুনরুদ্ধারের জন্য ইমেইল যুক্ত করার সুযোগ দিতে পারে। নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি সচল ইমেইল ব্যবহার করুন। এতে পিন ভুলে গেলে বা অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সমস্যা হলে পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাওয়া সহজ হতে পারে।
তবে ইমেইল যুক্ত করলেই সব ধরনের হ্যাকিং বন্ধ হয়ে যায় না। ইমেইল অ্যাকাউন্টেও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এবং দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু রাখুন। ইমেইলের পাসওয়ার্ড যদি অন্য কোথাও ব্যবহার করে থাকেন, সেটিও পরিবর্তন করা ভালো।
৪. প্রোফাইলের তথ্য যাচাই করুন
আপনার নাম, প্রোফাইল ছবি, About এবং অন্যান্য সেটিংস পরীক্ষা করুন। অপরিচিত পরিবর্তন দেখতে পেলে সেগুলো ঠিক করে নিন। Privacy বিভাগে গিয়ে প্রোফাইল ছবি, Last Seen, About, Status এবং গ্রুপে কে আপনাকে যুক্ত করতে পারবে, সেগুলোর অনুমতি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করুন।
অপরিচিত ব্যক্তিরা যেন সহজে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে না পারে, সে জন্য গোপনীয়তার সেটিংস সীমিত রাখা যেতে পারে। তবে কোন সেটিংস কতটা সীমিত করবেন, তা নির্ভর করবে আপনি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যক্তিগত কাজে নাকি ব্যবসায়িক যোগাযোগে ব্যবহার করেন তার ওপর।
হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক হলে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করবেন যেভাবে
অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ অন্য কারও হাতে চলে গেলে সে আপনার পরিচিতদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারে। বিশেষ করে পরিচিত নম্বর থেকে টাকা চাওয়া হলে অনেকে যাচাই না করেই টাকা পাঠিয়ে দেন। তাই অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি পরিচিতদের সতর্ক করা জরুরি।
অন্য কোনো নিরাপদ যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পরিবার, বন্ধু এবং সহকর্মীদের জানিয়ে দিন যে আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে সমস্যা হয়েছে। আপনার নম্বর থেকে টাকা, বিকাশ বা নগদে অর্থ পাঠানোর অনুরোধ, সন্দেহজনক লিংক কিংবা যাচাইকরণ কোড চাওয়া হলে যেন তারা সাড়া না দেন।
অ্যাকাউন্টে আবার প্রবেশ করতে পারলে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করুন। কেউ আপনার পরিচয়ে টাকা পাঠিয়ে থাকলে দ্রুত তাকে লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করতে বলুন এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক সেবাদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলুন। টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না, তাই যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ফোন নম্বর বা সিম কার্ডের নিয়ন্ত্রণ হারালে কী করবেন
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ফোন নম্বরের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ লগইন যাচাই করার জন্য সাধারণত ওই নম্বরে এসএমএস বা ফোন কলের মাধ্যমে কোড পাঠানো হয়। আপনার সিম হারিয়ে গেলে, চুরি হলে বা হঠাৎ নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে গেলে প্রথমে মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
সিম কার্ড চুরি হয়ে থাকলে অপারেটরের সহায়তায় সেটি বন্ধ করার এবং নিজের পরিচয় যাচাই করে নতুন সিম নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। যদি সন্দেহ হয় কেউ আপনার অনুমতি ছাড়া একই নম্বরের সিম সক্রিয় করেছে, তাহলে বিষয়টি অপারেটরকে স্পষ্টভাবে জানান।
নতুন সিম হাতে পাওয়ার পর নিজের নম্বর দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ পুনরায় নিবন্ধন করুন। এরপর দুই ধাপের যাচাইকরণ এবং লিংকড ডিভাইস পরীক্ষা করুন। একই সঙ্গে মোবাইল অপারেটরের অ্যাকাউন্টে কোনো অননুমোদিত পরিবর্তন হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা উচিত।
আপনি যদি পুরোনো নম্বরের পরিবর্তে নতুন নম্বর ব্যবহার শুরু করেন, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপের Change Number সুবিধা ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টের নম্বর পরিবর্তন করুন। নতুন সিম ব্যবহার করলেই আগের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলে যায় না। তাই নম্বর পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা জরুরি।
হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা ও ছবি কি আবার ফিরে পাওয়া যাবে?
অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়া এবং পুরোনো বার্তা, ছবি বা ভিডিও পুনরুদ্ধার করা আলাদা বিষয়। হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে আবার প্রবেশ করতে পারলেও সব পুরোনো কথোপকথন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বার্তা পুনরুদ্ধার অনেকাংশে নির্ভর করে আগে ব্যাকআপ চালু ছিল কি না, কোন অ্যাকাউন্টে ব্যাকআপ সংরক্ষিত হয়েছে এবং আপনি কোন ফোন ব্যবহার করছেন তার ওপর।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সাধারণত Google Account-এর মাধ্যমে এবং আইফোনে iCloud-এর মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যাকআপ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। আগে থেকে ব্যাকআপ থাকলে পুনরায় সেটআপের সময় সেটি পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তবে একই ফোন নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাকআপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার মতো শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
ব্যাকআপ না থাকলে মুছে যাওয়া সব বার্তা ফেরত পাওয়ার সহজ বা নিশ্চিত কোনো উপায় নেই। এ অবস্থায় অপরিচিত রিকভারি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে নিজের নম্বর, যাচাইকরণ কোড কিংবা ইমেইলের পাসওয়ার্ড দেবেন না। এসব সেবা অনেক সময় ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ঝুঁকি তৈরি করে।
ব্যাকআপ পুনরুদ্ধারের আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন ব্যাকআপ পুরোনো ব্যাকআপের তথ্য বদলে দিতে পারে কি না, সেটি বুঝে নেওয়া। ফোনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ছবি বা নথি অন্য নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা থাকলে সেগুলোর কপি আলাদা করে পরীক্ষা করুন।
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া ঠেকানোর ৮টি উপায়
১. যাচাইকরণ কোড কাউকে দেবেন না
হোয়াটসঅ্যাপের এসএমএস কোড আপনার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। কেউ ভুল করে আপনার নম্বরে কোড পাঠানোর কথা বলে সেটি চাইলে বিশ্বাস করবেন না। পরিচিত ব্যক্তিও কোড চাইলে আগে অন্য মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করুন।
২. দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু রাখুন
শুধু এসএমএস কোডের ওপর নির্ভর না করে দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু রাখুন। এতে নতুন করে অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের সময় অতিরিক্ত পিনের প্রয়োজন হতে পারে। এই ব্যবস্থা অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়ায়, যদিও সব ধরনের প্রতারণা বা অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না।
৩. অপরিচিত লিংকে ক্লিক করবেন না
ফ্রি উপহার, পুরস্কার, চাকরি, জরুরি অ্যাকাউন্ট যাচাই কিংবা বিশেষ অফারের নামে আসা লিংক সতর্কতার সঙ্গে দেখুন। লিংকটি পরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করলেও সেটি আসল কি না, যাচাই করুন। সন্দেহজনক পেজে ফোন নম্বর, পাসওয়ার্ড বা যাচাইকরণ কোড দেবেন না।
৪. অপরিচিত ডিভাইস লিংক করবেন না
হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব বা অন্য কোনো কম্পিউটারে অ্যাকাউন্ট যুক্ত করার সময় কিউআর কোড কোথায় স্ক্যান করছেন, তা নিশ্চিত করুন। কেউ ভিডিও কল বা ফোনে কথা বলতে বলতে কিউআর কোড স্ক্যান করতে বললে আগে কারণ যাচাই করুন। নিজের অজান্তে কোনো ডিভাইস যুক্ত হলে সেটি সঙ্গে সঙ্গে লগ আউট করুন।
৫. ফোন ও অ্যাপ হালনাগাদ রাখুন
হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফোনের অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত আপডেট করুন। হালনাগাদ সংস্করণে নিরাপত্তা উন্নতি ও ত্রুটি সংশোধন থাকতে পারে। অ্যাপ ডাউনলোডের জন্য অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করুন এবং অপ্রয়োজনীয় অনুমতি চাওয়া অ্যাপ এড়িয়ে চলুন।
৬. ফোনে স্ক্রিন লক ব্যবহার করুন
ফোনে পিন, পাসওয়ার্ড, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা উপযুক্ত বায়োমেট্রিক লক চালু রাখুন। অন্য কেউ ফোন হাতে পেলেই যেন আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথন খুলতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে হোয়াটসঅ্যাপের অ্যাপ লক সুবিধাও ব্যবহার করুন, যদি আপনার ডিভাইসে এটি পাওয়া যায়।
৭. নিয়মিত লিংকড ডিভাইস পরীক্ষা করুন
মাঝেমধ্যে Linked Devices বিভাগে গিয়ে সংযুক্ত ডিভাইসের তালিকা দেখুন। কোনো ডিভাইস অচেনা হলে সেটি সরিয়ে দিন। বিশেষ করে অন্যের কম্পিউটারে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করলে কাজ শেষে লগ আউট করতে ভুলবেন না।
৮. ব্যাকআপ ও ইমেইল নিরাপদ রাখুন
গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন হারানোর ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত ব্যাকআপ রাখুন। ব্যাকআপের জন্য ব্যবহৃত Google Account বা Apple Account-এর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করুন। আপনার অ্যাকাউন্টে সংবেদনশীল তথ্য থাকলে হোয়াটসঅ্যাপের End-to-end encrypted backup সুবিধা উপলভ্য থাকলে সেটি বিবেচনা করতে পারেন। এই সুবিধা চালু করলে ব্যাকআপের জন্য নির্ধারিত পাসওয়ার্ড বা কী নিরাপদে রাখতে হবে।
অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে না পারলে দ্রুত সমাধান খুঁজতে গিয়ে অনেকে ভুল সিদ্ধান্ত নেন। এতে সমস্যা কমার বদলে বাড়তে পারে। তাই কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি।
- অ্যাকাউন্ট ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ টাকা চাইলে যাচাই না করে অর্থ দেবেন না।
- কাউকে এসএমএস যাচাইকরণ কোড, দুই ধাপের পিন বা ইমেইলের পাসওয়ার্ড দেবেন না।
- অপরিচিত অ্যাপকে হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা পড়ার বা ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনুমতি দেবেন না।
- একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
- সিমে সমস্যা দেখা দিলে সেটিকে শুধু নেটওয়ার্কের ত্রুটি ধরে নিয়ে অবহেলা করবেন না।
- পুরোনো বার্তা ফিরে পাওয়ার আশায় যাচাই ছাড়া কোনো রিকভারি সফটওয়্যার ইনস্টল করবেন না।
- পরিচিতদের সতর্ক করতে দেরি করবেন না, বিশেষ করে আপনার নম্বর থেকে টাকা চাওয়ার ঘটনা ঘটলে।
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ফেরত না পেলে কী করবেন?
নিজের নম্বর দিয়ে নিবন্ধনের চেষ্টা করেও অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে না পারলে সমস্যার ধরন বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নিন। প্রথমে নিশ্চিত করুন, সিমটি সচল আছে এবং যাচাইকরণ কোড পাওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। নম্বরটি ভুল লিখেছেন কি না, দেশের কোড ঠিক আছে কি না এবং অ্যাপের নির্দেশনা অনুসারে অপেক্ষা করেছেন কি না, তা পরীক্ষা করুন।
বারবার কোড চাওয়ার বদলে পর্দায় দেখানো সময়সীমা মেনে চলুন। অতিরিক্ত চেষ্টা করলে সাময়িক সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। দুই ধাপের পিনের সমস্যা হলে পুনরুদ্ধারের ইমেইল ব্যবহার করুন, যদি সেটি আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে। পিনটি অন্য কেউ পরিবর্তন করে থাকলে অ্যাপে দেওয়া অপেক্ষার সময় ও নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
সমস্যা সমাধান না হলে হোয়াটসঅ্যাপের অফিসিয়াল Help Center ব্যবহার করুন। অ্যাপের Settings বা সহায়তা বিভাগ থেকে Contact Us সুবিধা পাওয়া গেলে সেটি ব্যবহার করতে পারেন। যোগাযোগের সময় আপনার নম্বর দেশের কোডসহ লিখুন এবং সমস্যাটি কীভাবে শুরু হয়েছে, তা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করুন।
অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে সন্দেহ করলে শুধু হোয়াটসঅ্যাপের সহায়তার ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজনে মোবাইল অপারেটরের সঙ্গেও যোগাযোগ করুন। আর্থিক প্রতারণা হয়ে থাকলে লেনদেনের রসিদ, নম্বর, বার্তা ও সময়ের তথ্য সংরক্ষণ করুন। পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আর্থিক সেবাদাতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহায়তা নিন।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে কি আবার ফিরে পাওয়া যায়?
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজের ফোন নম্বরের নিয়ন্ত্রণ থাকলে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পুনরায় নিবন্ধন করে ফিরে পাওয়া সম্ভব। তবে দুই ধাপের যাচাইকরণ পিন, সিমের অবস্থা এবং অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত পদক্ষেপ লাগতে পারে।
হ্যাকার আমার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করলে তাকে কীভাবে বের করব?
নিজের ফোনে অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ খুলে একই নম্বর দিয়ে পুনরায় নিবন্ধন করুন এবং এসএমএস বা ফোন কলের যাচাইকরণ কোড দিন। সফল নিবন্ধনের পর অন্য মূল ফোনের সেশন থেকে অ্যাকাউন্ট বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা। এরপর Linked Devices বিভাগে গিয়ে অচেনা ডিভাইসগুলোও লগ আউট করুন।
হ্যাকার দুই ধাপের পিন চালু করলে কী হবে?
আপনার জানা পিন না থাকলে পুনরুদ্ধারের ইমেইল দিয়ে সেটি রিসেট করার সুযোগ থাকতে পারে। তা সম্ভব না হলে হোয়াটসঅ্যাপের নির্দেশনা অনুসারে অপেক্ষা করতে হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাত দিন অপেক্ষা করার পর পিন ছাড়া লগইন করার সুযোগ পাওয়া যায়।
হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক হলে কি পুরোনো সব বার্তা হ্যাকার পড়তে পারে?
এটি নির্ভর করে হ্যাকার কীভাবে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছে এবং কোন তথ্যের নাগাল পেয়েছে তার ওপর। শুধু নতুন করে অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করলেই সব পুরোনো বার্তা অন্য ডিভাইসে দেখা যায় না। তবে আগে থেকে যুক্ত কোনো ডিভাইস, ফোনের সরাসরি প্রবেশাধিকার বা ব্যাকআপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে কি নতুন নম্বর নিতে হবে?
সব সময় নতুন নম্বর নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। পুরোনো নম্বরের নিয়ন্ত্রণ আপনার কাছে থাকলে সাধারণত সেই নম্বর দিয়েই অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা যায়। সিম হারিয়ে গেলে বা অন্য কেউ সেটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে থাকলে প্রথমে মোবাইল অপারেটরের সহায়তায় নম্বরের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করুন।
যাচাইকরণ কোড না এলে কী করব?
নম্বর ও দেশের কোড ঠিক আছে কি না দেখুন। সিমে নেটওয়ার্ক আছে কি না এবং এসএমএস বা কল গ্রহণ করা যাচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। অ্যাপে দেখানো সময়সীমা শেষ হলে উপলভ্য বিকল্প অনুযায়ী আবার চেষ্টা করুন। বারবার কোড চাওয়া বা অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে কোড নেওয়ার চেষ্টা করবেন না।
হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক হলে কি ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করতে হবে?
শুধু হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে সাধারণত ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করা প্রথম পদক্ষেপ নয়। আগে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার, লিংকড ডিভাইস পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা সেটিংস ঠিক করুন। ফোনে ক্ষতিকর অ্যাপ থাকার সন্দেহ হলে সেটি পরীক্ষা করুন। ফ্যাক্টরি রিসেটের সিদ্ধান্ত নিলে আগে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিরাপদ ব্যাকআপ রাখুন।
অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার পর কি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যাকআপ চালু করব?
হ্যাঁ, গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন হারানোর ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা ভালো। তবে ব্যাকআপ চালু করার আগে সঠিক Google Account বা Apple Account ব্যবহার করছেন কি না, তা নিশ্চিত করুন। ব্যাকআপ অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা দুর্বল হলে সেটিও ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
শেষ কথা
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিজের নম্বর দিয়ে পুনরায় নিবন্ধন করুন, যাচাইকরণ কোড কাউকে দেবেন না এবং দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু রাখুন। অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার পর লিংকড ডিভাইস পরীক্ষা করুন, পুনরুদ্ধারের ইমেইল যুক্ত করুন এবং পরিচিতদের সতর্ক করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা শুধু একটি পিন বা পাসওয়ার্ডের ওপর নির্ভর করে না। ফোন নম্বর, সিম কার্ড, ইমেইল, ফোনের লক এবং আপনার অনলাইন আচরণ সবই এখানে ভূমিকা রাখে। তাই সন্দেহজনক বার্তা এড়িয়ে চলুন, ব্যক্তিগত কোড গোপন রাখুন এবং নিয়মিত নিরাপত্তা সেটিংস পরীক্ষা করুন।
অফিশিয়াল সহায়তা: হোয়াটসঅ্যাপ হেল্প সেন্টার
