Monalisa Painting / মোনালিসা ছবির গুপ্ত রহস্য।
আজকে আপনাদের সামনে নিয়ে এসেছি Monalisa ছবিটির মধ্যে থাকা কীছু রহস্যের ইতিহাস নিয়ে। আজকে Monalisa ছবিটি বিশ্ববাসির কাছে কেন এত মূল্যবান হয়ে গেছে। Leonardo-da-Vinchi – এই ছবিটার মধ্যে কী এমন রহস্য লুকিয়ে গেছে। যা সমগ্র বিশ্ববাসির কাছে বড় প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও এও মনে করা হয় যে Monalisa-র, হাঁসির মধ্যেও নাকি রহস্যের গন্ধ আছে। Monalisa-র, হাঁসি নাকি বহু মানুষকে মোহিত করে রেখে দিয়েছ। তাই আজকের এই আলোচানাই আমরা জানব মোনালিসা ছবিটি ঘিরে লুকিয়ে থাকা বেশ কীছু রহস্য সমন্ধে। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

Who is Monalisa/Monalisa-কে ?
সত্য কথা বলতে গেলে Monalisa কে ছিল ? মোনালিসার পরিচয় জানাটাই হল মোনালিসা ছবিটির সবথেকে বড় রহস্য। আজ পর্যন্ত কোন ঐতিহাসিক, লেখক মোনালিসার, পরিচয় সঠিক ভাবে কেউ বলে উঠতে পারেনি।
তবুও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা Monalisa ছবিটি নিয়ে বহু বছর অধ্যায়ন করার পর বেশ কীছু তথ্য সামনে নিয়ে এসছে। তা থেকেই মোনালিসার,পরিচয় নিয়ে মোটামোটি একটা ধারনা পাওয়া গেছে।
Leonardo-da-Vinchi তার এক শিষ্য সলাই কো ডাইরিতে লিখেছেন ১৫২৪ সালে তার কাছে Lisa Gioconda নামের একটি পেন্টিং ছিল। এই পেন্টিং টি Leonardo-da-Vinchi তার মৃত্যু আসন্ন হলে তাকে দিয়ে যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় সলাই এর এই ডাইরিতে Monalisa র, কোন উল্লেখ পাওয়া যায় না।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে Leonardo-da-Vinchi- র , শিষ্য সলাই যে ছবিটার কথা বলেছে সেই ছবিটাই কী Monalisa-র, ছবি।
১৫৫০ সালে ইটালিয়ন আর্ট হিস্টোরিয়ান Giorgio Vasari, Leonardo-da-Vinchi-র, প্রথম বায়োগ্রাফী লেখেন। আর ঐ বায়োগ্রাফীতে আমরা প্রথম বার Monalisa নামটি দেখতে পায়।
Giorgio Vasari,লিখেছেন Leonardo-da-Vinchi ফ্লোরেন্সের এক ব্যাক্তি Francesco-Del-Giocondo -র, স্ত্রী, Monalisa র, চিত্র বানিয়েছিলেন।
ইতালিয় ভাষায় Mona=Madam অথবা My Lady হয়। তাই সবাই মনে করেন Leonardo-da-Vinchi,Francesco-Del-Giocondo -র, স্ত্রী, Madam Lisa-র, চিত্র বানিয়েছিলেন।
অনেকে আবার, আর্ট হিস্টোরিয়ান Giorgio Vasari-র, এই তথ্যকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে উঠতে পারেন না। কারণ হিসাবে বিশেষজ্ঞদের মতামত এই যে-Giorgio Vasari,Leonardo-da-Vinchi মারা যাওয়ার ৩১ বছর পরে Vinchi-র, বায়োগ্রাফী লেখা শুরু করেন। তাই Vinchi সম্পর্কে দেওয়া Giorgio Vasari-র, দেওয়া পুরোপুরি সত্য না হতেও পারে।
২০০৫ সালে জার্মানির হাইড্রাল বাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক ৫০০ বছরের পুরোনো একটি বইয়ের পাতার ভিতরে একটি হাতের লেখা নোট দেখতে পায়। আর এই নোট ১৫০৩ সালের Vinchi-র, সময়ের লেখা। আর এই নোট Agestion Vespuchi লিখেছিলেন।
এই নোট টির মধ্যে প্রাচীন গ্রীক পেন্টার Applas এর নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। আর Vinchi কে তখনকার দিনে Applas বলে সমন্ধিত করা হত।
১৫০৩ সালে Lisa Gioconda নামে এক মহিলার ছবি আকছিলেন। এই থেকে প্রমাণ হয়ে যায় Leonardo-da-Vinchi যে ছবিটি আকছিলেন সেটা Lisa Gioconda-র, ছবি ছিল।

আবার অনেকে মনে করেন Monalisa ছবিটির মধ্যে Leonardo-da-Vinchi নিজেকেই এঁকেছিলেন। Monalisa ছবিটিকে ভালভাবে অধ্যায়ন করলে দেখা যায় Monalisa ছবিটির মধ্যে বিনা দাড়ি গোফে Vinchi নিজেকে একজন মহিলার রুপ দিয়েছেন। আর এই Monalisa ছবিটিতে দাড়িগোফ জুড়ে দিলে ছবিটিতে হুবহু Leonardo-da-Vinchi-র, ছবি ফুটে উঠে।
আবার অনেকের মতে Leonardo-da-Vinchi তার Monalisa ছবিটির মধ্যে তার প্রেমিকার ছবি এঁকেছেন। কেউ কেউ মনে করেন Vinchi-র, মা একজন পতিতা ছিলেন। আর -Vinchi কোনদিন তার মাকে দেকেন নি। তাই ছবিটিতে Leonardo-da-Vinchi তার মায়ের ছবি এঁকেছেন।
Monalisa- ছবিটি মানুষের কাছে অন্যতম পেন্টিং হওয়ার কারন
Monalisa- ছবিটি ৫০০ বছরের পুরনো একটা পেন্টিং। যার ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে। উনিবিংশ শতাব্দীর এক অন্যতম পেন্টার Leonardo-da-Vinchi-র, আঁকা হওয়াই এই ছবিটিকে বিশেষ মর্যাদা দেয়।
মোনালিসার প্রেমিক সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আর এর মধ্যে এমন এমন প্রেমিকের বিবরণ সামনে আসে যারা Monalisa-র, প্রেমে পড়ে নিজেকে শেষ করে দিয়েছে।
১৮৫২ সালের ২৩ শে জুন। Lus Maspero নামের একজন ফ্রান্সের শিল্পী প্যারিসের একটা চারতলা হোটেল থেকে লাফ দিয়ে শুধুমাত্র Monalisa-র জন্য নিজেকে শেষ করে দেয়। Monalisa-র, হাঁসির সোন্দর্য তাকে এতটাই উন্মাদ করে দেয় যে সে নিজের জীবনকে শেষ করে দিতে বাগ মানেনা।
পরে পুলিস অবশ্য একটা সুইসাইড নোট খুঁজে পায় । সেই নোটে তার Monalisa র, প্রতি অগাধ ভালবাসার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
Monalisa ছবিটিতে সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হল, মোনালিসার হাঁসি। যেই হাঁসির দিবানা সকলেই। মোনালিসাকে আলাদা, আলাদা, কোন থেকে দেখলে দেখতে পাওয়া যায় তার মুখের হাঁসি খানা বদলাতে থাকে।
প্রথমে মোনালিসা কে, হাঁসতে দেখা যায়। পরে এই হাঁসি ম্লান হয়ে যায়। এক গবেষনাই দেখা গেছে মোনালিসার এই হাঁসিতে রহস্য লুকীয়ে আছে। যার জন্য ছবিটিতে বিভিন্ন কোন থেকে দেখলে তার হাঁসির রদ-বদল দেখতে পাওয়া যায়।
বেশ কয়েক বছর আগে এক দন্তঃ রোগ বিশেষজ্ঞ মোনালিসার এই হাঁসির রহস্যের কারণ হিসাবে মোনালিসার উপরের পাটির দুটো দাঁত ভাঙা থাকাকে কারণ হিসাবে তুলে ধরেছেন। এই জন্য মোনালিসার উপরের ঠোঁট কীছুটা দাবানো আছে বলে মনে হয়।
২০০০ সালে একজন নিউরো বিজ্ঞানী ডঃ মরগেটর-এর, মতানুযায়ী মোনালিসার ছবিতে মোনালিসার কোন হাঁসির পরিবর্তন হয় না। আসলে মানুষের মস্তিস্কে চিন্তা ধারার পরিবর্তন হয়। আর সেই ব্যাক্তি মোনালিসার চেহারাকে যেমন ভাবে দেখতে চায়। মোনালিসা কে সে, সেই কোন থেকে তাকে তার মত দেখা দেখায়।
Leonardo-da-Vinchi মোনালিসা ছবিটির পেন্টিং ১৫০৩ সালে শুরু করেন। এবং মোনালিসা ছবিটির উপর ১৫১৭ পর্যন্ত Vinchi ছবিটির উপর কাজ করে যান। ছবিটির মধ্যে সবথেকে বেশি সময় Vinchi দেন Monalisa র, ঠোঁট বানানোর জন্য। আপনারা জানলে অবাক হবেন, প্রায় ১২ বছর সময় লাগিয়ে ফেলেন শুধু মোনালিসার ঠোঁট পেন্টং করার জন্য।
এটাতো মেনে নিতেই হবে মোনালিসা চিত্রকলা। তৎকালীন তথা আধুনিক বিশ্বের শিল্পীদের করা সৃষ্টি কার্যের মধ্যে অনবদ্য এক কলা কুশলতার প্রমাণ স্বরুপ।
Monalisa পেন্টিং টি। বর্তমানে যতটা এখন বিশ্বের দরবারে অমূল্য হয়েছে ততটা মূল্যবান ছিল না। আগেকার দিনে আর পাঁচটা ছবির মত, ফ্রান্সের লুবর মিউজিয়ামে মোনালিসা তার শোভা বাড়াত।
কিন্তু যখন ফ্রান্সের লুবর মিউজিয়াম থেকে ১৯১১ সালের ২১ শে আগস্ট ছবিটি চুরী হয়ে যায়ীই ছবি চুরীর ঘটনা। তাও আবার প্যারিসের বিখ্যাত মিউজিয়াম লুবর থেকে চুরি হয়ে যাওয়াই নতুন করে মানুষের মোনালিসার ঐতিহাসিক মূল্যের উপর দৃষ্টি আকর্যন করে। তার পর থেকে ছবিটির ঐতিহাসিক মূল্য আরও বেরে যায়। ছবি চুরী হয়ে যাওয়ার বেশ কীছুদিন মিউজিয়াম কতৃপক্ষ ছবি চুরী হয়ে যাওয়ার ঘটনা টের পায়নি। পরে মিউজিয়াম কতৃপক্ষ ঘটানাটি বুঝতে পারলে, তারা ছবিটিকে সাফ সাফাইয়ের জন্য হয়ত কোথাও ছবিটিকে সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে বেশ কীছু দিন লুবর মিউজিয়াম টিকে বন্ধ রাখেন।
Monalisa ছবিটি চুরী যাওয়ার পিছনে আরও একজন বিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত পেন্টার পাবলো পিকাশো-এর নাম জড়িয়ে পড়ে।
পরে যখন পুলিস অনুসন্ধান শুরু করে তখন একটি নতুন তত্ব সামনে উঠে আসে। মিউজিয়ামের একজন কর্মচারী Vienzo Peruggla নামের ব্যাক্তি মোনালিসা ছবিটাকে চুরী করে মিউজিয়ামের একটি ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। পরে মিউজিয়াম বন্ধ হলে সে ছবিটিকে তার কোটের তলায় লুকিয়ে নিয়ে যায়। আর এই ঘটনার পর থেকে সে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।
Vienzo Peruggla ইতালির একজন সত্যিকারের দেশ প্রেমিক ছিলেন। তিনি সর্বদা চাইতেন Leonardo-da-Vinchi-র, এই বিখ্যাত পেন্টিং Monalisa তার নিজের দেশ ইতালিতে থাকা উচিত। আর সেটা ইতালির সংগ্রহশালায় থাকা উচিত।
বছর দুই পরে Vienzo Peruggla, মোনালিসা পেন্টিং টাকে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরের আর্ট মিউজিয়ামের প্রমুখ এর কাছে ছবিটি বিক্রি করার জন্য নিয়ে যান। আর কয়েক সপ্তাহ মোনালিসা ছবিটাকে ফ্লোরেন্সের আর্ট মিউজিয়ামে রাখা হয়।
পরে Paris Louvare Museum কতৃপক্ষ এই ঘটনা জানতে পারলে Vienzo Peruggla কে পুলিস গ্রেফতার করে। এবং তাকে ৬ মাসের জেল হয়। ১৯১৪ সালের ৪ জানুয়ারী মোনালিসা ছবিটাকে পুনরায় প্যারিসের লুবর মিউজিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়।
আপনারা কখনো কী ভেবে দেখেছেন ভিঞ্চী একজন ইতালির নাগরিক ছিলেন। অথচ তার অমর সৃষ্টি মোনালিসা ছবিটাকে ভিঞ্চীর নিজের দেশ ইতালিতে না রেখে ফ্রান্সে রাখা হল কেন ?
১৫১৬ সালে লিওনার্দো-দা-ভিঞ্চী, ফ্রান্সের রাজার কাছ থেকে নিমন্ত্রণ পান। এরপর ভিঞ্চী তার ছবি মোনালিসা সাথে করে ফ্রান্সে চলে আসেন। কিন্তু পরে ভিঞ্চী মারা গেলে। মোনালিসা ছবিটাকে তার এক শিষ্য সলাই এর হাতে ছবিটি তুলে দিয়ে যায়। পরে সলাই এর কাছ থেকে ফ্রান্সের রাজার মোনালিসা ছবিটিকে কয়েক হাজার সোনার মোহর দিয়ে কিনে নেন। এরপর থেকে মোনালিসা ফ্রান্সের রাজাদের মালিকানা সম্পত্তি হয়ে যায়। এরপর ফ্রান্স রাজাদের রাজত্বের অবসান হলে ১৯১৭ সাল থেকে মোনালিসা ছবিটাকে ফ্রান্সের Paris Louvare Museum রাখা হয়।
আরও পড়ুনঃ টাইটানিক জাহাজের কীছু অজানা তথ্য।
ইতালির নাগরিক তথা সরকার তার দেশের সম্পত্তি মোনালিসা ছবিটাকে তাদের নিজের দেশে ফীরিয়ে নিয়ে আসতে চায়। ইতালির বহু নাগরিক তো মনে করেন মোনালিসা ছবিটাকে ফ্রান্সের কাছে বিক্রি করা হয়নি। ফ্রান্স ছবিটাকে চুরী করে নিয়ে গেছে।

Monalisa ছবিটির হুবহু যমজ আর একটি ছবি আছে। যে ছবিটি Leonardo-da-Vinchi-র, এক শিষ্য Frencisco Melzi এঁকেছিলেন। বর্তমানে এই ছবিটি স্পেনের রাজধানীর মেড্রিট শহরের পত্রাদ মিউজিয়ামে রাখা আছে।
Leonardo-da-Vinchi-র, আঁকা Monalisa ছবিটাকে বেশ কয়েকবার ক্ষতি করার চেষ্টা করা হয়েছে। ১৯৫৬ সালে Bolvian Taisrist নামের একজন ব্যাক্তি মোনালিসা ছবিটার উপর পাথর ছুড়ে মারেন। আর এই পাথরের আঘাতে মোনালিসা ছবিটার বাঁ হাতের কনুইয়ের কাছের অংশের রঙ কীছুটা চটে যায়। পরে অবশ্য মিউজিয়াম কমিটি মোনালিসার ছবিটার উপর পুনঃ পেন্টিং করিয়ে ঐ স্থানের ক্ষত চিহ্ন ভরে দেয়। তবুও আজও ভালভাবে দেখলে মোনালিসার কনুইয়ের জায়গায় হালকা ক্ষত চিহ্নের রেখা বোঝা যায়।
এই ঘটনার বহু আগে একবার এক পর্যটক ছবিটির উপর অ্যাসিড হামলা করা হয়। এইসব ঘটনাকে দেখে মিউজিয়াম কতৃপক্ষ মোনালিসা ছবির নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেয়।
মোনালিসা ছবিটাকে বর্তমানে Paris Louvre Museum কতৃপক্ষ বুলেট প্রূফ কাঁচ দ্বারা সুরক্ষিত করে রেখে রেখেছে। ২০০৯ সালে আর একবার রাশিয়ার এক মহিলা চিনামাটির পাত্র মোনালিসা ছবিটির উপর ছুড়ে মারেন। কিন্তু বুলেট প্রূফ কাঁচ দ্বারা মোনালিসা কে সুরক্ষিত করে রাখায় ছবিটির সেরকম কীছুই ক্ষতি হয় না।
Leonardo-da-Vinchi শুধু একজন বিখ্যাত চিত্রকার ছিলেন না। তিনি একজন বিশিষ্ট লেখকও ছিলেন। কিন্তু আমাদের মনে তখনি প্রশ্ন উঁকি ঝুঁকি মারে। তার বিশ্ব খ্যাত পেন্টিং মোনালিসা কে নিয়ে কোন রকম কোন কীছুই তার লেখনিতে দেখতে পাওয়া যায় না। তাই মানুষের মনে মোনালিসা কে নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিলেও Vinchi-র, লেখা কোন তথ্য খুঁজে পায় না।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মোনালিসা ছবিটির স্থান বদল করা হয়। যাতে জার্মানদের হাতে মোনালিসা ছবিটি চলে না যায়। তাহলে এই সব ঘটনা শুনেই আপনারা অনুমান করতে পারেন মোনালিসা ছবিটির ঐতিহাসিক মূল্য কতটা।
Leonardo-da-Vinchi-র, আর একজন ছাত্র ১৫১৪ থেকে ১৫১৬ সালের মধ্যে একটি নগ্ন মহিলার ছবি আঁকেন। কারও কারও মতে এই ছবিটাও Leonardo-da-Vinchi-ই, এঁকেছিলেন। এই ছবিটাকে মোনাভামা বলা হয়ে থাকে। এই ছবি এবং মোনালিসা ছবিটার মধ্যে একটা জিনিস একই রকম দেখতে পাওয়া যায়। দটি ছবিতেই হাতের পজিশন একই রকম চোখে পড়ে। ছবিটি বর্তমানে ফ্রান্সের Carnavalet Museum এ রাখা আছে।

Leonardo-da-Vinchi মোনালিসা ছবিটি আকার জন্য ৩০ এর থেকে বেশি লেয়ার ব্যাবহার করেছিলেন। এর মধ্যে কীছু কীছু রঙের লেয়ার মানুষের মাথার চুলের থেকেও সুক্ষ ছিল।
গ্রিনীচ ওয়াল্ড রেকর্ড অনুযায়ী Monalisa ছবিটি পৃথিবীর একটি অন্যতম পেন্টিং। বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে আজ পর্যন্ত যত পেন্টিং আছে তার তুলনায় ঐতিহাসিক মূল্য সবথেকে বেশি।
১৯৬২ সালে মোনালিসা ছবিটির দাম ছিল ১০০ মিলিয়ন ড্রলারেরও বেশি। আজ ২০২০ সালে মোনালিসা ছবিটার দাম ৮০০ মিলিয়ন ড্রলারের কাছাকাছি।
কিন্তু ফ্রান্স ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সংরক্ষণ নিয়ম অনুযায়ী মোনালিসা ছবিটাকে কেনা কিংবা বেচা যাবেনা। মোনালিসা হল সর্বসাধারনের সম্পত্তি। যা সমগ্র মানুষের কাছে সম্পদ স্বরুপ।
১৫১৯ সালে Leonardo-da-Vinchi মারা যাওয়ার পর মোনালিসা ফ্রান্সের রাজাদের ব্যাক্তিগত মালিকানার অধিন হয়ে যায়। পরে ফ্রান্স রাজাদের রাজত্বের অবসান হওয়ার পর মোনালিসা কে প্যারিসের লুবর মিউজিয়ামে রেখে দেওয়া হয় সর্বসাধারনের দর্শনের জন্য।
ফ্রান্সের রাজা নেপোলিয়ানের মোনালিসা ছবিটা এতটাই প্রিয় ছিল, যে রাজা নেপোলিয়ান মোনালিসাকে তার শয়ন কক্ষের দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখেন।
১৫৩০ সাল ফ্রান্সের এক রাজা ঠিক করেন। মোনালিসা ছবিটাকে সে তার বাথরুমের ভিতর টাঙিয়ে রাখেন। ছবিটি বহুদিন বাথরুমে থাকার ফলে ছবিটির কাঠের ফলক ছত্রাক জমে গেছিল। আর এই জন্য মোনালিসা ছবিটার রঙ কীছুটা ফিকে হয়ে যায়।
মোনালিসা ছবিটাকে সাধারণভাবে কোনো জায়গায় আপনারা দেখে থাকলে তাকে অনেক বড় আকারের ছবি বলে মনে করবেন। কিন্তু আসলে ছবিটা ততটা বড় নয়। ছবিটি লম্বাই ৩০” এবং চওড়ায় ২১ ইঞ্চি মাত্র।
Leonardo-da-Vinchi ছবিটাকে কোন কাগজে আঁকেন নি। তিনি মোনালিসাকে কাঠের ফলকের উপর অয়েল পেন্টিং করেন। ছবিটি কাঠের ওপর আঁকায়, ছবিটার ওজন হয়ে যায় ০৮ কেজি। ছবিটা এতটা নিখুত ভাবে Vinchi এঁকেছিলেন যে ছবিটিতে কোন রকম সামান্যতম তুলির দাগ পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায় না।
লিওনার্দো-দা-ভিঞ্চী, তখনকার দিনে মোনালিসা ছবিটাকে আঁকাতে Strmato technic ব্যাবহার করেন। এই Strmato technic দ্বারা একটা রঙের সঙ্গে আর একটা রঙের মিশ্রণ এমনভাবে করা হয়। যে তাতে পেন্টিং এর উপর কোনা ব্রাশ/তুলির আঁচর,ছবির কোন আউট লাইন পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায় না।
ছবির মধ্যে ভিঞ্চী ব্লার টেকনিক এরও প্রয়োগ করেছেন। মোনালিসা ছবিটার পিছনের দৃশ্যপট আঁকার জন্য ভিঞ্চী এক টেকনিকের ব্যাবহার করেন। আর এই জন্য মোনালিসাকে ছবিতে আরও জীবন্ত বলে মনে হয়।
আরও পড়ুনঃ কোহিনূর হীরা।
মোনালিসা ছবিটার উপর Leonardo-da-Vinchi ১৬ বছর কাজ করেন। এই থেকে Vinchi -র, ধৈর্য এবং সুক্ষ মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। সাধারণ ভাবে মানুষ তার কাজের প্রতি উন্মাদ না হলে এতটা ধৈর্য শক্তি রাখতে পারেনা। Leonardo-da-Vinchi এর নজরে ১৬ বছর কাজ করার পরেও তার মনে হয়েছিল সে মোনালিসা ছবিটার কাজ পুরো করতে পারেনি।
মোনালিসা ছবিটাকে ভাল ভাবে অধ্যায়ণ করলে দেখা যায়। মোনালিসার ছবিতে মোনালিসার চোখের পাতা এবং ভ্রূ চোখে পড়ে না। আর তা নিয়ে আমাদের মনে অনেক প্রশ্ন জাগে। Leonardo-da-Vinchi এত সুন্দর ভাবে মোনালিসাকে পেন্টিং করেছেন। অথচ মোনালিসার চোখের পাতা এবং ভ্রূ আঁকতে কী করে ভুলে গেছেন।
মোনালিসার ভ্রূ না থাকার জন্য অনেকে মনে করেন মোনালিসা ছিল একজন পতিতা মহিলা। কারণ তখন কার দিনে গ্রীক সংস্কৃতিতে বৈশ্যাবৃত্তি করা মহিলারা তারা নিজেদের ভ্রূ রাখতেন না। এটা ছিল তখনকার দিনের এক পরম্পরা বলতে পারেন।
২০১৭ সালে ফ্রান্সের একজন বিশেষজ্ঞ পাস্কেল কোর্ট হাইরেজুলেশন ক্যামেরার দ্বারা মোনালিসা ছবিটাকে স্ক্যান করে এক নতুন তত্ব সামনে নিয়ে আসেন। আর তিনি বলেন যে ভিঞ্চী যখন মোনালিসাকে আঁকেন তখন মোনালিসার চোখের পাতা এবং ভ্রূ দুইই ছিল। Leonardo-da-Vinchi খুব সুক্ষ ভাবে হালকা করে মোনালিসার চোখের পাতা এবং ভ্রূ এঁকেছিলেন। কিন্তু কাল ক্রমে ছবিটা বার,বার পরিস্কার করা হতে থাকলে তা ধীরে, ধীরে মিটে যায়।
১৯৬৩ সালে ফ্রান্সের সরকার মোনালিসা ছবিটাকে দুই মাসের জন্য অ্যামেরিকা পাঠীয়ে দেয়। অ্যামেরিকার মিউজিয়ামের Histrey of Art প্রদর্শনিতে প্রদর্শন করার জন্য। প্রথম তিন সপ্তাহ ছবিটাকে U.S এর National Galrey of Art এবং পরে New York এর Metropolitan Museum of Art এ প্রদর্শন করা হয়। তখনকার দিনে মোনালিসার এক ঝলক দেখার জন্য দুই ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হত। আর মোনালিসাকে দেখার জন্য দর্শকদিকে শুধু মাত্র ২০ সেকেন্ড সময় দেওয়া হত।

Parormal Prucible নামের একটা ওয়েব সাইট এর মান্যতা এই যে মোনালিসার ছবিটার বাম পাশে আয়না ধরলে মোনালিসার এবং আয়নায় প্রতিফলিত হওয়া মোনালিসা ছবির মাঝখানে। মোণালিসার কাঁধের পাশে একটি এলিয়নের মুখের ছবি ভেসে ওঠে।
মোনালিসা ছবিটা বিশ্ববাসিকে আরও একবার অবাক করিয়ে দেয়। যখন মোনালিসা নিয়ে আরও একটি নতুন তত্ব সামনে আসে। Leonardo-da-Vinchi-র, আঁকা মোনালিসার ছবিটাকে বিশেষজ্ঞ টিম দ্বারা যখন খুব সুক্ষ ভাবে অধ্যায়ণ করা হচ্ছিল তখন। মোনালিসা ছবিটার পশ্চাতপট দৃশ্যে একটি ইতালিয়ান ভাষায় লেখা বাক্য সামনে দেখতে পাওয়া যায়। ইতালিয় ভাষায় যে কথাটি লেখা ছিল তা হল-La-Risposta-Si.যার মানে দাঁড়ায় উত্তর এখানে আছে।
২০০৩ সালে অ্যামেরিকার এক সাহিত্যকার The-Da-Vinichi-Code নামের একটি উপন্যাস লেখেন। আর এই উপন্যাসের ঘটনাকে ঘিরে একটা হলিউড সিনেমা তৈরি করা হয়। আর এই সিনেমা টিতে ভিঞ্চীর আঁকা ছবিটিতে গুপ্ত নং লুকানো আছে সেই ঘটনা নিয়ে একটি রোমাঞ্চকর রুপ দেওয়া হয়।
২০১০ সালে এক ইতালিয়ন ঐতিহাসিক ও পেশায় একজন শিল্পী Silvano Vinecti এক মতামত প্রকাশ করেন। তার মতে ভিঞ্চীর আঁকা মোনালিসা ছবিতে মোনালিসার বাম চোখের মনির ভিতর খুব ছোট অক্ষরে দুটো ইংরেজী বর্ণ লেখা আছে। বর্ণ দুটি হল L&V যার অর্থ হল Leonardo-da-Vinchi. এবং ডান চোখে লেখা আছে C&B, যার অর্থ কেউ বুঝে উঠতে পারেনি।
বন্ধুরা এই ছিল Monalisa নিয়ে কীছু রুচি পূর্ণ তথ্য। যা আজকে আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। মোনালিসার ভক্ত আমরা সবাই তার সাথে মহান চিত্রকার Leonardo-da-Vinchi-র, আজও এমন ভক্ত আছেন মোনালিসার। যারা নিয়মিত মোনালিসাকে উৎসর্গ করে প্রেমপত্র লিখতে থাকেন। মোনালিসাকে গোলাফ ফুল উপহার দেয়। কবিতার লাইনে মোনালিসা কে নিয়ে কবিতা লেখেন। অনেকে আবার স্বপ্ন দেখেন। যাই হোক আজকের এই নিবন্ধটা আপনাদের কেমন লাগল অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।
