Table of Content

হোয়াটসঅ্যাপ নাকি ফেসবুক মেসেঞ্জার? কোনটি বেশি ভাল?

হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক মেসেঞ্জার, অ্যাপ দুটি মেটা এর মালিকানাধীন সেবা। এই দুটি সোশ্যাল মিডিয়া মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে বন্ধু ও পরিবারের সাথে কানেক্টেড থাকা যায়। তবে অ্যাপ দুইটির মধ্যে রয়েছে অনেক উল্লেখযোগ্য পার্থক্য।

২০০৯সালে চালু হওয়া চ্যাট সার্ভিস, হোয়াটসঅ্যাপ কে ফেসবুক কিনে নেয় ২০১৪সালে। ২বিলিয়নের অধিক ইউজার নিয়ে অ্যাপটি বর্তমান সময়ের বিপুল জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ। অন্যদিকে মেসেঞ্জার হলো ফেসবুক এর মেসেজিং সার্ভিস, যা ২০১১সালে চালু হয় ও বর্তমানে ২বিলিয়নের অধিক ব্যবহারকারী রয়েছে।


অর্থাৎ হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক মেসেঞ্জার, উভয় অ্যাপই প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ ব্যবহার করে থাকেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক হোয়াটসঅ্যাপ নাকি ফেসবুক মেসেঞ্জার, কোনটি বেশি ভালো সে সম্পর্কে বিস্তারিত।

হোয়াটসঅ্যাপ vs ফেসবুক মেসেঞ্জার

হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার, দুইটিই চ্যাটিং অ্যাপ হলেও দুইটি অ্যাপের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক অ্যাপ দুইটি পার্থক্য সম্পর্কে ও কোনটি সেরা সে সম্পর্কে ধারণা অর্জন করা যাক।

কলিং 

দুইটি অ্যাপেই কল করা গেলেও হোয়াটসঅ্যাপ এগিয়ে থাকবে যেকোনো নেটওয়ার্কে দারুণ কলিং এক্সপেরিয়েন্স এর জন্য। মেসেঞ্জারে কলিং এর ক্ষেত্রে ভালো নেটওয়ার্ক এর প্রয়োজন পড়ে, যেখানে হোয়াটসঅ্যাপে প্রায় যেকোনো ধরনের নেটওয়ার্কে কোনো সমস্যা ছাড়াই কল করা যায়। অর্থাৎ দুর্বল ব্যান্ডউইথ নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কলিং ফিচার অনবদ্য হওয়ায় কলিং এর ক্ষেত্রে মেসেঞ্জারের চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপ এগিয়ে থাকবে।

প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি

প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি এর বিচারেও হোয়াটসঅ্যাপ এগিয়ে থাকবে। হোয়াটসঅ্যাপ এর চ্যাট এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড থাকার কারণে হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাটকে অনেকটা নিরাপদ বলা যায়। অন্যদিকে মেসেঞ্জারের সকল চ্যাট কিন্তু এনক্রিপটেড নয়, বরং সকল ডাটা ফেসবুকের সার্ভারে জমা থাকে। অর্থাৎ কেউ যদি আপনার মেসেঞ্জার হ্যাক করতে সক্ষম হয়, তবে সে আপনার মেসেঞ্জারে থাকা সকল ডাটার অ্যাকসেস পেয়ে যাবে। অর্থাৎ নিরাপত্তার বিচারে ফেসবুক মেসেঞ্জার পিছিয়ে থাকবে হোয়াটসঅ্যাপের চেয়ে।

এডস

হোয়াটসঅ্যাপের আরেকটি সেরা ফিচার হলো এতে কোনো ধরনের এডস বা বিজ্ঞাপন দেখানো হয়না। হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস প্ল্যাটফর্মের জন্য এড থাকলেও সাধারণ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীগণ কোনো ধরনের এড দেখতে পান না ইউজার ইন্টারফেসে। 

অন্যদিকে মেসেঞ্জার অ্যাপ এডস ও স্পন্সরশিপস এ ভর্তি। মেসেঞ্জারে সম্প্রতি এড এর সংখ্যা এতোটাই বেড়ে গিয়েছে যে অনেকে বিরক্ত হয়ে অ্যাপটি ব্যবহারে অনিহা প্রকাশ করছেন। এড যদি আপনার অপছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে আপনার হোয়াটসঅ্যাপ পছন্দ হবে।

ফাইল ট্রান্সফার

ফাইল ট্রান্সফারের বিষয়টি কিছুটা গোলমেলে দুইটি প্ল্যাটফর্মে। দুইটি প্ল্যাটফর্মে প্রায় যেকোনো ধরনের ফাইল সেন্ড করা গেলেও হোয়াটসঅ্যাপে একইসাথে ৩০টি ছবি ও ভিডিও পাঠানো যায়। অন্যদিকে মেসেঞ্জারের ক্ষেত্রে একবারে ইচ্ছামত মিডিয়া ফাইল সেন্ড করা যায়। হোয়াটসঅ্যাপে সর্বোচ্চ ২জিবি সাইজের ফাইল পাঠানো যায়, যা মেসেঞ্জারের ক্ষেত্রে ধরাবাঁধা নেই (কারণ মেসেঞ্জার মিডিয়া ফাইল অপটিমাইজ করে নেয়)।

ইউজার ইন্টারফেস

দুনিয়ার সবচেয়ে সহজে ব্যবহারযোগ্য অ্যাপের তালিকা হোয়াটসঅ্যাপ থাকবে এর বেশ সাধারণ ইউজার ইন্টারফেস এর জন্য। হোয়াটসঅ্যাপে প্রয়োজনীয় সব ফিচারের পাশাপাশি ইউজার ইন্টারফেস এতোটাই সিম্পল রাখা হয়েছে যেকেউ প্রথমবার ব্যবহারেই অ্যাপটি সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাবে। খুব সহজে ফোন নাম্বার প্রদান করে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে মেসেঞ্জার ব্যবহার করতে প্রথমে ফেসবুক একাউন্ট খুলতে হয়।

মেসেঞ্জার ফিচারে পরিপূর্ণ, তবে অধিকাংশ ব্যবহারকারী ফিচারের চেয়ে ক্লিন ইউজার এক্সপেরিয়েন্সকে অধিক পছন্দ করেন। আপনি যদি ক্লিন ডিজাইন পছন্দ করেন, তবে হোয়াটসঅ্যাপ আপনাকে হতাশ করবেনা। হোয়াটসঅ্যাপে ফিচার কম থাকলেও সব ফিচার কমবেশি কাজে আসে, অন্যদিকে মেসেঞ্জার একটি ফিচার-ভর্তি অ্যাপ। অর্থাৎ ইউজার ইন্টারফেস এর বিচারে অ্যাপ দুইটির মধ্যে কোনটি আপনি নির্বাচন করবেন তা সম্পূর্ণ আপনার নিজের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে।

ডাটা ইউসেজ 

আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি প্রায় যেকোনো নেটওয়ার্কে হোয়াটসঅ্যাপ ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়। একইভাবে হোয়াটসঅ্যাপের ডাটা ইউসেজ ও অপেক্ষাকৃত কম। মেসেঞ্জারে অধিক ফিচার থাকার কারণে এটি অধিক ইন্টারনেট ব্যবহার করে, যেখানে হোয়াটসঅ্যাপ বেশ সাধারণভাবে কাজ করে ও অপেক্ষাকৃত কম ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

ইন্টারন্যাশনাল কলিং

হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার, উভয় প্ল্যাটফর্মেই ইন্টারন্যাশনাল কল সাপোর্ট রয়েছে। তবে ইন্টারন্যাশনাল কল এর ক্ষেত্রে উভয় প্ল্যাটফর্মে স্ট্রং নেটওয়ার্ক এর প্রয়োজন রয়েছে। উল্লেখ্য যে হোয়াটসঅ্যাপ যেহেতু সিম-নির্ভর একটি সেবা, তাই আপনার সিম পরিবর্তন করলে অবশ্যই হোয়াটসঅ্যাপ এর নাম্বার পরিবর্তন করতে ভুলবেন না। অন্যদিকে মেসেঞ্জার চলে ফেসবুক একাউন্টের মাধ্যমে, যার ফলে যেকোনো ডিভাইস থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে লগিন করে মেসেঞ্জার ব্যবহার করা যায়।

গ্রুপ কল

গ্রুপ কলের ক্ষেত্রে ফেসবুক মেসেঞ্জার এগিয়ে থাকবে। মেসেঞ্জারে একই সাথে ৫০জনকে নিয়ে কলে থাকা যায়, অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপে সর্বোচ্চ ৩২জনকে নিয়ে একই কলে থাকা যায়। আপনার যদি অনেক বড় গ্রুপ কলের প্রয়োজন থাকে, তবে মেসেঞ্জার আপনার অধিক কাজে আসবে। 

প্ল্যাটফর্ম

ক্রস-প্ল্যাটফর্ম সুবিধার দিক দিয়ে মেসেঞ্জার অনেক এগিয়ে থাকবে। প্রায় যেকোনো ডিভাইস থেকে ফেসবুকে লগিন করে মেসেঞ্জারের সুবিধা উপভোগ করা যায়। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে অবশ্যই মোবাইল ফোনের দরকার হয়, ফোনে থাকা একাউন্ট অথেনটিকেশন এর মাধ্যমে কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায়।

Post a Comment