Table of Content

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে মাউশির নির্দেশনা, এমপিও শিক্ষকদের বেতন নিয়ে যা জানা গেল

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে মাউশির নির্দেশনা, এমপিও শিক্ষকদের বেতন নিয়ে যা জানা গেল

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিল। অন্যদিকে, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কবে থেকে বেতন পাবেন, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কাজ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন চালুর প্রক্রিয়া এক নয়। তাই নতুন পে স্কেল নিয়ে কোনো খবর জানার সময় এই পার্থক্যটি বুঝে নেওয়া জরুরি।

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে মাউশির নির্দেশনা, এমপিও শিক্ষকদের বেতন নিয়ে যা জানা গেল

১ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত নির্দেশনায় মাউশির অধীন মাঠপর্যায়ের কার্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জনবলের তথ্য নির্ধারিত ছকে পাঠাতে বলা হয়। পরে ১৫ অক্টোবর মাউশির মহাপরিচালক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো চালুর বিষয়ে কাজ চলার কথা জানান। দৈনিক শিক্ষার প্রতিবেদন এবং দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিবেদন থেকে বিষয়গুলো জানা যায়।

মাউশির নতুন নির্দেশনায় কী বলা হয়েছিল?

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে মাউশির অধীন প্রতিষ্ঠান ও কার্যালয়ের জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রয়োজন। এ জন্য প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পদ, পদসংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট বেতন গ্রেডের তথ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত পদ্ধতিতে পাঠাতে বলা হয়।

এই তথ্যগুলো আইবাস++ (iBAS++) ব্যবস্থার অর্গানোগ্রাম সাব-মডিউলে সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ, বেতন-ভাতা ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক কার্যক্রমে সঠিক তথ্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পদ বা জনবলের তথ্য বাদ পড়লে পরবর্তী প্রশাসনিক কাজেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

মাউশির ১ অক্টোবরের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় তথ্য ৭ অক্টোবরের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছিল। অর্থাৎ, এটি ছিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশনা। ওই তারিখকে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী সবার বেতন পাওয়ার শেষ দিন হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

কোন কোন তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছিল?

মাউশির প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জনবলের তথ্য নির্ধারিত ছকে দিতে বলা হয়। ছকে মূলত নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল:

  • ক্রমিক নম্বর
  • পদের নাম বাংলায়
  • পদের নাম ইংরেজিতে
  • পদের মূল বেতন গ্রেড বা সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড
  • পদসংখ্যা
  • প্রয়োজনীয় মন্তব্য

এ ছাড়া এনাম কমিশনের পর সৃষ্ট পদগুলোর তথ্যও অর্গানোগ্রাম সাব-মডিউলে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এসব পদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি আদেশ বা জিও এবং সংশ্লিষ্ট নথি গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু পদের নাম লিখে পাঠালেই হবে না, তথ্যের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও ঠিক রাখতে হবে।

তথ্য কোথায় এবং কীভাবে পাঠাতে বলা হয়েছিল?

মাউশির নির্দেশনায় তথ্যের হার্ড কপি এবং সফট কপি পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। হার্ড কপি পাঠানোর ঠিকানা ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক, এইচআরএম শাখা, ঢাকা, কক্ষ নম্বর ৫৩০। সফট কপি নিকষ ফন্টে ওয়ার্ড ডকুমেন্ট হিসেবে নির্ধারিত ইমেইল ঠিকানায় পাঠাতে বলা হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠান বা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তথ্য পাঠানোর আগে পদের নাম, গ্রেড, পদসংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। ভুল তথ্য পাঠানো হলে তা সংশোধনের জন্য বাড়তি সময় লাগতে পারে।

উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবর ছিল ওই নির্দেশনায় উল্লেখ করা তথ্য পাঠানোর সময়সীমা। এই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর কোনো প্রতিষ্ঠানকে তথ্য সংশোধন বা পুনরায় জমা দিতে হলে পরবর্তী দাপ্তরিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কবে নতুন পে স্কেলের বেতন পাবেন?

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাওয়ার বিষয়টি সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম থেকে আলাদা করে দেখতে হবে। ১৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস জানায়, মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেছেন, শিক্ষক-কর্মচারীরা যেন নতুন পে স্কেল অনুযায়ী দ্রুত বেতন পান, সে জন্য কাজ চলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব দেশে ফেরার পর বিষয়টি অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করার কথা ছিল। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন চালুর নির্দিষ্ট তারিখ তখনও নিশ্চিত করা হয়নি। অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে বেতন দেওয়ার চেষ্টা চলছিল, যদিও ওই সময়ের মধ্যে তা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা দরকার। নভেম্বর বা ডিসেম্বরের সম্ভাব্য সময়ের কথা বলা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যের ভিত্তিতে। এটি নিশ্চিত বেতন প্রদানের তারিখ নয়। পরবর্তী সরকারি আদেশ বা নির্ভরযোগ্য ঘোষণা ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট মাসকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া উচিত হবে না।

মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পেতে দেরি হওয়ার কারণ কী?

প্রতিবেদনে নতুন বেতন কাঠামো চালুর ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের হিসাব প্রস্তুতের পদ্ধতিকে একটি সম্ভাব্য জটিলতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মাদ্রাসার জনবলের বেতন হিসাব হাতে-কলমে করতে হয়। অন্যদিকে, স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার হিসাব কম্পিউটারের মাধ্যমে করা হয়।

হাতে হিসাব করার কারণে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে বাড়তি সময় লাগতে পারে। তবে এই তথ্য থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না যে মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন পে স্কেলের সুবিধা পাবেন না। একই প্রতিবেদনে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আলাদাভাবে আগে বেতন দেওয়ার পরিকল্পনা সম্ভব নয়; সংশ্লিষ্ট সবার জন্য একসঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।

নতুন পে স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কীভাবে নির্ধারণ হবে?

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে আইবাস++-এর পে ফিক্সেশন মডিউল ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ৪ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং ২০ অক্টোবরের মধ্যে প্রক্রিয়াটি শেষ করার পরিকল্পনা জানানো হয়েছিল।

বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, বর্তমান পদ, গ্রেড এবং চাকরিতে যোগদানের তারিখের মতো তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যও যাচাই করতে হবে। পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট আদেশ ও নথি প্রয়োজন হতে পারে।

সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন চালুর সময়সূচি এক করে দেখা যাবে না। সরকারি কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত কোনো সময়সীমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সময়সূচি

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। এতে নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মূল বেতনের বর্ধিত অংশ ধাপে ধাপে কার্যকর করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সময়কাল মূল বেতনের বর্ধিত অংশ
১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর জন্য ৫০ শতাংশ এবং গ্রেড ১ থেকে ৯-এর জন্য ৪০ শতাংশ
১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর জন্য ৭৫ শতাংশ এবং গ্রেড ১ থেকে ৯-এর জন্য ৭০ শতাংশ
১ জুলাই ২০২৭ থেকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতনের পূর্ণ বর্ধিত অংশ কার্যকরের পরিকল্পনা
১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন কাঠামোর সংশোধিত ভাতা কার্যকরের কথা বলা হয়েছে

উপরের সময়সূচি সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রকাশিত বেতন কাঠামোর তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন চালুর বাস্তব প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।

পে ফিক্সেশনের আগে যেসব বিষয় যাচাই করবেন

সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করার আগে ব্যক্তিগত ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য সঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করা দরকার। বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা ভালো:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মতারিখের তথ্য সঠিক আছে কি না দেখুন।
  • চাকরিতে প্রথম যোগদানের তারিখ যাচাই করুন।
  • বর্তমান পদ, কর্মস্থল এবং বেতন গ্রেড মিলিয়ে নিন।
  • ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের তথ্য পরীক্ষা করুন।
  • আগের বেতন নির্ধারণের রেকর্ড যাচাই করুন।
  • পদোন্নতি, বদলি বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট আদেশ প্রস্তুত রাখুন।
  • পে ফিক্সেশন শেষ হলে চূড়ান্ত রিপোর্টের তথ্য মিলিয়ে দেখুন।

কোনো তথ্য ভুল থাকলে নিজে থেকে অনুমান করে পরিবর্তন না করে সংশ্লিষ্ট অফিস বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সহায়তা নেওয়া উচিত। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণ হলে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

শিক্ষক-কর্মচারীদের এখন কী করা উচিত?

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজেদের বেতন ও চাকরিসংক্রান্ত নথি ঠিক রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকাশিত সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা। নতুন পে স্কেল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তারিখ বা দাবির কথা দেখা যেতে পারে। কিন্তু শুধু কোনো পোস্ট বা অনানুষ্ঠানিক খবরের ভিত্তিতে বেতন পাওয়ার তারিখ নিশ্চিত ধরে নেওয়া উচিত নয়।

প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও জনবলের তথ্য, পদসংখ্যা, গ্রেড এবং অনুমোদিত পদের কাগজপত্র যাচাই করে রাখা প্রয়োজন। মাউশি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা অর্থ বিভাগের নতুন নির্দেশনা প্রকাশিত হলে সেটি অনুসরণ করতে হবে।

বেতন কবে পাওয়া যাবে, তা জানতে হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং এমপিওসংক্রান্ত নির্দেশনা দেখাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের অগ্রগতি দেখে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার নির্দিষ্ট দিন অনুমান করা ঠিক হবে না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

১. মাউশি কেন জনবলের তথ্য চেয়েছিল?

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের প্রস্তুতি এবং আইবাস++-এর অর্গানোগ্রাম সাব-মডিউলে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জনবলের সঠিক তথ্য সংরক্ষণের জন্য এই তথ্য চাওয়া হয়েছিল।

২. মাউশির নির্দেশনায় তথ্য পাঠানোর শেষ তারিখ কত ছিল?

১ অক্টোবর ২০২৬-এর নির্দেশনায় ৭ অক্টোবরের মধ্যে নির্ধারিত ছকে তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছিল। এটি তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা, সবার নতুন বেতন পাওয়ার তারিখ নয়।

৩. এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কি নতুন পে স্কেল পাবেন?

১৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে মাউশির মহাপরিচালক শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন দেওয়ার জন্য কাজ চলার কথা জানিয়েছেন। তবে বেতন চালুর নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা হয়নি। পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

৪. এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কি নভেম্বর বা ডিসেম্বরে নতুন বেতন পাবেন?

একজন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তার বক্তব্যে নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে বেতন দেওয়ার চেষ্টা করার কথা বলা হয়েছিল। তবে এটি নিশ্চিত সময়সীমা ছিল না। চূড়ান্ত তারিখ জানতে সরকারি ঘোষণা দেখতে হবে।

৫. সরকারি কর্মচারীদের পে ফিক্সেশন কোথায় হবে?

প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের জন্য আইবাস++-এর পে ফিক্সেশন মডিউল ব্যবহার করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও আগের বেতন নির্ধারণের রেকর্ড যাচাই করতে হবে।

৬. পে ফিক্সেশনের জন্য কোন নথি প্রয়োজন হতে পারে?

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, আগের মূল বেতনের তথ্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পদোন্নতি, বদলি বা উচ্চতর গ্রেডের সরকারি আদেশ প্রয়োজন হতে পারে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

শেষ কথা

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নের জন্য মাউশির জনবলের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ। সঠিক পদ, গ্রেড, পদসংখ্যা ও সরকারি নথি সংরক্ষণ করলে বেতন নির্ধারণের কাজ সহজ হয়। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন চালুর বিষয়টি নিয়ে কাজ চললেও ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা হয়নি।

তাই শিক্ষক-কর্মচারীদের উচিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা, প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং নতুন পে স্কেলসংক্রান্ত সরকারি ঘোষণা যাচাই করা। এতে গুজবের বদলে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।

তথ্যসূত্র

Post a Comment