Table of Content

কয়েকটি দরকারি Android Apps / অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস যেগুলো প্লে স্টোরে নেই।

আজকে যে অ্যাপসগুলো নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি, এই অ্যাপগুলোর বিশেষত্ব হচ্ছে, এই অ্যাপগুলো এতই ভালো এবং এতই ইউজফুল যে, এগুলো প্লে স্টোরে পাবলিশ করারই অনুমতি পাওয়া যায়নি। 

 


যাইহোক, বেশি বকবক না করে সরাসরি কাজের কথায় আসি। ভয় নেই, প্লে স্টোরে না পেলেও অ্যাপগুলোর ডাউনলোড লিংক এই পোস্টে প্রত্যেকটি অ্যাপের নিচেই পেয়ে যাবেন। থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট এর লিংক হলেও প্রত্যেকটি সোর্সই ১০০% ট্রাস্টেড এবং নিরাপদ।

Bromite Browser

প্রথমেই কথা বলা যাক একটি ওয়েব ব্রাউজার নিয়ে। এই ব্রাউজারটি অন্যান্য অধিকাংশ অ্যান্ড্রয়েড ব্রাউজারের মতোই আরেকটি ক্রোমিয়াম ব্রাউজার, তবে ফিচারসের দিক থেকে অন্যান্য যেকোনো ওয়েব ব্রাউজারের তুলনায় অনেক বেশি ইউজফুল।

এই ব্রাউজারটির ফিচার সেট বলে শেষ করা যাবে না। কয়েকটি ফিচারের উদাহরণ দেওয়া যাক। প্রথমত, এই ব্রাউজারে আপনি ব্যাকগ্রাউন্ডে ইউটিউব ভিডিও প্লে করতে পারবেন। অর্থাৎ, ইউটিউব প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই যেকোনো ভিডিওতে ব্যাকগ্রাউন্ড প্লেব্যাক উপভোগ করতে পারবেন।

ব্রাউজারটিতে আরো আছে ন্যাটিভ অ্যাড ব্লকিং সার্ভিস, যেটি নিশ্চই আর নতুন করে ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। এছাড়া প্রাইভেসি রিলেটেড আরও অনেক অ্যাডভান্সড ফিচারস এবং সেটিংস আছে এই ব্রাউজারে, যেগুলো গুগল ক্রোম বা অন্য কোনো ক্রোমিয়াম ব্রাউজারে নেই। যেমন- ডিএনএস ওভার এইচটিটিপিএস, ডিফল্ট কুকিজ এবং ট্র‍্যাকার ব্লকিং ইত্যাদি।

ক্রোমিয়াম ইঞ্জিনের ব্রাউজার হওয়ায় ব্রাউজারটির পারফরমেন্স এবং ইউজার ইন্টারফেস সবকিছুই একেবারেই গুগল ক্রোমের মতোই। ব্রাউজারটিতে আরও অনেক ফিচারস আছে যা আপনি ব্যাবহার করার সময় নিজেই এক্সপ্লোর করতে পারবেন। আপনি যদি সত্যিই প্রাইভেসি নিয়ে চিন্তিত হয়ে থাকেন, তাহলে এটিই আপনার জন্য বেস্ট ওয়েব ব্রাউজার।


Blokada

আমার মতে এই অ্যাপটি আজকের এই লিস্টের মধ্যে সবথেকে ইউজফুল এবং সবথেকে ভালো অ্যাপ। অনেকে এই অ্যাপটির সাথে ইতমধ্যেই পরিচিত হতে পারেন। সহজ কথায় বলতে হলে, এটি অ্যান্ড্রয়েডের জন্য বেস্ট অ্যাড ব্লকার সলুশন। যেকোনো ধরনের অ্যাড ব্লক করার জন্য এই অ্যাপটি একাই যথেষ্ট।

তার থেকেও মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই অ্যাপটি ব্যাবহার করার জন্য আপনার ফোন রুটেড হওয়ারও প্রয়োজন নেই। আপনাকে শুধুমাত্র এই অ্যাপটি ওপেন করতে হবে এবং মেইন টগলটি অন করে দিতে হবে। সেই মুহুর্ত থেকেই আপনার ফোনের ব্রাউজার, ভিজিট করা ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে আপনার ইন্সটল করা অ্যাপস, গেমস সবকিছু থেকে সব ধরনের অ্যাডস উধাও হয়ে যাবে।

এই অ্যাপটি সত্যিকারেই অনেকটা ম্যাজিকের মতো কাজ করে। অ্যাপটির ভেতরে আরও অসংখ্য ফিচারস আছে যেগুলো আপনার কাজে লাগতে পারে। যেমন এক ক্লিকে ডিএনএস চেঞ্জ করা, প্রক্সি সার্ভার সেট করা এবং আরও অনেক কিছু।

তবে, অ্যাড ব্লক করার জন্য এই অ্যাপটি সবথেকে ভালো। আবার যেসব ওয়েবসাইট বা অ্যাপে আপনি অ্যাডস ব্লক করতে চান না, সেগুলো খুব সহজে অ্যাপের সেটিংস থেকে হোয়াইটলিস্ট করে রাখতে পারবেন। তাই অ্যাপটি ব্যাবহার করে যদি অ্যাড ব্লক করেন, ওয়্যারবিডিকে হোয়াইলিস্ট করে রাখতে ভুলবেন না!

 

NewPipe

নামটা একটু আজব ধরনের হলেও, এটি শুধুই একটি থার্ড পার্টি ইউটিউব অ্যাপ। শুধু একটি ইউটিউব অ্যাপ বললে ভুল হবে, বরং এটি বেস্ট এবং সবথেকে ফিচার প্যাকড ইউটিউব অ্যাপ। একটি থার্ড পার্টি ইউটিউব অ্যাপ হিসেবে যা যা ফিচার এতে থাকা সম্ভব, তার প্রায় সবকিছুই আছে এই অ্যাপে।

কয়েকটি ফিচারের উদাহরণ দেওয়া যাক। প্রথমত, যেকোনো ইউটিউব ভিডিও আপনি MP4 বা WEBM ফরম্যাটে ডাউনলোড করতে পারবেন। ইউটিউব প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই পপআপ উইন্ডোতে প্লে করতে পারবেন সব ভিডিও।

শুধু ভিডিও নয়, ভিডিওটির শুধুমাত্র অডিও ফাইলও আপনি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। রেগুলার ইউটিউব অ্যাপের থেকে আরো হাই রেজুলেশনে (১৪৪০পি বা ৪কে) ভিডিও প্লে করতে পারবেন এবং চাইলে যেকোনো এক্সটারনাল ভিডিও প্লেয়ারেও ইউটিউব ভিডিও প্লে করতে পারবেন। সবথেকে ভালো ফিচারটি হচ্ছে, এই অ্যাপের ইউজার ইন্টারফেসটি যথেষ্ট সুন্দর এবং একইসাথে সম্পূর্ণ অ্যাডফ্রি।

এছাড়া এই অ্যাপে আপনি লাইট থেকে শুরু করে ডার্ক এবং অ্যামোলেড ব্ল্যাক থিমও পাবেন, যেগুলো রেগুলাত ইউটিউব অ্যাপে কখনোই ছিলো না। এই অ্যাপটিতে আরও অনেক ছোট ছোট ফিচারস আছে যেগুলো অ্যাপটি ইউজ করলেই দেখতে পাবেন। যদি সেরা থার্ড পার্টি ইউটিউব অ্যাপের কথা বলেন, তাহলে আমি ব্যাক্তিগতভাবে এই অ্যাপটিই সাজেস্ট করবো।


MiXplorer

সহজ ভাষায় বলতে গেলে এটি একটি ফাইল এক্সপ্লোরার বা ফাইল ম্যানেজার অ্যাপ। তবে সাধারন ফাইল এক্সপ্লোরার হলে তো আর এই লিস্টে থাকার কথা নয়। যেমনটা ধারণা করেছেন, এটি অ্যান্ড্রয়েডের জন্য ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট এবং সবথেকে বেশি ফিচার প্যাকড ফাইল ম্যানেজার অ্যাপ। একটি ফাইল এক্সপ্লোরার অ্যাপে যত ধরনের ফিচার আপনি চাইতে পারেন, তার সবকিছুই পাবেন এই অ্যাপে।

মিনিমাল এবং সম্পূর্ণ অ্যাডফ্রি ইউজার ইন্টারফেসের সাথে উইন্ডোজের মতো ট্যাব বেজড ফাইল ভিউ পাবেন এই অ্যাপে। এসডি কার্ড থেকে শুরু করে ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ এবং রুট ফোল্ডারও অ্যাক্সেস করতে পারবেন এই ফাইল ম্যানেজারে।

আবার ফোন রুটেড হলে রুট অ্যাক্সেস ব্যাবহার করে সিস্টেম ফাইলস মোডিফাইও করতে পারবেন। এছাড়া আরও অনেক ফিচারস পাবেন ৩ এমবির এই ছোট অ্যাপটিতে। যেমন- এপিকে ম্যানেজার, বিল্ট ইন ভিডিও প্লেয়ার ও ইমেজ ভিউয়ার, ফাইল কম্প্রেসার, এফটিপি সার্ভার কানেকশন, উইন্ডোজ-লাইক কপি-পেস্ট সিস্টেম, অ্যাপ ব্যাকাপ এবং আরো অনেক কিছু।

এই ফাইল ম্যানেজারের সব ফিচারগুলো লিখে শেষ করা যাবে না। তাই যদি বেস্ট একটি ফিচার প্যাকড ফাইল ম্যানেজার ইন্সটল করে রাখতে চান, তাহলে এটাই আপনার কাছে বেস্ট অপশন।


VidMix

আজকের লিস্টটি শেষ করা যাক হোম কোয়ারেন্টাইন টাইমের জন্য বেস্ট একটি মুভি/সিরিজ অ্যাগ্রিগেটর অ্যাপ দিয়ে। নাম শুনেই বুঝে গিয়েছেন এটি ভিডিও কন্টেন্ট রিলেটেড কোনো অ্যাপই হতে চলেছে। তবে এটি শুধুমাত্র একটি মুভি অ্যাগ্রিগেটর অ্যাপ নয়। বরং আপনার যেকোনো ধরনের মুভি/সিরিজ/এনিমেশন কার্টুন/ লাইভ টিভির চাহিদা একাই মেটাতে সম্ভব এই অ্যাপটি।

যারা কয়েক বছর আগে Terrarrium TV অ্যাপটি ব্যাবহার করেছেন, তারা বুঝতেই পারছেন, আমি কেমন ধরনের অ্যাপের কথা বলছি। এই অ্যাপে আপনি প্রায় সব মুভি এবং সকল টিভি সিরিজ সার্চ করেই পেয়ে যাবেন। সার্চ করার পরে এই অ্যাপটি ইন্টারনেটের বিভিন্ন জায়গা থেকে আপনার মুভি বা সিরিজটির অনলাইন স্ট্রিম এবং ডাউনলোড লিংক খুঁজে এনে দেবে।

আপনি ৩৬০পি থেকে শুরু করে ফুল এইচডি পর্যন্ত যেকোনো রেজুলেশনে কন্টেন্টটি স্ট্রিম করা এবং ডাউনলোড করার অপশন পেয়ে যাবেন। সবথেকে মজার ব্যাপার, টরেন্ট থেকে মুভি ডাউনলোড করার পরে সাবটাইটেল খোজা নিয়ে যে ঝামেলায় পড়তে হয়, সেই ঝামেলা এই অ্যাপে নেই। মুভি প্লে করার সময়ই একইসাথে একই জায়গা থেকে আপনি সাবটাইটেল ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। সহজ কথায় বলতে গেলে, এটি প্রায় ফ্রি নেটফ্লিক্স।

আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আপনার কাঙ্খিত মুভি এবং সিরিজগুলোর সব এখানে না পেলেও ৮০-৯০% এখানেই পেয়ে যাবেন। শুধু তাই নয়, এই অ্যাপে আপনি বাইরের দেশের অনেক লাইভ টিভি চ্যানেলও দেখতে পারবেন। অ্যাপটির ইউজার ইন্টারফেসও অনেকটাই নেটফ্লিক্স এর মতো এবং ইজি টু ন্যাভিগেট। আপনি যদি আজকাল অধিকাংশ সময় মুভি এবং সিরিজ দেখেই কাটিয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য এটাই বেস্ট মুভি সোর্স হবে (যদি নেটফ্লিক্স ব্যাবহার না করেন)।

 

Ymusic

পূর্ববর্তী পার্টে NewPipe নামের যে থার্ড পার্টি ইউটিউব ক্লায়েন্টের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছিলো, এই অ্যাপটিও Newpipe এর মতোই আরেকটি থার্ড পার্টি ইউটিউব ক্লায়েন্ট। তবে Ymusic অ্যাপটি ভিডিও নয়, শুধুমাত্র মিউজিকের জন্য তৈরী করা হয়েছে। অর্থাৎ, আপনি এটিকে স্পোটিফাই বা টাইডাল এর মত মিউজিক স্ট্রিমিং এর কাজে ব্যাবহার করতে পারবেন। তবে, এটি একটি ইউটিউব ক্লায়েন্ট হওয়ায়, মিউজিক স্ট্রিমিং সম্পুর্ন ফ্রি। যেকোনো মিউজিক স্ট্রিম করার জন্য আপনাকে জাস্ট এই অ্যাপটির সার্চ বারে গানের নাম লিখতে হবে।

সব মিউজিকই সার্ভ করা হবে ইউটিউব থেকে, তাই এখানে আপনি প্রায় সব মিউজিকই পাবেন। আর হ্যা, যেমনটা ধারনা করেছেন, এখানে আপনি মিউজিক ব্যাকগ্রাউন্ডেও প্লে করতে পারবেন এবং mp3 ফরম্যাটে মিউজিক ডাউনলোডও করে রাখতে পারবেন। অর্থাৎ, এটিকে একেবারেই প্রিমিয়াম মিউজিক স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলোর মতো করে ব্যাবহার করতে পারবেন। আর এটির কোনো ফিচার অ্যাকসেস করার জন্য আপনার কোন ইউটিউব প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন থাকতে হবে না। আপনি যদি ফোনে অনেক বেশি মিউজিক শোনেন, তাহলে আপনার জন্য এটি একটি ভালো অ্যাপ হতে পারে।

ApkUpdater

আপনি হয়তো কখনোই খেয়াল করেন নি যে, অ্যান্ড্রয়েডের অধিকাংশ অ্যাপসের আপডেটই প্লে স্টোরে এভেইলেবল হতে কিছুটা দেরি হয়। অধিকাংশ অ্যাপের ক্ষেত্রেই অ্যাপের লেটেস্ট ভারশন বা বেটা ভার্সনের আপডেট, প্লে স্টোরের কয়েকদিন আগেই Apkmirror এবং অন্যান্য অ্যাপ ডাউনলোডার ওয়েবসাইটে আসে। Apkupdater অ্যাপটি ব্যাবহার করে আপনি প্লে স্টোর ছাড়াই আপনার ফোনে ইন্সটল করা সব অ্যাপগুলোকে লেটেস্ট ভার্সনে আপডেট করে নিতে পারবেন। যদি সবার আগে অ্যাপের লেটেস্ট ভার্সন পাওয়ার OCD থাকে আপনার, তাহলে আপনার জন্য মাস্ট হ্যাভ একটি অ্যাপ এটি।

যেকোনো অ্যাপের লেটেস্ট ভার্সন এভেইলেবল হলে এই আপডেটর  ব্যাবহার করে আপনি সরাসরি অ্যাপটি Apkmirror কিংবা AppToide কিংবা Fdroid থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। Apkmirror থেকে ডাউনলোড করলে আপনাকে এক্সটারনাল ব্রাউজার ওপেন করে অ্যাপটির ডাউনলোড পেজে নিয়ে যাওয়া হবে, আর Fdroid এর সাহায্যে আপডেট করতে চাইলে সরাসরি ApkUpdater এর ভেতরেই অ্যাপটির আপডেট ডাউনলোড এবং ইন্সটল করে নিতে পারবেন।


Tap Tap

অনেকেই দেখেছেন যে, নতুন মডেলের আইফোনগুলোতে একটি স্পেশাল ফিচার দেওয়া হয়েছে যার সাহায্যে আপনি ফোনের ব্যাক সাইডে ট্যাপ করে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে পারবেন, যেমন কোনো সেটিংস চেঞ্জ করা, কোনো অ্যাপ লঞ্চ করা ইত্যাদি। অ্যান্ড্রয়েডে এখনো পর্যন্ত এমন কোনো ফিচার ইম্পলিমেন্ট করা হয়নি। তবে আপনি চাইলে Tap Tap নামের এই থার্ড পার্টি অ্যাপটি ব্যাবহার করে অ্যান্ড্রয়েডেও একই ধরনের ফিচার আনতে পারবেন।

এই অ্যাপটি ইন্সটল করে অ্যাক্টিভেট করার পরে আপনি ফোনের পেছনে ট্যাপ করে বিভিন্ন ফাংশন অ্যাক্টিভেট বা কোনো অ্যাপ লঞ্চ করতে পারবেন। যেমন- ফোনের পেছনে ডাবল ট্যাপ করে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ওপেন করা, সিংগেল ট্যাপ করে স্ক্রিন অফ করা কিংবা ট্রিপল ট্যাপ করে ক্যামেরা অন করা ইত্যাদি। আর, অবশ্যই, এটা অ্যান্ড্রয়েড হওয়ায় আপনি সহজেই যেকোনো ট্যাপ ফাংশন নিজের ইচ্ছামত অন্য কোন ফাংশনে রিম্যাপ করে চেঞ্জ করে নিতে পারবেন। 

আবার চাইলে আপনি ট্যাপের সেন্সিটিভিটি এবং ডিলে’ও নিজের ইচ্ছামত চেঞ্জ করে নিতে পারবেন। আপনআর যদি আইওএস এর এই নতুন ফিচার অ্যান্ড্রয়েডে ইউজ করার ইচ্ছা থেকে থাকে, তাহলে এই অ্যাপটিই আপনার জন্য বেস্ট সল্যুশন হবে।


AuroraStore

এটি অ্যান্ড্রয়েডের জন্য একটি থার্ড পার্টি অ্যাপ স্টোর, ঠিক গুগল প্লে স্টোরের মতোই। আপনি এই স্টোর থেকে গুগল প্লে স্টোরে যত অ্যাপস আছে, সব অ্যাপসই ডাউনলোড করতে পারবেন। তবে হ্যাঁ, এটি কোন পেইড অ্যাপ আপনাকে ফ্রি-তে দেবে এমন কোন ব্ল্যাকমার্কেট নয়। যেসব ফ্রি অ্যাপস আপনি প্লে স্টোরে পাবেন, সেসব অ্যাপসই আপনি এই স্টোর থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন এবং ইন্সটল করতে পারবেন।

আবার, প্রত্যেকটি অ্যাপের লেটেস্ট ভার্সন পাবেন আপনি এই স্টোরে। অনেকসময় অনেক অ্যাপের লেটেস্ট ভার্সন গুগল প্লে স্টোরে এভেইলেবল হতে কিছুটা দেরি হয়। তবে AuroraStore এ আপনি সবসময়ই সব অ্যাপের লেটেস্ট ভার্সন খুব দ্রুত পেয়ে যাবেন। অন্যান্য থার্ড পার্টি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডাউনলোড ওয়েবসাইটের সাথে এই স্টোরটির পার্থক্য হচ্ছে, এট ন্যাটিভ অ্যাপ এবং এটির অ্যাপ ডাউনলোড এবং ইন্সটলেশন একেবারেই গুগল প্লে স্টোরের মতো। এটির ডাউনলোড স্পিডও যথেষ্ট ভালো, যেহেতু এখান থেকে ডাউনলোড করা সব অ্যাপস সরাসরি গুগলের সার্ভার থেকেই ডাউনলোড হয়।

এখন আপনি জিজ্ঞেস করতে পারেন যে, প্লে স্টোর থাকতে আপনি কেন এই স্টোরটি ব্যাবহার করবেন? এর কারণ হচ্ছে, এই স্টোরে আপনি এক্সট্রা আরো অনেক ফিচার পাবেন যেগুলো গুগল প্লে স্টোরে কখনোই পাবেন না। যেমন- আপনি চাইলে এই স্টোরের সেটিংস থেকে লোকেশন স্পুফ করে যেসব অ্যাপ বাংলাদেশে প্লে স্টোরে এভেইলেবল নেই সেসব অ্যাপসও ডাউনলোড করতে পারবেন এবং চাইলে ডিভাইস ইনফো স্পুফ করে আপনার ডিভাইসের জন্য যেসব অ্যাপস এভেইলেবল নেই সেগুলোও ডাউনলোড করতে পারবেন (যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডিভাইস স্পুফ করে অ্যাপ ডাউনলোড করলে অ্যাপগুলো আপনি ইন্সটল করতে পারবেন না।

আর আপনার ফোনে যদি গুগল সার্ভিসেস এর সাপোর্ট না থাকে ( Huawei! ), তাহলে এমনিতেও আপনি প্লে স্টোর ব্যাবহার করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে আপনি এই ষ্টোরকে প্লে স্টোরের বেস্ট অলটারনেটিভ হিসেবে ব্যাবহার করতে পারবেন। আর এই অ্যাপটির ইউজার ইন্টারফেসও খুবই সুন্দর এবং একইসাথে সম্পূর্ণ অ্যাডফ্রি। যদি গুগল ইকোসিস্টেমের বাইরে থেকেও গুগল প্লে ষ্টোরের সব অ্যাপ ডাউনলোড করতে চান, তাহলে AuroraStore আপনার জন্য বেস্ট চয়েজ হবে।


Warden

এটি ওপরের থার্ড পার্টি অ্যাপ স্টোরের ডেভেলপারদেরই তৈরি করা আরেকটি অ্যাপ। তবে এটি একটি ফাংশনাল সিকিউরিটি অ্যাপ। এই অ্যাপটি আপনার ফোনে ইন্সটল সব অ্যাপগুলোকে স্ক্যান করে জানিয়ে দেবে যে আপনার ফোনের অ্যাপসগুলোকে কয়টি এবং কি কি ট্র্যাকার এবং লগার রয়েছে। শুধু তাই নয়, কোন অ্যাপ কি কি সার্ভিস ব্যবহার করছে, কোন কোন অ্যাপ আপনার ফোনের কোন কোন পারমিশন ব্যবহার করছে এই সবকিছুই একটি সিংগেল অ্যাপ থেকে আলাদা করে দেখতে পারবেন।

এর ফলে আপনি সহজেই ডিটেক্ট করতে পারবেন যে আপনার ফোনের কোন অ্যাপটি অযথাই অনেক বেশি পারমিশন নিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যাবস্থা নিতে পারবেন। সবথেকে ভালো ব্যাপারটি হচ্ছে, এই অ্যাপে আপনি আপনার ফোনে এই মুহূর্তে অ্যাক্টিভ থাকা সব সার্ভিস, ট্র্যাকার এবং লগারগুলোকে একটি চার্ট আকারে দেখতে পারবেন। তাছাড়া এই অ্যাপটির ইউজার ইন্টারফেসও খুবই সুন্দর এবং ক্লিন। আপনি যদি একটু প্রাইভেসি-কনসার্নড মানুষ হয়ে থাকেন, তাহলে আমি সাজেস্ট করবো আপনি Warden ব্যাবহার করে আপনার ইন্সটল করা অ্যাপসগুলোকে স্ক্যান করে নিশ্চিত হয়ে নিন যে, আপনি ঠিক কতটা প্রাইভেসি পাচ্ছেন।


ধন্যবাদ,

## আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।
## পাটের তৈরি সুন্দর ব্যাগ পেতে ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন
## ক্রয়, বিক্রয়, ভাড়া, অদল-বদল, দান করার জন্য ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।
## ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে চাইলে ফেসবুকের এই গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।

 

Post a Comment