বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এর রহস্য।
আজকে আবার আপনাদের সামনে নিয়ে এসছি রহস্যে মোড়া নতুন একটি গল্প । যে গল্পের ইতিহাস ৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো। আপনাদের সামনে তুলে ধরব Bermuda Triangle নিয়ে প্রচলিত কিছু অমিমাংশিত ঘটনাবলি। Bermuda Triangle রহস্য ও রোমাঞ্চ ঘিরে থাকা ঘটনাবলির সাথে আপনাদের আগে থেকে পরিচয় আছে। তবুও যে সমস্ত পাঠক নতুন, তাদের উদ্দেশ্য আরও একবার Bermuda Triangle এর ভয়ঙ্কর পৈশাচিক কাহিনীকে আরও একবার আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। আশাকরি আপনাদের ভাল লাগবে।
Bermuda Triangle /বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে এর নাম বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল কেন
Bermuda Triangle এর ইতিহাস ৫০০ বছরেরও বেশি পুরোনো। কিন্তু ভাববার বিষয় মানুষ পৃথিবীর গন্ডি অতিক্রম করে আজ চাঁদে পৌঁছে গেছে। তবুও আধুনিক বিজ্ঞান এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের রহস্যসের উন্মোচন আজও করে উঠতে পারেনি।
সুপার পাওয়ার আমেরিকার মতো বাহুবলি দেশ ও আজ হাত খাড়া করে দিয়েছে এই পৈশাচিক শক্তির কাছে। আধুনিক বিজ্ঞানের কোনো ভৃত্য আজও পর্যন্ত এই রহস্যের কোন কুলকিনারা করে উঠতে পারেনি। এমন কি রয়েছে ঐ বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে ? যেখানে বিজ্ঞান হয়ে যায় অসহায়।
Bermuda Triangle সীমানায় , সে জলপথে বা আকাশপথে হোক। ওই সীমানায় জলপথে জলজাহাজ। আর আকাশপথে উড়োজাহাজ। যেই ওই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের সীমানায় প্রবেশ করেছে , তার আর ফিরে আসা হয়নি। সে সেখানেই বিলীন হয়ে গেছে। সে আর কোনো দিন ফিরে আসেনি। কর্পূর কে যেমন জ্বালিয়ে দিলে তার কোনো কিছু আর অবশিষ্ট থাকেনা। সে বিলীন হয়ে যায়। সেরকম Bermuda Triangle যে একবার প্রবেশ করে সেও কর্পূরের মত উবে যায় ,তার কোনো ধ্বংসাবশেষ বা অন্য কিছু পাওয়া যায়না।
Bermuda Triangle সমুদ্রবক্ষে খুব বড় একটা জায়গা কভার করে রয়েছে। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলএর সীমানা আনুমানিক চার লক্ষ চল্লিশ হাজার মাইল। সত্যি কথা বলতে গেলে ভূগোলে পৃথিবীর মানচিত্রে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল বলে কোনো জায়গা নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করা হয়নি। তাই Bermuda Triangle কে যদি পৃথিবীর মানচিত্রে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন তাহলে বিফল হবেন। সেরকম বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল বলে কোনো জায়গা আপনারা খুঁজে পাবেন না।

Bermuda Triangle হিসাবে ফ্লোরিডা , বারমুডা এবং মায়ামির পুয়োর্তোরিকো বলে তিনটি দ্বীপ কে, কাল্পনিক রেখা দ্বারা একত্রিত করে জুড়ে দেখলে তা একটি ত্রিভুজের মত দেখতে লাগে। আর এই ত্রিভুজাকৃতি হওয়ায় এক তিনটি দ্বীপ কে কাল্পনিক রেখা দ্বারা জুড়ে এই জায়গার নাম দেওয়া হয়েছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল।
লোকে এই সামুদ্রিক ট্রায়াঙ্গেলে কে যমের দুয়ার , কেউ আবার শয়তানের ট্রায়াঙ্গেল বলে থাকে। কিন্তু এই যমের দুয়ারের রহস্য আজ রহস্য হয়েই রয়ে গেছে। কোনো আধুনিক বিজ্ঞান এই রহস্যের পর্দার রাজ খোলতে পারেননি। তাই Bermuda Triangle রহস্য আজও এক বিস্ময়।
Bermuda Triangle / বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এর ব্যাপারে মানুষ যেভাবে জানল
১৯৫০ সালে আসোসিয়েট নামের এক মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে Bermuda Triangle /বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল কে ঘিরে একটি প্রতিবেদন বার হয়। এরপর আমেরিকা বাসি বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের ব্যাপারে জানার জন্য উতলা হয়ে ওঠে। ১৯৬৪ সালে ভিনসেন্ট গেডলিজ তার লেখা দুটি ম্যাগজিন প্রকাশ করেন বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের রহস্য নিয়ে। এই ম্যাগজিন দুটি হল দ্য ডেডলি বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এবং ইনভিজিবিল হরিজন।
সর্বসাধারনের কাছে এখবর পৌঁছালে সমানে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল রহস্যের ব্যাপারে জানার জন্য জনতা ব্যাস্ততা দেখায়। এরপর থেকে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল কে ঘিরে বিভিন্ন হলিউড ফ্লিম নির্মাতা সিনেমা বানাতে শুরু করে।
Bermuda Triangle /বারমুডা ট্রায়াঙ্গালে ঘটে যাওয়া কিছু অবাক করা ঘটনা
১৯৪৫ সালের ৯ জুলাই ইউ.এস. নোভাল কমান্ডের একটি লড়াকু উড়ো জাহাজ যার কমান্ডিং অফিসার ছিলেন থমাস। তিনি এবং তার সাথে ঐ জাহাজের আরও ১০ জন ক্র মেম্বার ফ্লোরোডিয়ার নোভাল এয়ার বেস থেকে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে উড়ান ভরে। প্রায় ৪ ঘন্টা যাবৎ আকাশে জাহাজটি ওড়ার পর ATC র সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর এরপর থেকে বিমানটি নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।
পরেরদিন সকালবেলা ফ্লোরিডা নোভেল বেশ থেকে জাহাজটিকে খোঁজার জন্য একটি জাহাজ পাঠানো হয়। প্রায় ১০ দিন যাবৎ, জাহাজটিকে খুঁজে বের করার জন্য বারমুডার কাছাকাছি এলাকায় সার্চ অপারেশন চালানো হয়। কিন্তু হাতে নিরাশা ছাড়া আর কিছু লাগেনা। জাহাজটির কোনো ধ্বংসাবশেষ বা যাত্রীদের লাশ কিছুই পাওয়া যায় না । সার্চ অপারেশন কারী টিম নিরাশ হয়ে ফিরে আসে।
এই ঘটনার প্রায় ৫ মাস পরে ফ্লোরিডা ইউ.এস.নেভীর টর্পেডো আভেঞ্জের বোমারু বিমান এর ৫ টি জাহাজের একটি গ্রূপ। ট্রেনিংয়ের উদ্দেশ্যে ইউ.এস. নোভাল এয়ার বেস থেকে উড়ান ভরে। মোট ১৫ জন ক্র মেম্বারের একটি গ্রূপ প্রশিক্ষণ উড়ানের জন্য রওনা দেয়।
এই গ্রূপে সামিল হয়েছিল ইউ.এস. নেভীতে সামিল হওয়া নতুন সেনা অফিসারেরা। তারা সামিল হয়েছিল যুদ্ধ অভ্যাসের জন্য এবং তাদের সাথে ছিল ২৮ বছরের ট্রেনার কমান্ডার নেভি লেফটেন্যান্ট চার্লস ট্রেলর।
বিমানের ক্র মেম্বার দিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ফ্লোরিডা এয়ারবেস থেকে পূর্ব দিকে বার্হামাস এ গিয়ে বম্বিং করার জন্য। তারপর ৭৩ কিমি উত্তর দিকে গিয়ে ইউ ট্রান নিয়ে ফ্লোরিডা নোভাল এয়ার বেসে ফিরে আসা।
এই পুরো অপরেশনের জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল ৩/৪ ঘন্টা। সবকিছুই এ যাবৎ ঠিকঠাক চলছিল বিমানগুলি তারা তাদের মিশন সফল করে ফিরে আসছিল। হঠাৎ পথের মধ্যে বিমানের পাইলটরা এক অভাবনীয় অস্বস্তি অনুভব করতে থাকে।
টিমের প্রধান ট্রেনার কমান্ডার নেভি লেফটেন্যান্ট চার্লস ট্রেলর। বাকি বিমানের পাইলটদের কাছ থেকে তাদের কুশলতার খবর নিতে থাকে। কিন্তু ততক্ষনে বোমারু বিমানের পুরো টিম Bermuda Triangle সীমানায় প্রবেশ করে গেছিল। তাদের বিমানের কম্পাস বন্ধ হয়ে যায়। তারা দিশা হীন ভাবে আকাশে চক্কর কাটতে থাকে।
কমান্ডার প্রধান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে রেডিও সংযোগ জোড়ার চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু তা বিফল হতে থাকে। কমান্ডার বাকি পাইলট দের সবাইকে, মায়ামির এয়ারবেসে ফিরে যাওয়ার জন্য সন্দেশ দেয়। কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরি হয়েগেছিল।

তারা ফ্লোরিডা এয়ার বেস কন্ট্রোল রুমে যে শেষ বাত্রা দেয়। তাতে তারা বলেছিল আমরা আমাদের সামনে এক সবুজ রঙের উচ্ছাসিত জলের উঁচু ঢেউ দেখতে পাচ্ছি। যার এক এক ঢেউ এর তরঙ্গ আকাশ কে ছুঁয়ে যাচ্ছিল। আমাদের বিমানের কম্পাস কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা গোলকধাঁধার মধ্যে ফেঁসে গেছি। এখান থেকে বের হওয়া খুব মুশকিল। তোমরা আর কেউ আমাদের খোঁজ করতে এসোনা। নইলে তোমরাও হয়তো আমাদের মত এই ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হতে পারো।
এরপর কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে বিমানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মনে করা হয় বিমান গুলির কম্পাস খারাপ হয়ে যাওয়ায় দিক হারিয়ে ফেলে এবং পর্যাপ্ত ফিউলের অভাবে জ্বালানি শূন্য হয়ে ৫খানা বোমার বিমান সমুদ্রে ভেঙে পড়ে।
এই ঘটনা ঘটে যাওয়ার ৪ ঘন্টা পরে ফ্লোরিডা নোভাল এয়ার বেশ থেকে অনুসন্ধান করার জন্য একটি মেরিনা নামের টহি বিমান পাঠানো হয়। যে বিমানটি আকাশে এবং জলে দুই জায়গাতেই চলতে সক্ষম ছিল। এই বিমানটিতে ১২ জনের একটি টিমকে পাঠানো হয়। হারিয়ে যাওয়া বিমান গুলিকে খুঁজে বের করার জন্য।
কিন্তু দু:ভাগ্যের বিষয়। যে টহি বিমানটিকে হারিয়ে যাওয়া ৫ টি বোমারু বিমানের খোঁজ করার জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেই জাহাজটি বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের ঘেরা তোপে এসে নিখোঁজ হয়ে যায়। একই ভাবে পর পর প্রথমে একটি, তারপর পাঁচ খানা তারপর, আরও একখানা, মোট সাত খানা বিমান একই জায়গা থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। যার কোনও ধ্বংসাবশেষ বা যাত্রীদের লাশ, কোনো কিছুই পাওয়া যায়না।
একইভাবে পরপর বিমান নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা আমেরিকা সরকারকে ভাবিয়ে তোলে। এই খবর, কাগজে হেডিঙে বার হয়। পুরো আমেরিকা তথা বিশ্বের বিজ্ঞনী মহলে, Bermuda Triangle চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
Bermuda Triangle /বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এর রহস্যের সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞ দলের অনুসন্ধান
এরপর থেকেই বিশেষজ্ঞরা বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের অতীত ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করে দেয়। আমেরিকা সহ আরো অন্যান্য দেশ বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্য উন্মোচনের কাজে লেগে যায়।
গবেষণায় দেখাযায় বোমারু এভেঞ্জার বিমানের লাস্ট লোকেসন হিসাবে ফ্লোরিডার একেবারে পূর্ব দিকে ব্রাহামাস এর আকাশে উড়তে দেখা গেছিল। এরপর জাহাজটির সাথে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে জাহাজটি নিখোজ হয়ে যায়।
পরে এই বোমারু এভেঞ্জার জাহাজগুলোকে খোঁজার জন্য যে টহি বিমান পাঠানো হয়েছিল সেই জাহাজের ক্যাপ্টেন, এয়ার ট্রাফিক রুমে সন্দেশ দিয়েছিল। তাতে ক্যাপ্টেন বলেছিল আমরা সামনের দিকে অপারেশনের জন্য এগিয়ে যাচ্ছি। আবহাওয়া এবং আকাশ পরিষ্কার। এরপর জাহাজটির সাথে কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছিল।
অনুসন্ধানে জানা যায়। যখন জাহাজ গুলো Bermuda Triangle ভয়ঙ্কর দুঃঘটনার স্বীকার হচ্ছিলো। তখন অনতি দূরে একটি জাহাজ এই ঘটনাকে প্রতক্ষ দেখেছিল। সেই জাহাজের ক্যাপ্টেনের দেওয়া তথ্যনুযায়ী জাহাজগুলো যখন অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছিল। তখন আকাশে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়। এই আওয়াজ শুনে ক্যাপ্টেন জাহাজের চেম্বার থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
ক্যাপ্টেন আকাশে ঘন মেঘের সাথে প্রখর আলোক রশ্মি দেখতে পায়। এই ঘটনা দেখে ক্যাপ্টেন মনে করেন কোনো বিমান হয়তো খারাপ জলবায়ুর স্বীকার হয়েছে। এর ফলে জাহাজে অগ্নি সংযোগ হয়ে সমুদ্রে ভেঙে পড়ছে।
এরপর ক্যাপ্টেনের কথামত অন্য একটি সার্চ দল ওই ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য ঘটনা স্থলে যায়। তারা বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এর আসে পাশের এরিয়া সার্চ করে দেখেন। কিন্তু দুঃঘটনা গ্রস্থ জাহাজের ধ্বংসস্তূপ এবং ওই জাহাজে থাকা কোনো ব্যাক্তির লাশ বা অন্য কোনো আসবাবপত্রের অবশিষ্ট কিছুই খুঁজে পায়না।
তদন্তকারী দলের কাছে তখন বসে,বসে মাথার চুল ছেঁড়া ছাড়া, আর অন্য কোনো রাস্তা থাকেনা। তারা এই বুঝে উঠতে পারছিলেন না জাহাজটা আসলে গেল কোথায়। জাহাজটিকে সমুদ্র গ্রাস করল না আকাশে ফুঁড়ে উপরে চলে গেল কিছুই ঠিক করে উঠতে পারছিলেন না তারা।
এই ঘটোনার পুরো বিবরণ সহ রিপোর্ট ইউ.এস. নেভির টিম আমেরিকা সরকারের হাতে তুলে দেয়। এই রিপোর্টে ছিল অবাক করার মত। তারা তাদের দেওয়া রিপোর্টে লেখেন আমেরিকার ৫খানা এভেঞ্জার বোমারু বিমান এবং তাদের অনুসন্ধানের জন্য যে বিমান খানা পাঠানো হয়েছিল। উভয় জাহাজ দুটো খারাপ জলবায়ুর সম্মুখীন হয়।
এর বেশি তথ্য প্রমান তাদের বিবরণে পাওয়া যায়না। এটাই ছিল ইউ.এস.নেভি এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের দেওয়া অন্তিম রিপোর্টের খসড়া। তাদের মধ্যে কেউই জাহাজ ডোবার আসল কারণ সম্পর্কে অবগত হতে পারেনি। বিশেষজ্ঞ টিম, জাহাজ ডোবার আসল কারন হিসাবে কোনো নিশ্চিত সিধান্তে পোঁছাতে পারেনি।
এরপরেই ইউ.এস. নেভি এবং আমেরিকা সরকার দ্বারা Bermuda Triangle ঘটে যাওয়া দুঃঘটনার স্পেশাল রিপোর্ট মিডিয়ার সামনে নিয়ে আসে। এরপর খবর হয়ে এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের আতঙ্ক পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল কে নিয়ে এক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। সবাই ধরে নেয় যে বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এ যাওয়া মানে নিশ্চিত মৃত্যুকে নিমন্ত্রণ দেওয়া। যেখান থেকে ফিরে আসার বিকল্প আর কোনো রাস্তা নেয়।
Bermuda Triangle /বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এ নিরন্তর ঘটে চলা আরো কিছু ঘটনা যা বারমুডা কে আরো রহস্যজনক বানিয়ে দেয়
এরপর আরো অনেক এরকম দুঃঘটনা ঘটে। সেই সব ঘটনার তদন্ত করা হয়। তদন্ত করে অতীত ইতিহাস ঘেটে দেখলে নতুন তথ্য সামনে আসে। ইতিহাসের বিবরণে সামনে আসে আজ থেকে ৫০০ বছর আগে থেকে বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এক রহস্যময় জায়গা হয়ে আছে।
আর এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এ কোনো জল জাহাজ কিংবা সে উড়ো জাহাজই হোক না কেন। যেই Bermuda Triangle এর সীমানায় প্ৰবেশ করছে। সেই জাহাজই রহস্য জনক ভাবে ওই জায়গা থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছে। আর জাহাজ নিখোঁজ হওয়ার পর সেই জাহাজের অবশিষ্ট অংশ বা কোনো প্রমান পাওয়া যায়নি।
মনেকরা হয় বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এ প্রতি বছর গড়ে ছোট এবং বড় জল জাহাজ এবং উড়ো জাহাজ মিলিয়ে চার খানা করে জাহাজ নিখোঁজ হয়ে যায়। আর এই নিখোঁজ হয়ে যাওয়া জাহাজের কোনো হদিস কোনো দিন পাওয়া যায়না।
আজথেকে ২৩ বছর আগে ১৯৯৭ সালে জার্মান এয়ার ফোর্সের ৩৩ জনের একটি টিম বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এ এসে প্রবেশ করলে বিমানটি ওই খান থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। আর আজ পর্যন্ত ওই জার্মান এয়ার ফোর্সের বিমানটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। যা আজও এক রহস্য হয়েই রয়ে গেছে।
আজথেকে প্রায় ১৪৭ বছর আগে নিউইয়র্ক থেকে জেনেভা গামী একটি জাহাজ The Mery siest নামের একটি জাহাজ আটলান্টিক সাগর হয়ে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে এসে পৌঁছায়। জাহাজটি এখান থেকেই অন্য জাহাজের মত নিখোঁজ হয়ে যায়।
এই ঘটনার এক মাস পরে মার্কিন কোস্ট গার্ড জাহাজটিকে সমুদ্রে ভাসতে দেখে। জাহাজটিকে দেখে বিশেষজ্ঞ দের টিম ঘটনা স্থলে পোঁছায়। জাহাজটিকে পরীক্ষা করে দেখে , জাহাজে থাকা প্রতিটি জিনিস নিজের নিজের জায়গায় অক্ষত ছিল। ছিলনা শুধু ওই জাহাজের কোনো যাত্রী। এই ঘটনা রীতিমত সবাই কে আবার অবাক করে দেয়।

১৯১৮ সালের ৪ ই মার্চ আমেরিকার একটি পণ্যবাহী ইউ.এস.সাই ক্লপস নামের একটি জাহাজ। ৩০৬ জন যাত্রী এবং নাবিক সহ প্রচুর পরিমানে ম্যাঙ্গানিজ লোড করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে আমেরিকায় ফিরছিল। আমেরিকা ফেরার পথে জাহাজটি Bermuda Triangle /বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এ প্রবেশ করলে জাহাজটি কয়েক মিনিটের মধ্যে সমুদ্র বক্ষে ডুবে যায়।
১৯৪৭সালে মার্কিন সেনার একটি C -৪৫ বিমান যখন Bermuda Triangle এর উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। তখন পর্যন্ত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে জাহাজটির রেডিও তে যোগাযোগ ছিল। কিন্তু বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এ প্রবেশ করতেই জাহাজটির সাথে রেডিও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর জাহাজটি নিখোঁজ হয়ে যায়।
১৯৫০ সালে আমেরিকার স্যান্ড্রা নামের একটি জাহাজ বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় একই ভাবে। যার কোনো খোঁজ খবর আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
১৯৫২ সালে ব্রিটিশ এয়ার লাইনের একটি বিমান ৩৫ জন যাত্রীকে নিয়ে বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। প্রায় একমাস যাবৎ জাহাজটিকে আটলান্টিক মহাসাগরে খোঁজা হয়। কিন্তু নিস্ফলতা ছাড়া আর কিছুই হাত লাগে না।
১৯৭২ সালে জার্মানির একটি পণ্যবাহি জাহাজ প্রায় ২০,০০০ টনের কাছাকাছি ভারী মালপত্র নিয়ে আটলাটন্টিকের বুকে ভেসে চলছিল। কিন্তু হঠাৎ জাহাজটি বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এ প্রবেশ করে। এবং দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে জাহাজটি ডুবে যায়।
ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখলে দেখতে পাওয়া যায় ক্রিস্টেফার কলম্বাস যখন তার জাহাজ নিয়ে আমেরিকা কে আবিষ্কার করতে সমুদ্র বক্ষে পারি জমাচ্ছিলেন। তখন তার জাহাজ এই Bermuda Triangle দুঃঘটনার স্বীকার হয়।
তিনি তার ডায়েরি তে লিখেছেন। সন্ধে নামার আগে তারা সমুদ্রে জাহাজ ভাসিয়ে আগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। শান্ত সমুদ্র পরিষ্কার আকাশ। সূর্য সমুদ্র বক্ষে ডুবতে বসেছিল। এমন রোমান্টিক আবহাওয়ায় মৃদুমন্দ বাতাসে কলম্বাস তার অন্য সাথীদের সাথে মদিরা পান করে আনন্দ উপভোগ করছিলেন।

তার জাহাজের নাবিক রড্রিগো ডি ট্রায়ানা হাতে করে দূরবীন লাগিয়ে সমুদ্র বক্ষে নিয়মিত নজর জমিয়ে রেখেছিলেন। হঠাৎ তিনি আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে একটা আলোকে কাঁপতে দেখলেন। ভালো করে দেখলেন আলোটাকে, না এটা কোনো গ্রহ বা তারার আলো নয়। আলোটা ক্রমশ পিছিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। তাই হাঁক দিলেন তার সহগামী আর এক নাবিক পেরো গুইতেজরোকে। তিন একই ভাবে আলোটিকে ক্রমশ পিছিয়ে যেতে দেখলেন। পেরো গুইতেজরোকে বললেন না ক্যাপ্টেন এটা কোন জাহাজের আলো নয়। জাহাজের আলো হলে আলোটা ক্রমশঃ সমুদ্রের জলে নাচতে থাকত। কিন্তু আলো টাকে নাচতে দেখছিনা নাতো। আলো টা তো সমুদ্র পৃষ্ঠে একই জায়গায় স্থির হয়ে আছে। সমুদ্রের গায়ে ঘেঁষা ঘেষি করে পিছিয়ে চলেছে যেন।
রড্রিগো কম্পাস টা বার করে, দিক দেখার চেষ্টা করতে লাগল। না মনে হচ্ছে, কম্পাস টা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। আরো একটি কম্পাস বার করে দেখল। না কম্পাসের কাঁটা ক্রমশ কেঁপে চলেছে। গতিক ভালোনা দেখে, কলম্বাস ডেক থেকে বাইরে বেরিয়ে এলেন।
বাইরে বেরিয়ে এসে দেখে সামনে ধোঁয়াশা ঘন উচ্চাসিত জলরাশি। সাপের ফেনার মত নাচতে নাচতে উপরে উঠে যাচ্ছে। কলম্বাস আগেই শুনে ছিল সমুদ্রের নিচে এক পাহাড় আছে সেখানে যদি দিক ভুল করে ধাক্কা লাগে তাহলে নিশ্চিত মৃত্যু। এদিকে কম্পাস কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে।
বিশ্ব বিখ্যাত নাবিক কলম্বাস তার লেখা ডায়েরি তে ১১ ই অক্টবর ১৪৯২ সালে এই ঘটনার উল্লেখ করেছে। তিনি লেখেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ আবিষ্কার করার একদিন আগে তার এই জাহাজ বারমুডা নামক দ্বীপের কাছে এক জায়াগায় এরকম ভয়ানক ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিল। যাকে আজ আমরা Bermuda Triangle নামে চিনি।
এরপর বিভিন্ন গবেষক দল বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এর রহস্য উৎঘাটন করার অনেকবার চেষ্টা চালিয়েছেন। ২০০১ সালে Tall Wise Wing এবং তার এক সাথী A.K Polin বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এর রহস্য কে জানার চেষ্টা করেন। তাদের মতে আটলান্টিক সাগরের নিচে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে এর কাছে আজ থেকে অনেক বছর আগে,অ্যাটলান্টিস নামের একটি শহর জলসমাধি হয়ে যায়।
আর এই অ্যাটলান্টিস শহর প্রযুক্তির দিক দিয়ে এখনকার থেকে অনেক এগিয়েছিল। তারা তাদের শহর কে রক্ষা করার জন্য এমন এক ধরণের রশ্মি আবিষ্কার করেছিল যে। সেই রশ্মি যেকোনো বস্তু কে নিজের দিকে আকর্ষিত করে নিমেষে ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখতো।
আর এই অ্যাটলান্টিস শহর জলের তলায় তলিয়ে গেলেও আজও সেই রশ্মি সেই সমুদ্রে দাফন হয়ে আছে। তাই সময়, সময় এই রশ্মির প্রকাশ সমুদ্রের ভিতর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে থাকে। আর ওই রশ্মির সংস্পর্শে যে জাহাজ আসে। সেই জাহাজ ধ্বংস হয়ে যায়।
কিন্তু এই অ্যাটলান্টিস শহরের উলেখ বিশেষ কোনো জায়গায় পাওয়া যায়না। শুধু মাত্র বিখ্যাত দার্শনিক পুল্টো ও তার লেখা বইয়ের একটি পাতায় এই কাল্পনিক শহরের উল্লেখ করেছেন।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নিয়ে আরও একটি তত্ব শোনা যায়। যেখানে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল আছে, সেখানে পৃথিবীর গুরুত্ব আকর্ষণ শক্তি অনেক বেশি। তাই সেখানে চুম্বকীয় তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। আর এই চুম্বকীয় তরঙ্গের জন্য অতি সহজেই বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এর উপর দিয়ে যাওয়া যেকোনো বস্তুকেই আকর্ষণ করে এবং নিজের দিকে টেনে নেয়।
আবার অনেকের ধারনা বারমুডা ট্রায়াঙ্গালে সমুদ্রের নিচে অনেক বেশি পরিমানে মিথেন গ্যাস আছে। যা নিরন্তর ওই জায়গা থেকে বের হতে থাকে। আর ওই গ্যাস সমুদ্রে উপরে উঠে এসে বাতাসে মিশে যায় এবং অক্সিজেন এর সংস্পর্শে এসে জ্বলতে থাকে।
এরপর ওই জায়গা বায়ুশূন্য হয়ে গেলে আসে পাশের বাতাস ওই খালি জায়গা পূরণ করার জন্য ছুটে আসে। এরফলে সেখানে প্রবল তীব্র ঘূর্ণি ঝড়ের সৃষ্টি হয়। এই ঝড় এতটাই তীব্র হয় যে। সেখান দিয়ে যাওয়া বিমান বা জলজাহাজ যায় হোক না কেন, নিমেষে নিজের দিকে টেনে নেয়। আর ওই জাহাজ কে সমুদ্র জলে ডুবিয়ে দেয়।
আবার কোন কোনো বৈজ্ঞানিক মনে করেন। Bermuda Triangle ইলেক্ট্রণ ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয়। আরো ওই ঘন কুয়াশায় প্রবেশ করলে যেকোনো যানের ইঞ্জিন এবং ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রাদি খারাপ হয়ে যায়। আর এই যান্ত্রিক গোলযোগের কারণেই হামেশাই দুঃঘটনা ঘটতে থাকে।
১৯১৭-১৯১৮ সালের কাছাকাছি সময় এক নতুন তত্ব সামনে আসে। বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল বলে, ভয়ানক কিছু সেখানে নেই। এসব আমেরিকার সুপরিকল্পিত মনগড়া গল্প। কারন হিসাবে বলা হয় ওই এলাকায় আমেরিকা এবং তার সেনা বাহিনী গোপন সেনা অভ্যাস এবং নিউক্লিয়ার হাতিয়ারের টেস্টিং করে থাকেন।
আর এই জন্য আমেরিকা চায়না ওই এলাকায় অন্য কেউ আসুক। তাছাড়া বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল আটলান্টিক মহাসাগরের এক অতি ব্যস্ততম বাণিজ্যিক রুট।কেউ কেউ মনে করেন আটলান্টিক মহাসাগরের তলে আমেরিকার গুপ্ত See bese testing lab রয়েছে।
কিন্তু নাসা তার স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে এর কত গুলি ছবি তোলেন। সেই ছবিতে ধরা পরে। যেখানে Bermuda Triangle আছে সেখানে আকাশে হেক্সাকুলান নামের এক অতিঘন মেঘের সৃষ্টি হয়। আর এই মেঘ থেকেই ভয়ানক ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয়।

আর এই ঘুর্নবাত এতটাই প্রবল যে তার গতিবেগ ২৭৩ কিমি পার সেকেন্ড। এই গতিবেগ যে কোনো জাহাজ কে ডোবানোর জন্য যথেষ্ট।
কিন্তু নাসার এই দাবি অনেকে বিশ্বাস করেন না। তারা এর বিপক্ষে প্রশ্ন তোলেন। সমস্ত জাহাজের কম্পাস কেন বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এ এসে বন্ধ হয়ে যায়।
এর উত্তরে এক বিশেষজ্ঞ দলের মতামত।পৃথিবীর ভূমি তলে লোহা আছে। আর পৃথিবী তার নিজে কক্ষ পথে নিয়মিত ঘুরে চলেছে। এই ঘূর্ণনের ফলে পৃথিবী তার কক্ষ পথের চারিদিকে একপ্রকার চুম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে। আর এই চুম্বকীয় ক্ষেত্রকে আমরা নর্থ পোল এবং সাউথ পোল বলে জানি।
চুম্বকের ধর্ম হল সম মেরুকে বিকর্ষণ এবং বিপরীত মেরুকে আকর্ষণ করা। সাধারণ ভাবে যেমন কম্পাস নর্থ পোল এবং সাউথ পোলের দিশাকে অনুসরণ করে, আমাদিকে দিক দেখায়। কিন্তু কম্পাসে থাকা চুম্বকীয় শলাকায় খুব পাতলা চুম্বক থাকে। কম্পাস তার চুম্বকীয় ধর্ম অনুযায়ী উত্তর এবং দক্ষিণ দিশা কে অনুসরণ করে।
কিন্তু বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এ এসেই কম্পাস বন্ধ হয়ে যায়। এর কারণ হিসাবে বলা হয়েছে -বারমুডা ট্রায়াঙ্গালে সমুদ্রের গভীরে প্রচুর পরিমানে ভৌতিক চুম্বক আছে। এই শক্তিশালী চুম্বক,কম্পাসে থাকা চুম্বকের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। সেই জন্য বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এ এসে কম্পাস খারাপ হয়ে যায়। এই শক্তি শালী চুম্বকের সামনে কম্পাসের মধ্যে থাকা চুম্বক তার দিক নির্ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এর কথা রামায়নে উল্লেখ আছে বলে অনেক মনে করেন। তাদের মতে লঙ্কার রাজা রাবন ভগবান শিবের আরধনা করে, এক দিব্য মণি আশীর্বাদ/ বরদান হিসাবে ভগবান শিবের কাছ থেকে পেয়েছিলেন।
এই মণির শক্তি দ্বারা রাবন যার সঙ্গে যুদ্ধ লড়তেন। তার অর্ধেক শক্তি নিয়ে নাভিকুন্ডে জমা করে রেখে দিতেন। এই মনির দৌলতে তিনি দেবতা দিকেও হারিয়ে ছিলেন ।
এরপর দেবতাদের পার্থনায় ভগবান শিব ঋষির ছদ্মবেশে রাবনের স্ত্রীর কাছ থেকে ভিক্ষা হিসাবে মণি নিয়ে নেয়। এরপর এই মনি কে ঠিকঠাক কোন গোপন জায়গায় লুকানোর দায়িত্ব দেয় হনুমানকে। হনুমান তখন শিব এর দেওয়া মনিকে সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে দেন বলে মনেকরা হয় । যেখানে এই মনি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। সেই জায়গা হল বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল। এই জন্যই মণির , সেই তেজ আজও সব জিনিস কে আকর্ষণ করে এবং নিজের দিকে টেনে নেয়।
Bermuda tryangale কে নিয়ে আর একটি বেদে পাওয়া থিওরী কাজ করে। সবথেকে প্রাচীন বেদ ঋকবেদে উল্লেখ আছে যে। পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। আর মঙ্গল কে তার মা পৃথিবী থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়।
এরফলে পৃথিবী চরম আঘাত পেয়ে ,পৃথিবীর বক্ষে এক গভীর ক্ষত স্থানের সৃষ্টি হয়।এরপর ধীরে ধীরে পৃথিবী তার সংজ্ঞা হারাতে থাকে।এই জন্য পৃথিবী নিজের কক্ষপথ থেকে ২৩.৫ ডিগ্রি দক্ষিণে ঝুকে যায়।
তখন দেববৈদ্য অশ্বিনী ওই ক্ষত স্থান। ত্রিকোণাকার একটা লোহা দিয়ে পূরণ করে দেয়। এই লোহার ত্রিকোণ আজ বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল। যা বর্তমানে কালের নিরিখে মহাশক্তি শালী ভৌতিক চুম্বকে পরিণত হয়েছে।
পরিশিষ্ট
যাইহোক বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নিয়ে গবেষণা চলছে। এখন বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এ এর বিভিন্ন জায়গায় আধুনিক রাড্যার সিস্টেম বসানো হয়েছে। যা বর্তমানে নাবিকের কম্পাস বন্ধ হয়ে গেলেও জিপিএস এর মাধ্যমে জাহাজ কে পরিচালিত করে। তাই আর খুব বড় একটা দুঘটনার স্বীকার হতে দেখা যায় না।
তবুও বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এর ব্যাপারে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ পেলে চেষ্টা করব আপনাদিকে জানাতে। Bermuda Tringale এর ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন।
