Table of Content

অ্যাপলের নতুন MacBook Pro ও iMac-এ M6 চিপ, এক চার্জে ২৪ ঘণ্টা চলবে ল্যাপটপ

অ্যাপলের নতুন MacBook Pro ও iMac-এ M6 চিপ, এক চার্জে ২৪ ঘণ্টা চলবে ল্যাপটপ

নতুন প্রজন্মের M6 চিপ দিয়ে ১৪ ইঞ্চি MacBook Pro ও iMac কম্পিউটার হালনাগাদ করেছে Apple। নতুন প্রসেসরে বেশি গ্রাফিকস ক্ষমতা, দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-সংক্রান্ত কাজ এবং উন্নত সংযোগ সুবিধার ওপর জোর দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে ল্যাপটপটির ব্যাটারি একবার চার্জে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা চলতে পারে বলে জানিয়েছে Apple।

অ্যাপলের নতুন MacBook Pro ও iMac-এ M6 চিপ, এক চার্জে ২৪ ঘণ্টা চলবে ল্যাপটপ


২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত Apple-এর ঘোষণায় নতুন ১৪ ইঞ্চি MacBook Pro-এর বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে, নতুন iMac-এও M6 পরিবারের চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি কম্পিউটারেই macOS 27 রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু দেশ ও অঞ্চলে ২৮ অক্টোবর থেকে প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে এবং বিক্রি শুরুর তারিখ ৬ নভেম্বর। তবে বাংলাদেশে কবে থেকে পণ্যগুলো পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে স্থানীয় বাজারের নির্দিষ্ট তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

নতুন MacBook Pro-তে কী থাকছে?

নতুন ১৪ ইঞ্চি MacBook Pro-এর প্রধান আকর্ষণ M6 চিপ। এতে ১২-কোর CPU, ১২-কোর GPU এবং Dual 16-core Neural Engine রয়েছে। সহজভাবে বললে, CPU সাধারণ কম্পিউটিং ও জটিল হিসাবের কাজ সামলায়, GPU গ্রাফিকস ও ভিজ্যুয়াল কাজের গতি বাড়ায়, আর Neural Engine কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কিছু কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সাহায্য করে।

এই সমন্বয় দৈনন্দিন অফিসের কাজের পাশাপাশি ভিডিও সম্পাদনা, ছবি প্রক্রিয়াকরণ, সফটওয়্যার তৈরি, একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো এবং স্থানীয়ভাবে AI মডেল ব্যবহারের মতো কাজেও সহায়ক হতে পারে। তবে বাস্তবে কতটা গতি পাওয়া যাবে, তা সফটওয়্যার, কাজের ধরন, মেমোরি ও নির্দিষ্ট কনফিগারেশনের ওপর নির্ভর করবে।

M6 চিপ আগের চেয়ে কতটা দ্রুত?

Apple-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, M5 চিপের তুলনায় M6-এর গ্রাফিকস পারফরম্যান্স সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ বেশি এবং ডিভাইসেই সম্পন্ন হওয়া AI কাজের পারফরম্যান্স সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ বেশি হতে পারে। কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, M1-ভিত্তিক ১৩ ইঞ্চি MacBook Pro থেকে আপগ্রেড করলে নির্দিষ্ট গ্রাফিকস কাজে সর্বোচ্চ ১১ গুণ এবং কিছু AI কাজে সর্বোচ্চ ১৩ গুণ পর্যন্ত পারফরম্যান্স বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।

এগুলো Apple-এর নির্দিষ্ট পরীক্ষা ও তুলনার ভিত্তিতে দেওয়া সর্বোচ্চ দাবি। সব অ্যাপ, সব কাজ কিংবা প্রতিটি ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই পুরোনো MacBook থেকে নতুন মডেলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিজের ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও কাজের ধরন বিবেচনা করা জরুরি।

নতুন GPU-তে Neural Accelerator এবং তৃতীয় প্রজন্মের ray-tracing প্রযুক্তিও রয়েছে। ফলে সমর্থিত সফটওয়্যারে ত্রিমাত্রিক গ্রাফিকস, অ্যানিমেশন, ছবি সম্পাদনা ও অন্যান্য গ্রাফিকসনির্ভর কাজের গতি বাড়তে পারে। যারা নিয়মিত ভিডিও তৈরি করেন, ডিজাইন করেন বা কোড লেখেন, তাঁদের জন্য এই উন্নতিগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

AI কাজের জন্য নতুন MacBook Pro কতটা উপযোগী?

নতুন MacBook Pro-তে AI-সংক্রান্ত কাজকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। M6 চিপের Neural Engine ও GPU-তে থাকা Neural Accelerator সমর্থিত AI প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করবে। Apple Intelligence-এর বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করা এবং উপযুক্ত সফটওয়্যারে স্থানীয়ভাবে বড় ভাষার মডেল বা LLM চালানোর ক্ষেত্রেও এই হার্ডওয়্যার কাজে লাগতে পারে।

স্থানীয়ভাবে AI কাজ করার একটি সুবিধা হলো, কিছু প্রক্রিয়াকরণ সরাসরি কম্পিউটারেই সম্পন্ন করা যায়। এতে কাজের ধরন অনুযায়ী ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা সহজ হতে পারে এবং সব কাজের জন্য ক্লাউড সার্ভারের ওপর নির্ভর করতে হয় না। তবে সব AI সুবিধা সম্পূর্ণ অফলাইনে কাজ করবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোন সুবিধা পাওয়া যাবে, তা সফটওয়্যার, ভাষা, অঞ্চল ও ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভর করতে পারে।

Apple জানিয়েছে, M6 মডেলটি macOS 27-এর সঙ্গে কাজ করবে। এতে Siri AI ও Apple Intelligence-সংক্রান্ত সুবিধার পাশাপাশি অপারেটিং সিস্টেমের নতুন ইন্টারফেসও রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট AI সুবিধা ব্যবহার করতে প্রয়োজনীয় ভাষা ও অঞ্চল সমর্থন আছে কি না, তা কেনার আগে যাচাই করা ভালো।

ব্যাটারি ব্যাকআপ সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা

নতুন ১৪ ইঞ্চি MacBook Pro-এর ব্যাটারি ব্যাকআপ সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা বলে জানিয়েছে Apple। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি Mac কম্পিউটারে তাদের দীর্ঘতম ব্যাটারি ব্যাকআপ। তবে এই সময়কে সব ধরনের কাজে পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ভিডিও চালানো, ওয়েব ব্রাউজিং, উজ্জ্বলতা, ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ এবং ভারী AI বা ভিডিও সম্পাদনার কাজ ব্যাটারির স্থায়িত্বে প্রভাব ফেলতে পারে।

Apple-এর তথ্য অনুযায়ী, Intel-ভিত্তিক পুরোনো Mac থেকে আপগ্রেড করলে ব্যাটারি ব্যবহারের সময় সর্বোচ্চ ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়তে পারে। M1 মডেল ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে উন্নতি সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। এগুলোও নির্দিষ্ট ব্যবহারের ভিত্তিতে দেওয়া তুলনামূলক দাবি।

যাঁরা নিয়মিত অফিসের বাইরে কাজ করেন, ক্লাস করেন, ভ্রমণের সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করেন কিংবা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া কাজ করতে চান, তাঁদের কাছে এই ব্যাটারি ব্যাকআপ আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে প্রকৃত ব্যাকআপ জানতে স্বাধীন পরীক্ষার ফল ও ব্যবহারকারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা দেখাও উপকারী হবে।

ডিসপ্লে, ক্যামেরা ও সাউন্ড

নতুন ১৪ ইঞ্চি MacBook Pro-তে রয়েছে Liquid Retina XDR ডিসপ্লে। Apple-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এতে HDR কনটেন্টের জন্য সর্বোচ্চ ১,৬০০ নিট পিক ব্রাইটনেস এবং ১,০০০,০০০:১ কনট্রাস্ট রেশিও পাওয়া যায়। যারা ছবি সম্পাদনা, ভিডিও তৈরি বা HDR কনটেন্ট নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের জন্য ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা ও কনট্রাস্ট গুরুত্বপূর্ণ।

উজ্জ্বল আলো বা প্রতিফলনের সমস্যা আছে এমন পরিবেশে কাজ করার জন্য ন্যানো-টেক্সচার ডিসপ্লের বিকল্পও রয়েছে। তবে এই বিকল্প সব কনফিগারেশনে একইভাবে পাওয়া যাবে কি না, তা কেনার সময় যাচাই করা উচিত।

ল্যাপটপটিতে ১২ মেগাপিক্সেলের Center Stage ক্যামেরা রয়েছে। ভিডিও কলের সময় এটি ব্যবহারকারীর অবস্থান অনুযায়ী ফ্রেম সামলাতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি ছয়টি স্পিকারযুক্ত সাউন্ড সিস্টেম এবং বিভিন্ন ধরনের পোর্ট রাখা হয়েছে, যাতে আলাদা অ্যাডাপ্টারের ওপর নির্ভরতা কিছু ক্ষেত্রে কমতে পারে।

Wi-Fi 7 ও Bluetooth 6 সংযোগ

নতুন MacBook Pro-তে Wi-Fi 7 এবং Bluetooth 6 সমর্থন রয়েছে। উপযুক্ত রাউটার ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় Wi-Fi 7 দ্রুত ও উন্নত ওয়্যারলেস সংযোগ দিতে পারে। তবে শুধু ল্যাপটপে নতুন প্রযুক্তি থাকলেই সর্বোচ্চ গতি পাওয়া যাবে না; রাউটার, ইন্টারনেট প্যাকেজ, নেটওয়ার্কের ভিড় ও অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

Bluetooth 6 সমর্থন উপযুক্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইসের সঙ্গে সংযোগের সুবিধা দিতে পারে। হেডফোন, কিবোর্ড, মাউস ও অন্যান্য ওয়্যারলেস আনুষঙ্গিক যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের প্রযুক্তি ও সমর্থনের ওপর।

নতুন iMac-এ কী পরিবর্তন এসেছে?

Apple নতুন M6 চিপের পাশাপাশি iMac-ও হালনাগাদ করেছে। নতুন ডেস্কটপ কম্পিউটারটিতে সর্বোচ্চ ১২-কোর CPU ও ১২-কোর GPU কনফিগারেশনের বিকল্প রয়েছে। Apple-এর দাবি, M4-ভিত্তিক iMac-এর তুলনায় নতুন মডেলে নির্দিষ্ট গ্রাফিকস কাজে সর্বোচ্চ দ্বিগুণ এবং কিছু অন-ডিভাইস AI কাজে সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ পারফরম্যান্স পাওয়া যেতে পারে।

Intel-ভিত্তিক পুরোনো iMac থেকে আপগ্রেডকারীদের জন্য Apple নির্দিষ্ট তুলনায় সর্বোচ্চ ১৮ গুণ পর্যন্ত পারফরম্যান্স বৃদ্ধির দাবি করেছে। তবে কোন Intel মডেল, সফটওয়্যার ও কাজের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, তা বিবেচনায় রাখা জরুরি। এই সংখ্যাগুলো সব ধরনের ব্যবহারের সাধারণ ফল নয়।

নতুন iMac-এ আগের মতো ২৪ ইঞ্চির 4.5K Retina ডিসপ্লে রয়েছে। এর সঙ্গে Wi-Fi 7, Bluetooth 6, ঐচ্ছিক 2.5 Gigabit Ethernet এবং কনফিগারেশনভেদে সর্বোচ্চ চারটি Thunderbolt 4 পোর্টের সুবিধা রয়েছে। কম্পিউটারটি সাতটি রঙে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে Apple।

iMac-এর সুবিধা হলো, এটি ডেস্কে স্থায়ীভাবে ব্যবহার করার জন্য তৈরি অল-ইন-ওয়ান কম্পিউটার। যাঁদের আলাদা মনিটর ও কম্পিউটার কেনার ঝামেলা এড়াতে হবে, তাঁদের জন্য এটি সুবিধাজনক হতে পারে। অন্যদিকে, যাঁদের নিয়মিত বাইরে নিয়ে কাজ করতে হয়, তাঁদের জন্য MacBook Pro বেশি উপযোগী।

নতুন OLED টাচস্ক্রিন MacBook Pro কি M6 মডেল?

নতুন MacBook Pro নিয়ে খবরের মধ্যে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। M6 চিপযুক্ত ১৪ ইঞ্চি MacBook Pro এবং OLED টাচস্ক্রিনযুক্ত MacBook Pro আলাদা পণ্য। GSMArena-র প্রতিবেদনে OLED সংস্করণটিতে PROLED XDR ডিসপ্লে, টাচস্ক্রিন এবং M5 Pro বা M5 Max চিপের কথা বলা হয়েছে। তাই OLED সংস্করণটিকে M6-চালিত মডেল ধরে নেওয়া ভুল হবে।

GSMArena-র তথ্য অনুযায়ী, OLED টাচস্ক্রিন মডেলে Tandem OLED প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দুটি OLED স্তর একসঙ্গে কাজ করে ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ ২,০০০ নিট পিক ব্রাইটনেস, ১০ থেকে ১২০ হার্টজ পরিবর্তনশীল রিফ্রেশ রেট এবং P3 ও Adobe RGB কালার গামাট সমর্থনের কথা বলা হয়েছে।

এই সংস্করণে Mac-এর জন্য প্রথমবার টাচস্ক্রিন সুবিধা আনা হয়েছে। ব্যবহারকারী আঙুল দিয়ে স্ক্রল, জুম বা নির্দিষ্ট অ্যাপের কনটেন্টের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে পারবেন। তবে টাচস্ক্রিন যুক্ত হওয়া মানেই macOS পুরোপুরি ট্যাবলেটের মতো হয়ে গেছে, এমন নয়। প্রতিবেদনে Apple Pencil সমর্থনের উল্লেখও নেই।

OLED সংস্করণে প্রচলিত নচের বদলে Dynamic Island ব্যবহারের কথা জানিয়েছে GSMArena। তবে এতে Face ID নেই; নিরাপদভাবে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য Touch ID-ই রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

GSMArena-র প্রতিবেদনে OLED টাচস্ক্রিন MacBook Pro-এর মার্কিন প্রারম্ভিক মূল্য ১৪ ইঞ্চি M5 Pro মডেলের জন্য ২,৮৯৯ ডলার এবং ১৬ ইঞ্চি M5 Pro মডেলের জন্য ৩,৩৯৯ ডলার বলা হয়েছে। M5 Max সংস্করণের মূল্য যথাক্রমে ৪,৪৯৯ ও ৪,৭৯৯ ডলার। এই দাম M6-চালিত ১৪ ইঞ্চি MacBook Pro-এর দামের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।

নতুন MacBook Pro ও iMac-এর দাম কত?

The Daily Star-এর ২৮ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে M6 চিপযুক্ত ১৪ ইঞ্চি MacBook Pro-এর প্রারম্ভিক মার্কিন মূল্য ১,৯৯৯ ডলার বলা হয়েছে। নতুন iMac-এর ১০-কোর মডেলের দাম শুরু ১,৪৯৯ ডলার থেকে এবং ১২-কোর সংস্করণের দাম শুরু ১,৬৯৯ ডলার থেকে।

এগুলো মার্কিন বাজারের প্রারম্ভিক মূল্য। বেশি মেমোরি, স্টোরেজ বা উন্নত কনফিগারেশন নির্বাচন করলে দাম বাড়তে পারে। বাংলাদেশে আমদানি ব্যয়, কর, বিক্রেতার মূল্য নির্ধারণ ও ওয়ারেন্টির কারণে চূড়ান্ত দাম আলাদা হতে পারে। তাই মার্কিন ডলারের দামকে সরাসরি বাংলাদেশের বিক্রয়মূল্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

কবে থেকে কেনা যাবে?

Apple-এর ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন ১৪ ইঞ্চি MacBook Pro M6-এর প্রি-অর্ডার ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে এবং ৬ নভেম্বর থেকে পাওয়া যাওয়ার কথা। The Daily Star-এর প্রতিবেদনে নতুন iMac-এর ক্ষেত্রেও একই প্রি-অর্ডার ও বিক্রি শুরুর সময় উল্লেখ করা হয়েছে। এই সময়সূচি নির্দিষ্ট দেশ ও অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে।

বাংলাদেশে আগ্রহী ক্রেতাদের Apple-এর স্থানীয় প্রাপ্যতা, অনুমোদিত বিক্রেতা, ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবার তথ্য যাচাই করে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। পণ্য পাওয়া গেলেও সব কনফিগারেশন বা রঙ একসঙ্গে নাও মিলতে পারে।

কারা নতুন M6 MacBook Pro কিনলে বেশি লাভবান হতে পারেন?

যাঁরা M1 বা তার আগের প্রজন্মের MacBook Pro ব্যবহার করছেন, তাঁদের জন্য নতুন মডেলে পারফরম্যান্স, ব্যাটারি এবং সংযোগের উন্নতি বিবেচনা করার মতো বিষয়। বিশেষ করে ভিডিও সম্পাদনা, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিকস, ছবি প্রক্রিয়াকরণ বা AI-ভিত্তিক কাজ নিয়মিত করলে নতুন চিপের সুবিধা বেশি কাজে লাগতে পারে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক প্রজন্মের MacBook Pro দিয়ে যদি প্রয়োজনীয় কাজ সহজেই করা যায়, তাহলে শুধু নতুন চিপ এসেছে বলে আপগ্রেড করা জরুরি নয়। নিজের কাজের গতি, প্রয়োজনীয় মেমোরি, স্টোরেজ এবং বর্তমান ডিভাইসের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।

OLED টাচস্ক্রিন মডেল তাঁদের আকর্ষণ করতে পারে, যাঁরা উন্নত ডিসপ্লে ও সরাসরি স্পর্শের মাধ্যমে কাজ করতে চান। কিন্তু এর দাম বেশি এবং এটি M5 Pro বা M5 Max চিপভিত্তিক আলাদা পণ্য। তাই কেনার আগে মডেল, প্রসেসর, ডিসপ্লে ও মূল্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি।

নতুন Apple MacBook Pro ও iMac নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

নতুন ১৪ ইঞ্চি MacBook Pro-তে কোন চিপ ব্যবহার করা হয়েছে?

নতুন ১৪ ইঞ্চি MacBook Pro-তে Apple M6 চিপ রয়েছে। এতে ১২-কোর CPU, ১২-কোর GPU এবং Dual 16-core Neural Engine দেওয়া হয়েছে।

নতুন MacBook Pro-এর ব্যাটারি কতক্ষণ চলে?

Apple-এর দাবি অনুযায়ী, M6-চালিত ১৪ ইঞ্চি MacBook Pro একবার চার্জে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা চলতে পারে। বাস্তব ব্যাকআপ ব্যবহার ও কাজের ধরন অনুযায়ী কমবেশি হবে।

M6 MacBook Pro-তে কি OLED টাচস্ক্রিন রয়েছে?

না। Apple-এর ঘোষিত ১৪ ইঞ্চি M6 MacBook Pro-তে Liquid Retina XDR ডিসপ্লে রয়েছে। OLED টাচস্ক্রিনযুক্ত MacBook Pro আলাদা মডেল, যেখানে GSMArena-র প্রতিবেদনে M5 Pro ও M5 Max চিপের কথা বলা হয়েছে।

নতুন M6 MacBook Pro-এর দাম কত?

The Daily Star-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বাজারে ১৪ ইঞ্চি M6 MacBook Pro-এর প্রারম্ভিক দাম ১,৯৯৯ ডলার। কনফিগারেশন এবং বাজার অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে।

নতুন M6 iMac-এর দাম কত?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন iMac-এর ১০-কোর মডেলের দাম শুরু ১,৪৯৯ ডলার থেকে এবং ১২-কোর মডেলের দাম শুরু ১,৬৯৯ ডলার থেকে।

বাংলাদেশে নতুন MacBook Pro ও iMac কবে পাওয়া যাবে?

Apple-এর ঘোষণায় নির্দিষ্ট কিছু দেশ ও অঞ্চলে ৬ নভেম্বর থেকে পণ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে বিক্রি শুরুর তারিখ ও স্থানীয় মূল্য নিশ্চিত করতে অনুমোদিত বিক্রেতার তথ্য যাচাই করতে হবে।

শেষ কথা

M6 চিপের নতুন ১৪ ইঞ্চি MacBook Pro ও iMac-এর মাধ্যমে Apple পারফরম্যান্স, অন-ডিভাইস AI এবং দ্রুত সংযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। MacBook Pro-এর সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং M6-এর উন্নত CPU ও GPU পারফরম্যান্স পেশাদার ব্যবহারকারীদের আগ্রহী করতে পারে। অন্যদিকে, নতুন iMac ডেস্কে কাজ করা ব্যবহারকারীদের জন্য উন্নত হার্ডওয়্যার ও পরিচিত ২৪ ইঞ্চি ডিসপ্লে ধরে রেখেছে।

তবে OLED টাচস্ক্রিনযুক্ত MacBook Pro-কে M6 মডেলের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না। সেটি M5 Pro ও M5 Max চিপভিত্তিক আলাদা পণ্য। কেনার আগে তাই নির্দিষ্ট মডেল, চিপ, ডিসপ্লে, মেমোরি, স্টোরেজ, স্থানীয় দাম ও ওয়ারেন্টি যাচাই করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

তথ্যসূত্র

Post a Comment