Table of Content

কিভাবে আপনার শ্রবণ ক্ষমতা পরীক্ষা করবেন এবং বাড়াবেন?

কিভাবে আপনার শ্রবণ ক্ষমতা পরীক্ষা করবেন এবং বাড়াবেন?


শ্রবণ ক্ষমতা বলতে মানুষ ও অন্য কোন প্রাণীর শ্রবণেন্দ্রিয় যে কম্পাংক সীমার শব্দ শুনতে সক্ষম, তাকে বোঝায়। মানুষের শ্রবণসীমা ২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ কম্পাংক পর্যন্ত বিস্তৃত, তবে ব্যক্তিভেদে এর ব্যাপক বৈচিত্র্য দেখা যায়। 
সাধারণ সাউন্ড সিস্টেম স্পিকারগুলিতে উৎপন্ন শব্দের কম্পাংক ক্ষমতা ২০ হার্জ থেকে ২০ কিলোহার্জ।

কিভাবে আপনার শ্রবণ ক্ষমতা পরীক্ষা করবেন এবং বাড়াবেন?



নিচের টেবিলে বিভিন্ন প্রাণীর শ্রবণসীমা দেওয়া হল

প্রাণী

সীমা (হার্জ)

কচ্ছপ

২০-১,০০০

গোল্ডফিশ

১০০-২,০০০

ব্যাঙ

১০০-৩,০০০

কবুতর

২০০-১০,০০০

চড়ুই

২৫০-১২,০০০

মানুষ

২০-২০,০০০

শিম্পাঞ্জি

১০০-২০,০০০

খরগোশ

৩০০-৪৫,০০০

কুকুর

৫০-৪৬,০০০

বিড়াল

৩০-৫০,০০০

গিনিপিগ

১৫০-৫০,০০০

বড় ইঁদুর

১,০০০-৬০,০০০

ছোট ইঁদুর

১,০০০-১,০০,০০০

বাদুড়

৩,০০০-১,০০, ০০০

ডলফিন

১,০০০-১,৩০,০০০

 



আপনার শ্রবণ ক্ষমতা পরীক্ষা করুন


সেকেন্ড

০১-১০

১১-২০

২১-৩০

৩১-৪০

৪১-৫০

৫১-৬০

৬১-৭০

৭১+

হার্জ

৯০০

১৫০০

২৪০০

৩৯০০

৬২০০

১০০০০

১৬৫০০

২০০০০




কিভাবে আপনার শ্রবণ ক্ষমতা বাড়াবেন?


মানবদেহের ছয়টি ইন্দ্রিয়র মধ্যে অন্যতম হল শ্রবণ ইন্দ্রিয়। শুনতে পারার ক্ষমতা সবার সমান থাকে না। কারও খুব বেশি থাকে আবার কারও খুবই কম। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে আপনার শুনতে পারার ক্ষমতা ধীরে ধীরে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। তবে প্রতিদিনের জীবনে যদি ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় আপনার শ্রবণ ক্ষমতা বাড়বে বরং কমবে না।

শব্দ কানের সরুপথ দিয়ে ঢুকে সোজা মস্তিষ্কে পৌঁছায়। এই সরুপথে থাকে অসংখ্য ছোট ছোট লোম। এই লোমগুলো শব্দকে তরঙ্গ আকারে মস্তিস্কে পৌঁছায়। উচ্চস্বরে গান শুনলে কিংবা গাড়ির হর্নের সম্মুখীন হলে সেই লোমগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কখনো কখনো শ্রবণ ক্ষমতা চিরদিনের মতো হারিয়ে যেতে পারে। তাই উচ্চশব্দ এড়িয়ে চলুন।

মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা ৬০ থেকে ৬৫ ডেসিবল পর্যন্ত হলেও ৮৫ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ মানুষ শুনতে পায়। কিন্তু এর অতিরিক্ত হয়ে গেলেই আমাদের শ্রবণশক্তিতে সমস্যা দেখা দেয়। গান অবশ্যই অল্প ভলিউমে শুনতে হবে। গবেষণা অনুযায়ী, অধিকাংশ মানুষের কানের সমস্যার কারণ হেড ফোনে উচ্চস্বরে গান শোনা। গাড়ি চালানোর সময়ও উচ্চ স্বরে গান শোনা থেকে বিরত থাকুন।

কিছু কিছু কাজের ক্ষেত্রটাই শব্দের সাথে সম্পর্কযুক্ত যেমন গ্লাস ফ্যাক্টরি। যতটা সম্ভব এসব কাজ থেকে বিরত থাকুন অথবা শব্দ থেকে বাঁচতে সর্তকতা অবলম্বন করুন। শব্দ দূষণে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় শিশুরা। একটু অসাবধানতায় শিশুর শ্রবণশক্তি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে. তাই আপনার শিশুকে নিরাপদে রাখুন।

যতটা সম্ভব সাবধানে চলাচল করুন। না হলে সামান্য অসাবধানতায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং শ্রবণশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাইসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট এবং গাড়িতে সিট বেল্ট অবশ্যই ব্যবহার করুন। কিছু কিছু ঔষধের প্রতিক্রিয়ায় শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে তাই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিন।

কান পরিষ্কার করার সময় সাবধানী হোন। তা না হলে খোঁচা লেগে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে যা কানের জন্য ক্ষতিকর হবে। তুলোর তৈরি কাঠি দিয়ে কান পরিষ্কার করা উচিত নয়। এসব নিয়ম মেনে চললে আপনার স্রবণ ক্ষমতা বাড়বে বৈ কমবে না।


Post a Comment